আই ডি এল সি ফাইন্যাস সরকারি নির্দেশ অমান্য করে আদায়ের করে কিস্তি ,মাঠ কর্মীদের দেখে ব্যবসায়ীরা পালায়! (২য় পর্ব)

Friday, July 24th, 2020

বরিশালে দোকানে দোকানে কিস্তি আদায়ের করে  মাঠ কর্মী                                                                ছবি- বিজয় নিউজ
বিজয় নিউজ:: করোনা সংকটে সরকারের নির্দেশে বন্ধ থাকা ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি আদায় শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে বরিশালে আই ডি এল সি ফাইন্যাসের বিরুদ্ধে। আরো অভিযোগ, কর্মী পাঠিয়ে ও ফোনের মাধ্যমে কিস্তি দেওয়ার জন্য ঋণগ্রহীতাদের তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। ঘন্টা পর ঘন্টা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বসে কিস্তির জন্য অপেক্ষা করে কিস্তি আদায়ে করে থাকে। কোন ব্যবসায়ীরা বরিশালে আই ডি এল সি ফাইন্যাসর কর্মী দেখতে পায় তখন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ফেলা পালিয়ে থাকে। কিন্তু পরিস্থিতি এখনো স্বভাবিক না হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন বরিশালের ঋণগ্রহীতারা।

জানা যায়, বরিশালে আই ডি এল সি ফাইন্যাস এর মাধ্যমে ব্যবসা করার জন্য বরিশাল নগরীর বাংলাবাজার,নতুনবাজার, রুপাতলী, চকবাজার,গিজ্জামহাল্লা,বান্দরোড সহ বরিশাল জেলায় বিভিন্ন বাজারের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান প্রতিদিনের আয় থেকে কিছুটা বাঁচিয়ে মাসে কিস্তি পরিশোধ করেন।

করোনা সংকট শুরু হলে অঘোষিত লকডাউনে বন্ধ হয়ে যায় স্বাভাবিক জীবন ও জীবিকা। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত মার্চ মাসের শেষের দিকে বরিশালে আই ডি এল সি ফাইন্যাসর ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি আদায় বন্ধের নির্দেশ দেয়। নির্দেশে বলা হয়, কেউ নিজ ইচ্ছায় কিস্তি দিলে আদায় করা হবে। চাপ দেওয়া যাবে না। কিস্তি না দিলে কেউ খেলাপি হবে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ঋণ সমন্বয় করা হবে।

বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহীতা অভিযোগ করেন, বরিশালে আই ডি এল সি ফাইন্যাসর মাঠ কর্মীরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এসে তাদের কিস্তি দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। অফিস থেকেও বড় বড় কর্মকর্তা ফোন করছেন। ব্যবসায়ীরা জানান, সরকারি-বেসরকারি ত্রাণের ওপর বেঁচে ছিলাম।বর্তমানে ঈদ উপলক্ষে বেচা কিনা করবো এসময় কিস্তির জন্য দোকানে মাঠ কর্মীরা দাড়িয়ে থাকে। এ অবস্থায় তাঁদের কোনোভাবেই কিস্তি দেওয়া সম্ভব নয়। তাঁরা উল্টো প্রশ্ন করেন, পরিস্থিতি কি স্বাভাবিক হয়েছে যে কিস্তির জন্য তাগাদা দেওয়া হচ্ছে? কিস্তির তাগাদার ভয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছেড়ে পালাতে হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বরিশালে আই ডি এল সি ফাইন্যাসরকর্মীরা বলেন, ‘আমরা বুঝতে পারছি কিস্তি পরিশোধ করার মতো অবস্থা এখনো তৈরি হয়নি। কিন্তু কিস্তি আদায় করতে না পারলে আমাদের বেতন আটকে থাকে। এমনকি চাকরিও চলে যায়। তাই কর্মকর্তাদের নির্দেশে আমরা মাঠে নামতে বাধ্য হই।’

এ বিষয় বরিশাল আই ডি এল সি ফাইন্যাসর ম্যানেজার শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘কিস্তি আদায়ে কোনো চাপ দেওয়া হয় না। কেউ ইচ্ছা করে দিলে নেওয়া যাবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে তাই কিস্তি আদায় শুরু হয়েছে। তিনি আরো বলেন- কেউ মাসিক কিস্তি যদি না দিতে পারে তাহলে ব্যবসায়ীরা সাপ্তাহিক কিস্তি দিতে পারবে। সাংবাদিকের প্রশ্নে তিনি বলেন- ব্যবসায়ীদের কে চাপ দেয়া ব্যাপারে,মাঠ কর্মী কিস্তি আদায় না করলে বেতন আটকে থাকবে এমন প্রশ্ন উওরে সু-উওর দেয়নি।এবং তিনি আরো বলেন-বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বলা হয়নি কিস্তি নেয়া যাবে না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেক ব্যসায়ীরা বলেন-মহামারির মধ্যে কিস্তির টাকা আদায়ে আই ডি এল সি ফাইন্যাসের কর্মীদের বেপরোয়া আচরণে তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি করছে। এবং তারা বরিশালে শত শত ব্যবসায়ীরা সামনে ঈদে কর্মচারীবাবা-মা এবং সন্তনদের নিয়ে ঈদ করতে পারবে না বলে যানায় ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের দাবী সরকার আই ডি এল সি ফাইন্যাসের কর্মকতাদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নিবে বলে তাদের দাবী।

(৩য় পর্ব দেখুন সোমবার)