
আপডেট: মে ২৪, ২০২১
হিজলা প্রতিনিধি:: শাকিল এবং হালিমা খাতুন সুমাইয়া দম্পতি। ৭ মাস আগে বিয়ে, এক সাথে বসবাস। এবার ইদে শ্বশুরালয়ে বেড়াতে এসে বিপাকে ,শাকিল। নিজের অজান্তে স্ত্রীর গর্ভপাত ঘটালেন শাশুরি। হতাশ শাকিল। হিজলা থানায় অভিযোগ। পাত্তা পান নি শাকিল। অবশেষে মুন্সিগঞ্জের আদালতে মামলা।
ভুক্তভোগি শাকিল জানান, হিজলা উপজেলার সরসিংহপুর গ্রামের সবুজ সরদারের কন্য হালিমা খাতুন সুমাইয়াকে বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের পর থেকেই তার শ্বাশুরি বিয়েকে মেনে নিতে পারছিলেন না। একপর্যায় শাকিল -সুমাইয়া মুন্সিগঞ্জ সদরে একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন। শ্বাশুরি আচরণে স্ত্রীকে শ্বশুরালয়ে দিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন শাকিল। একপর্যায় বাড়ির মালিকের সমর্থনে স্ত্রীকে শ্বশুরালয়ে পাঠান শাকিল । এর পরেই বিপত্তি।
শাকিল জানান, ২০ মে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হিজলা হাসপাতালের এক নার্সেও সহায়তায় তার স্ত্রীর গর্ভপাত ঘটান শ্বশুরি। একই দিন হিজলা থানা অফিসার ইনচার্জ অসিমকুমার শিকদার ঘটনা পরিদর্শনে পাঠান এস আই মনিরুল ইসলামকে। তবে থানার সহায়তা পাননি শাকিল ।
শ্বশুর সবুজ সরদার জানান, বিষয়টি নিয়ে ২১ মে শুক্রবার পারিবারিক ভাবে বসাবসি হয়েছে। তার কণ্যা সুমাইয়া স্বামীর সংসার করবেনা। দু পরিবারের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। গর্ভপাতের বিষয়টি মিথ্যা।
অপরদিকে বৈঠকের একটি সূত্র দাবি করছে, স্ত্রী সুমাইয়ার গর্ভপাতের বিষয়টি সত্য। তবে উভয় পক্ষের সংসার রক্ষর জন্য চেষ্টা চলছে।
মুন্সিগঞ্জের ভাড়াটিয়া বাড়ির মালিক দিপু জানান, মেয়ের মায়ের আচরণ সন্তোষজনক না। মেয়েটি গর্ভবর্তী, আমিই তাকে নিজে দায়িত্ব নিয়ে হিজলা পাঠাই। এখন যা দেখলাম, আর বলার নেই।
আঃ রাজ্জাক সরদার, অনু সরদার জানান, আমরা শুক্রবার মেয়েকে আনার জন্য গেলে তাদের আচরণ এবং গর্ভপাতের বিষয়টি উঠে আসে।
এস আই মনিরুল ইসলাম জানান, জাকিরের বিষয়টি পারিবারিক। গর্ভপাতের বিষয়টি শাকিল জানন এবং মেয়ের বাবা সবুজ সরদার কন্যার আল্ট্রা¯েœার কাগজ থানায় জমা দেয়ার কথা থাকলেও তা দেয়নি। কোন পক্ষই থানায় পরবর্তীতে যোগাযোগ করেননি।
ভুক্তভোগি শাকিলের দুঃখ-আমার অনাগত ভবিষ্যতের হত্যার দায় নেবে কে ?
হিজলার ছয়গাও’র আতংক শাহজাহান হাজী পর্ব-০২
সাইফুল ইসলাম ঃ
হালে হাজী, একসময়ের সর্বহারা, কখনও মিজি, কখনও মাঝি, আবার কখনওবা আকন, সময়বুঝে বহুরুপি শাহাজান হাজী। রাজনৈক পরিচয় তিনি বিএনপির চরের নেতা। ক্ষমতায় কোন অংশে কম নন শাহজাহান হাজী।
হিজলা উপজেলার হরিনাথপুর ইউনিয়নের ছয়গাও চর এখন ত্রাসের। ত্রাস বাহিনীর ক্ষমতার কাছে জিম্মি সাধারণ মানুষ। পেশি শক্তি, দলীয় প্রভাব, সর্বহারার ক্ষমতা সব মিলিয়ে এ যেন চরের মধ্যে আর এক জগত। এ ক্ষমতাকে পুজি করে তিনি এখন চরের স-ঘোষিত স¤্রাট।
উপজেলা ভুমি অফিস সূত্রে জানা যায়,চরের বেশির ভাগ জমি খাজনা অযোগ্য। সিকস্তিহেতু এখানে কোন জমিতে সরকারকে কর দিতে হয় না। কেউ এ চরে এক শকত জমির মালিক হয়ে একটু ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারলেই সব। এ যেন আর এক সর্গরাজ্য। রাতারাতি হয়েজান কয়েক শত একর জমির মালিক। এদেরই একজন শাহজাহান আকন ওরফে শাহজাহান হাজি।
শাহজাহন পরিবার সূত্রে জানা যায়, ৯০ দশকে শাহজাহান মিজির হরিনাথপুরের ছয়গাও চরে সর্বহারা দিয়ে গোড়া পত্তন। এর পর থেকে শাহজাহান আকনকে আর পেছন দিকে তাকাতে হয়নি। পরবর্তীকে বিএনপির হাত ধরে জনৈক বিএনপির এক নেতাকে বাবা ডেকে দলীয় নেতার খাতায় নাম লিখান ছয়গাও চরে। এমন তথ্য তার পরিবারের অপর সদস্য বারেক আকনের।
পিতা কালুকে সম্বল করে চরছয়গাও এলাকা পুরো নিয়ন্ত্রনে নেন শাহজাহান। এর পর বেপরোয় হয়ে উঠেন শাহজাহান। সাধারণ সানুষ দুরে থাক নিজ পরিবারকে পৈত্রিক জমি থেকে উচ্ছেদ করেন শাহজাহান হাজি।
হাজি শাহজাহান পরিবারের অপর সদস্য আলতাফ আকন জানান, ৪০ তেকে ৪৫ বছর যাবত পিতার জমি থেকে বিতারিত তিনি। আকন পরিবারের ছয়গাও চরের সম্পর্ন সম্পত্তি পেশি শক্তির জোওে শাহজাহান একক ভাবে ভোগ দখল করছেন। জমিতে গেলেই বিভিন্ন হামলামামলা দিয়ে হেনেস্তা কেরন শাহজাহান। তার অপকর্মকে থানা পুলিশ সহায়তা করছে।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সমাজপতি, ইউপি মেম্বার, বাজার কমিটি সর্বপরি আইনপ্রয়োগকারি সংস্থার কাছে বিচার দিয়ে সুবিচারের পরিবর্তে লাঞ্ছিত হতে হচ্ছে পরিবার দুটোকে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মেম্বার মোজাম্মেলহক বেপারী জানান, লোকগুলো সুবিধাজন না। তাদের পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, আমরা উভয় পক্ষকে নিবৃত থাকতে বলছি।
আইনপ্রয়োহকারি সংস্থা হিজলা থানার ওসি অসিম কুমার শিকদার জানান, এক পক্ষের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদান্তাধীন রয়েছে।