২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার

অভিরাম বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানি বিপদ সীমায় প্রবাহিত হয়ে ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার প্লাবিত

আপডেট: আগস্ট ১৬, ২০২১

ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ):: সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলায় টানা ২৪ ঘন্টা অভিরাম বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানি সুরমা ও উবদাখালী নদী দিয়ে বিপদ সীমায় প্রবাহিত হয়ে দুই উপজেলার নি¤œঞ্চল প্লাবিত হয়ে রোপা আমন ও বীজতলা ঢলের পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।
ধর্মপাশা উপজেলা সদর ইউনিয়ন, সেলবরষ, পাইকুরাটি ইউনিয়নে বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়ে রোপা আমন ও বীজতলা পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। নবগঠিত মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিন ও বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নে মেঘালয় ও মাটিয়ান পাহাড়ের ঢলের পানি বিপদ সীমায় প্রবাহিত হয়ে মহেষখলা, বাঙ্গালভিটা, গুলগাঁও, মাঝের চড়া, কাইতাকোনা ও কড়ই বাড়ী চড়াসহ পুরো এলাকার রোপা আমন ও বীজতলা প্লাবিত হয়েছে। বিপদ সীমায় প্রবাহিত হয়ে বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের কালাঘর হামিদপুরসহ পুরো ইউনিয়নের নিঞ্চল প্লাবিত হয়ে রোপা আমন ও বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
বংশীকুন্ডা উত্তর ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ বিল্লাল হুসাইন বলেন, অভিরাম বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলের পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে রামসার টাঙ্গুঁয়ার হাওড় পাড়ে ভারতের সীমান্ত ঘেষে রোপা আমন ও বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মহেষখলা বাজারে হাঁটু পানি হওয়ায় দোকান পাঠ বন্ধ রয়েছে।
বংশীকুন্ডা দক্ষিন ইউপি চেয়ারম্যান আজিম মাহমুদ বলেন, হঠাৎ বন্যার পানি বিপদ সীমায় প্রবাহিত হয়ে ওই ইউনিয়নের রোপা আমন ও বীজতলা পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।
পাইকুরাটি ইউপি চেয়ারম্যান ফেরদৌসুর রহমান, উপজেলা সদর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আহমেদ বলেন,অভিরাম বৃষ্টি ও ঢলের পানিতে রোপা আমন ও বীজতলা প্লাবিত হয়েছে। এতে কৃষকরা চরম বিপাকে পড়েছেন।
বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের বাঙ্গালভিটা গ্রামের ইউপি সদস্য ও কৃষক মোঃ রেনু মিয়া বলেন চড়াদামে ২২ জাতের ধান এনে বীজ তৈরী করা হয়। বন্যার পানিতে বীজতলা পানিতে নিমজ্জিত হয়ে নষ্ট হয়েছে। ধর্মপাশা সদর ইউপির নোয়াবন গ্রামের কৃষক মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি ৪ একর জমিতে ২২ জাতের ধান রোপন করেছিলেন, বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এখন যদি পানি না নামে তাহলে ধানের চাড়া নষ্টহয়ে যাবে। পরবর্তীতে বীজতলা ও ধানের চাড়া রোপনের সময় থাকবে না।
উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ নাজমুল ইসলাম তিনি বলেন, চলতি রোপা আমন মৌসুমে মধ্যনগরসহ ধর্মপাশা উপজেলায় ৪০০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষাবাদ করার কথা থাকলেও কৃষকদেরকে বলেছি যে, আপনারা একটু অপেক্ষা করুন শেষ সময় একটা পানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বিধায় কৃষকরা প্রায় ৩০০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষাবাদ করেছিল। এখনো যদি পানি নেমে যায় তাহলে কৃষকের তেমন একটা ক্ষতিহবে না।

195 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন