
আপডেট: আগস্ট ১১, ২০২২
বিজয় নিউজ :: আমন উৎপাদনের সংঙ্কায় হিজলার কৃষক পরিবার। লক্ষমাত্রায় পৌছতে পারছেন না কৃষক। ভরা মৌসুম। আমন রোপনের সময়কাল শেষ হতে চলছে।পানি নেই। নেই বৃষ্টির পানি। নেই কৃষি দপ্তরের নজরদারি। সংঙ্কা আর ভয়ের মধ্যে হিজলার কৃষক।হাজার হাজার একর জমি এখন ফাঁকা।
একদিকে ডিজেললের দাম চড়া। সেই সাথে হু হু করে বাড়ছে নিত্য পন্যের দাম।বাড়ছে কৃষি শ্রমিকের মজুরি । চার দিকে অন্ধকারে কৃষক সমাজ। সময়ের ব্যবধানে হালের বদলে আসছে পাওয়ার টিলার। তাতেও সাধারণ কৃষেরকের গলায় ফাস। সময়মতো পাচ্ছেননা কৃষক পাওয়ারটিলার। তাই হিজলায় হাজার হাজার একর জমি এখন ও ফাঁকা।
উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নের একই দশা। কোন ইউনিয়নে কাঙ্খিত জমিতে সময়মতো চাষ দিতে পারছেন না কৃষক।হরিনাথপুর ইউপি চেয়ারম্যান তৌফিকুর রহমান, বড়জালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ এনায়েত হোসেন হাওলাদার, গুয়াবাড়িয়া ইউপ চেয়ারম্যান শাহজাহান তালুকদার, মেমানিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মাষ্টার নাসির উদ্দিন হাওলাদার, হিজলাগৌরব্দী ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মিলন জানান, এ বছর কৃষি ক্ষেত্রে আবহাওয়াকে দায়ি করছেন তারা।
শ্রাবন মাস। এ মাসেই কৃষকের আমন ধান রোপনের শেষ সময়। এখন পর্যন্ত কোন কৃষক জমিতে রোপা আমন আবাদ শুরুই করতে পারছেন না। এমন অভিযোগে গুয়াবাড়িয়ার কৃষক জলিল সরদার জানান, এ বছর তিনি তিন একর জমিতে আমন ফসল করতে যাচ্ছেন। সরকার থেকে কোন ভুতুর্কি পান নি। কোন ধরণের কৃষি পরামর্শও পাননি। তার উপসহকারি কৃষি কর্র্মকর্তা ও চিনেনা তিনি।
প্রতিবছর এমন সময় কৃষক ধান রোপন শেষ করে ঘরে বসে পড়েন। এ বছর পানির অভাবে কোন জমিতে চাষ দিতে পারছেন না তারা।
এক দিকে হালের বলদের সংকট। অন্য দিকে পাওয়ার টিলারের অভাবে কৃষকগন কাঙ্খিত জমি চাষ-মই বা জমি তৈরী করতে পারছেন না। সরকার পক্ষ থেকে পাওয়ার টিলার পাওয়ার পাম্প কৃষক পর্যায়ে সরবরাহ করলেও তা তেলা মাথায় তেল দেয়ার মতো মনে করছেন কৃষক রতন আকন। বিগত বছর উপজেলায় কৃষকদের বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ দেয়া হলেও তা তাদের ভাগ্যে জোটেনি।তা দেয়া হয়েছে উপসহকারির নিজস্ব ব্যাক্তিকে।
উপজেলা কৃষি অফিস এর কর্তা ব্যাক্তিরা স্থানীয় প্রভাবশালীদের মুখ চেয়ে মেশিন বিতরণ, প্রনোদোনার কৃষি উপকরন, সার বীজ সব গুলোই বিতরন করছেন তারা। সাধারন কৃষক হচ্ছে বঞ্চিত।
কৃষক নুর মোহাম্মদ শিকদার এর ভাষ্যমতে এ বছর কৃষি অফিস যাদের আমন কৃষি প্রনোদোনা দিয়েছেন, তার শত ভাগ ব্যর্থ হবেন বলে তিনি মনে করেন।কৃষি অফিস থেকে পাওয়া বীজের ধান কোনটা হাসমুরগীর খাবার জন্য ব্যবহার হচ্ছে, সারের অংশটা যাচ্ছে পুরোনো সারের দোকানে।প্রকৃত কৃষক হচ্ছে সুবিধা বঞ্চিত।