২৫শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার

এলজিইডি ঝালকাঠিতে টেন্ডার নিয়ে আওয়ামী দোসর খ্যাত শিপলু কর্মকারের বিরুদ্ধে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ ও বরিশালে বদলির আদেশে বিতর্কের ঝড়

আপডেট: জুন ২৪, ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার ঃঃ তৎকালীন ভোলার জেলার দায়িত্বশীল প্রকৌশলী বলেন, “তিনি মূলত অদক্ষ ও অর্থলোভী কর্মকর্তা। ক্ষমতাসীনদের কাছাকাছি থেকে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করেছেন।”

এলজিইডি’র প্রধান কার্যালয় একজন প্রকল্প পরিচালক অভিযোগের সুরে বলেন, “আওয়ামী সরকারের সময় গড়ে ওঠা বড় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, এলজিইডি ঝালকাঠি জেলার ২৮ থেকে ৩০টি কাজের একটি টেন্ডারের ওপেনিং ডে ছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। বিধি অনুযায়ী ১৪ অথবা ২১ দিনের মধ্যে মূল্যায়ন সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন অজুহাতে তা বিলম্বিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত একজন নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, “শিপলু কর্মকার একজন চরম বিতর্কিত প্রকৌশলী। ঠিকাদারদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং কৌশলে অর্থ আদায়ই তার মূল লক্ষ্য। অযোগ্যতা, অদক্ষতা ও দাম্ভিকতায় ভরপুর তার আচরণ।”
তিনি আরও বলেন, “সম্প্রতি এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ের একটি প্রভাবশালী গ্রুপকে ম্যানেজ করেই বিভাগীয় শহর বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশল কার্যালয়ে সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন।”
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শিপলু কর্মকার। তিনি বলেন, “এসব কাজের এস্টিমেট ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগের। আমি যোগদানের পর টেন্ডারগুলো আহ্বান করায় একটি সিন্ডিকেটের আক্রোশের শিকার হয়েছি। তারা সমঝোতার মাধ্যমে ব্রিজের কাজ নিতে চেয়েছিল।”
তিনি আরও বলেন, “২০২৫ সালের পিপিআর অনুযায়ী কাউকে কাজ দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। মূল্যায়নের সময়সীমা ১৫০ দিন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র নিয়ে কারিগরি আপত্তি থাকায় মূল্যায়নে বিলম্ব হয়েছে। তবে আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে চূড়ান্ত মূল্যায়ন শেষ হবে।”
বদলির বিষয়ে তিনি বলেন, “শুনেছি আমাকে বরিশালে বদলি করা হয়েছে। তবে এখনো অফিসিয়াল চিঠি হাতে পাইনি। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকায় ভুল বোঝাবুঝি থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। আমার বদলির সঙ্গে এই টেন্ডারের কোনো সম্পর্ক নেই।”
এ বিষয়ে ঝালকাঠি এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জি এম সাহাবুদ্দিন বলেন, “মূল্যায়নের পুরো দায়িত্ব সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলীর। তিনি বিষয়টি ভালো বলতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, “সমস্যা নিরসনে জেলা প্রশাসকের সহায়তা চাওয়া হবে। একই সঙ্গে মিডিয়ার উপস্থিতিতে মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চিন্তাভাবনা চলছে, যাতে এ নিয়ে কোনো সন্দেহ বা দ্বিধা না থাকে। অন্যদিকে এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ের ঝালকাঠি জেলার টেন্ডার কর্মকাণ্ডের সাথে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, ঝালকাঠি জেলা থেকে এভুলেশন করে ত্রুটিযুক্ত কাগজপত্র সহ পাঠিয়েছেন, সেগুলো কে ত্রুটিযুক্ত কাগজপত্র সংশোধন পূর্ব প্রয়োজনীয় কাগজ সংযুক্ত করে প্রধান কার্যালয়ে পাঠানোর জন্য বলেছি। পরবর্তীতে
প্রকিউরিমেন্ট ইউনিটের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ঝালকাঠি জেলায় প্রেরণ করা হবে। এক্ষেত্রে একটু কালক্ষেপন হচ্ছে।
তবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত অনেক পদস্থ প্রকৌশলীরা অভিমত ব্যক্ত করে বলেন, বিভাগীয় শহর বরিশাল জেলায় তার মত অর্থলোভী, অনভিজ্ঞ ও অদক্ষ লোক পদায়ন করার ঠিক হয়নি। সেক্ষেত্রে দক্ষ, অভিজ্ঞ ও ক্লিন ইমেজের একজন প্রকৌশলী পদায়ন করলে সব ধরনের বিতর্কের অবসান হবে বলে তারা অভিমত ব্যক্ত করেন।

40 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন