২৫শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার

ভোলার ১ হাজার বস্তা ধান বরিশালের হিজলা খাদ্যগোডাউনে ! কর্তৃপক্ষ কিছু জানে না

আপডেট: আগস্ট ১২, ২০২২

সাইফুল ইসলাম :: হিজলার খাদ্য গোডাউনে রহস্যময় ১ হাজার বস্তা ধান। মালিক নেই। আছে ট্রলার বোঝাই ধান। ভোর রাত থেকে ধান গোডাউনে তুললেও মালিক খুজে পাওয়া যায়নি। সাংবাদিকের টের পেয়ে ট্রলার উধাও।
১১ আগষ্ট বৃহস্পতি বার খুব ভোরে একটি ট্রলার এসে দাড়ায় হিজলার গোডাউনের সামনে। ধান বোঝাই ট্রলার। ঠিকমতো ধানও তুলছেন গোডাউনের শ্রমিকগন। সকাল ৯টা পর্যন্ত ২শ বস্তা ধান উঠে গেছে হিজলা উপজেলা খাদ্যগোডাউনের মধ্যে। যার প্রত্যেকটি বস্তা লোই করা।
গোডাউন ঘাটে নোঙ্গর করা আল্লহভরসা-১ ট্রলারের একজন মাল্লা নাজিম জানান, তার বাড়ি ইলিশা। ধানগুলো ধুলিয়া থেকে আনা হয়েছে। হিজলা গোডাউনে দেওয়ার জন্য। কারা এনেছে এমন প্রশ্নে তিনি জানান, উপজেলা খাদ্যগোডাউনের ওসিএলএসডি।কত বস্তা ধান, জবাবে জানান ১ হাজার বস্তা। তবে লেবারদের মুখে সারাশব্দ নেই। তাদের দাবি কর্তৃপক্ষ তুলতে বলছেন তাই তুলছি।


নাম প্রকাশ না করার শর্তে লেবার জনান, এ পর্যন্ত ২শ বস্তা ধান গোডাউনে উঠে গেছে।
ওসিএলএসডি জালাল আহম্মেদ জানান, কৃষকগণ ধান নিয়ে আসছেন। আমরা পরিক্ষা শেষে ধানগুলো গোডাউনে তুলব।
আগে দেখা গেছে ধান গোডাউনের চাতালে রাখা হতো। এখন সরাসরি গোডাউনে ধান ডুকছে কি ভাবে। এমন প্রশ্নে জানান, তুলেই পরীক্ষা করে দেখা হবে। এ ধানের মালিক কে? এমন প্রশ্নে জানান, হয়তো বাহিরে আছে। তবে খুজে পাওয়া যায়নি ধানের মালিক পক্ষ।
অপর দিকে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা তৌহিদুর রহমান জানন, গোডাউনের বিষয়টি তার নয়। তার কাছে বিল নিয়ে আসলে বিলে সই করে দেয়া হয়।
একজন কৃষক এক থেকে দের টন ধান দেয়ার ক্ষমতা রাখেন। সে ক্ষেত্রে একটি ট্রলারে ১ হাজার বস্তা ধান গোডাউনে একত্রে উঠলে আপনার কি মনে হবে? এমন প্রশ্নে জানান, বিষয়টি ওসি এল এসডির সাথে আলাপ করেন।
স্থানীয় একাধীক ধান ব্যবসায়ী জানান, খাদ্যকর্মকর্তা, ওসিএলএসডি দু জন মিলে হিজলা খাদ্য গোডাউনকে জিম্মি করে রেখেছে। এরা নিজেরাই কৃষক, নিজেরাই ব্যবসায়ী। এদের সেন্ডিকেটের কারণে সাধারণ কৃষক হচ্ছে প্রতারিত। প্রশাসন বিষয়টি জেনেও না জানার ভান করছে।
ধুলখোলা ইউনিয়ন পরিষদ সাবেক চেয়ারম্যন ও আওয়ামীলীগ সহসভাপতি ইকবাল হোসেন মাতুব্বর জানান, হিজলা উপজেলায় প্রশাসন নাই। প্রশাসনিক পাওয়ার নাই। নাই জনগণের কাছে জবাবদিহিতা। যে কারণে যেমনখুশি তেমন হচ্ছে খাদ্যগোডাউনে। আমাকেও হিজলা খাদ্য অধিদপ্তর হাইকোট দেখিয়েছেন।
গোডাউন সরদার ফারুক বেপারী জানান, লেবার সরদার হিসাবে ধান তোলার কাজ তিনি করছেন। কর্তৃপক্ষ ধান তুলতে বলছেন তিনি তুলছেন। অপর এক ব্যবসায়ী রফিক খান জানান, ভোলা থেকে একটি মহলের সাথে লেনদেনের মাধ্যমে ধান তুলছে খাদ্যকর্মকর্তা তৌহিদুর রহমান এবংওসিএলএসডি জালাল আহেম্মেদ।
বিষয়টি প্রশাসন না জানলে গোডাউনের সামনে ১ হাজার বস্তা ধান কি ভাবে ট্রলার থেকে সরা সরি গোডাউনে ঢুকছে।
হিজলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বকুলচন্দ্র কবিরাজ জানান, বিষয়টি দেখছি। ব্যবস্থা হবে।

273 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন