২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার

মধ্যনগর উপজেলায় ভারতের সীমান্তে অবৈধ করাত কলের রমরমা ব্যবসা

আপডেট: ডিসেম্বর ৮, ২০২২

গিয়াস উদ্দিন রানা,ধর্মপাশা ও মধ্যনগর(সুনামগঞ্জ):: সুনামগঞ্জের নবগঠিত মধ্যনগর উপজেলার ভারতের সীমান্তে অবৈধ করাত কলের রমরমা ব্যবসা। প্রতিদিন কর্তন হচ্ছে ভারতীয় চুরাই কাঠ।
নবগঠিত মধ্যনগর উপজেলাধীন ভারতের সীমান্তবর্তী উত্তর বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের মহেষখলা বাজার ও ভোলাগঞ্জ বাজার এর মধ্যবর্তী স্থানে আন্তরপুর মৌজায় এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সীমান্তের পাশে অবৈধ করাত কল স্থাপন করে ভারতীয় অবৈধ কাঠ কর্তন করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বন ও পরিবেশ অধিদপ্তর এর নীতিমালা অনুযায়ী সীমান্ত এলাকা থেকে কমপক্ষে ৫ কিঃমিঃ দূরত্বে করাত কল বসানোর কথা থাকলেও তারা স্থানীয় প্রভাব বিস্তার করে সীমান্ত ঘেষে চারটি অবৈধ করাত কল বসিয়ে দেদারছে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে এক দিকে সরকার প্রতি বছর মোটা অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অপর দিকে গ্রামের পরিবেশ দূষন হচ্ছে।
এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতেগত বৃহস্পতিবার সরজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, নবগঠিত মধ্যনগর উপজেলাধীন দক্ষিন বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের দাতিয়ার পাড়া গ্রামের আপছর উদ্দিন স্থানীয় প্রভাব কাটিয়ে মহেষখলা বাজার (মহেষখলা) মৌজায় একই স্থানে দুটি অবৈধ করাত কল স্থাপন করা হয়েছে।একটির মালিক বংশীকুন্ডা দক্ষিন ইউনিয়নের দাতিয়ারপাড়া গ্রামের প্রভাবশালী মোঃ আপছর উদ্দিন, অপরটির মালিক বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের সাউতপাড়া গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ শিরু মিয়ার ছেলে মোঃ কামরুল ইসলাম। অপর দুটি করাত কল মহেষখলা বাজার ও ভোলাগঞ্জ বাজার এর মধ্যেস্থলে আন্তরপুর মৌজায় রাস্তার পাশে একটির মালিক মহেষখলা গ্রামের শামীম, অপরটির মালিক দক্ষিন বংশীকুন্ডা ইউপির দাতিয়ারপাড়া গ্রামের আপছর উদ্দিন। তারা সরকারী বন বিভাগের নীতিমালার তুয়াক্কা না করেই অবৈধভাবে ভারতীয় মুল্যবান কাঠ কর্তন করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
অবৈধ করাত কল মালিক আফছর উদ্দিন, শামীম বলেন, বন বিভাগের লোকজনের সাথে আমরা সমন্নয় করেছি। লাইসেন্স করার জন্য চেষ্টা করছি। অপর এক করাতকল মালিক কামরুল ইসলামকে পাওয়া যায়নি।
নামপ্রকাশে অনিছুক একাধিক গ্রামবাসীর অভিযোগ গ্রামের ভিতর করাতকলে কাঠ কর্তন করার সময় কাঠের গুড়া বাতাসে উড়িয়ে পরিবেশ দুষন হচ্ছে। অপর দিকে সীমান্ত থেকে ৫ কিঃমিঃ মিটার দূরত্ব করাত কল থাকার কথা ছিল। কিন্তু তারা স্থানীয় প্রভাব খাঁটিয়ে তাদের ইচ্ছা মাফিক সীমান্ত এলাকায় মিল দিয়ে অবৈধ কাঠ কর্তন করছে। এতে আশেপাশের গ্রামগুলোর পরিবেশ দূষন হচ্ছে।

192 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন