১৯শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার

হিজলার কাউরিয়া বাজার ইজারা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ – তদন্তের দাবি

আপডেট: মার্চ ১২, ২০২৬

বিজয় নিউজ  ঃঃ

বরিশালের হিজলা উপজেলার একটি বাজারের ইযারা নিয়ে ক্ষমতাসীন দলে মারমু কি অবস্থানে। এক পক্ষ অন্য পক্ষের দিকে আঙ্গুল তুলছে।
উপজেলার অন্যতম বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ কাউরিয়া বন্দর।  বাজারের ইজারা কার্যক্রমকে ঘিরে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ইজারা প্রত্যাশী শাহ আলম বেপারী ।

জানা যায়, গত ১০ মার্চ সকাল ১০টায় কাউরিয়া বাজারের ইজারা কার্যক্রম শুরু হয় এবং বিকাল ৩টায় টেন্ডার জমা দেওয়ার কার্যক্রম শেষ হয়। তবে কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি দাবি করেন, টেন্ডার বক্সে ব্যবহৃত তালাটি প্রথমে যেভাবে লাগানো হয়েছিল পরে সেটি ভিন্নভাবে দেখা যায়। এদিকে কাউড়িয়া বাজারে মাত্র দুটি টেন্ডার জামা পরে। একটি শাহ আলম বেপারীর নামে এবং অপরটি আসাদুজ্জামান খান সজলের নামে। টেন্ডার গ্রহীত দ্বারা টেন্ডার প্রদানে স্বজন প্রীতির অভিযোগ তুলছেন।  তাদের অভিযোগ, স্বাভাবিক টেন্ডার প্রক্রিয়ায় যেভাবে তালা সিলগালা করা হয়, এখানে তা করা হয়নি। ফলে টেন্ডার বক্সে হস্তক্ষেপ বা কারসাজির সুযোগ ছিল বলে সন্দেহ প্রকাশ করছেন টেন্ডার গ্রহীতা গন।

কাউরিয়া বন্দরের ইজারা প্রত্যাশী মোঃ শাহে আলম বেপারী অভিযোগ করে বলেন,
“আমরা আমাদের টেন্ডারের খামে দুটি পিন মেরে জমা দিয়েছিলাম। তখন খামে কোনো অতিরিক্ত পিনের ছিদ্র ছিল না। কিন্তু টেন্ডার বক্স খোলার পর দেখি আমাদের খামে আরও দুটি পিনের ছিদ্র রয়েছে, যা আমাদের কাছে অত্যন্ত সন্দেহজনক মনে হয়েছে।”

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা বিএনপির একজন শীর্ষ নেতা দাবি করেন, ইজারা পাওয়া প্রতিষ্ঠানের সাথে তিনি সংশ্লিষ্ট ছিলেন এবং ইজারাদারকে ১০ লক্ষ টাকার পে-অর্ডার প্রদান করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইজারার দর হিসাব করে ৫৭ লক্ষ টাকা মূল দরসহ মোট ৭৪ লক্ষ ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু টেন্ডার বক্স খোলার পর সেখানে ৭৩ লক্ষ টাকা দর এবং সর্বমোট ৯৪ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা উল্লেখ করা দেখে তিনি বিস্মিত হন। তিনি বলেন,
“এভাবে হলে আমি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবো। প্রয়োজনে আমি আমার দেওয়া ১০ লক্ষ টাকা ফেরত চাইবো।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইলিয়াস সিকদার বলেন,
“টেন্ডার কার্যক্রম নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু অভিযোগ উঠেছে। আমি অভিযোগকারীদের লিখিতভাবে অভিযোগ দিতে বলেছি। ইতোমধ্যে একজন ইজারাদার লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

স্থানীয়দের মতে, কাউরিয়া বাজার হিজলা উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র। তাই ইজারা কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনিয়ম বা কারচুপি হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে অভিযোগকারী শাহে আলম বেপারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন দিয়ে বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের প্রত্যাশা করছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তরের কর্তা ব্যক্তিরা জানান, টেন্ডার নিয়ে একটু ঝামেলা হয়েছে। আপাতত পর্যবেক্ষণে রয়েছে।

62 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন