
আপডেট: এপ্রিল ২৪, ২০২৬
আপডেট:
মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার কাজিরহাট থেকে সায়েস্তাবাদ হয়ে বরিশাল নগরীর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনকারী গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সংস্কার কাজে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
দীর্ঘ দুই বছর ফেলে রাখার পর তড়িঘড়ি করে কাজ শুরু করতেই বেরিয়ে এসেছে নানা অনিয়ম—যাকে স্থানীয়রা বলছেন “পুকুর চুরি”।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কে পিচ ঢালাইয়ের মাত্র একদিন পরই তা চাকার সঙ্গে উঠে আসছে।
তারা জানান, ঢালাইয়ের আগে সড়কের ওপর থাকা ইটের সুরকির ধুলো পরিষ্কার না করেই বিটুমিন ছাড়া পিচ ঢালাই করা হয়েছে।
এমন অনিয়মের দৃশ্য স্থানীয়রা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে প্রচার করলে মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, সড়কের পিচ হাত দিয়েই তুলে ফেলা যাচ্ছে।
এতে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়।
সড়কটি বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার কাজিরহাট থানার মিয়ারহাট থেকে কাজিরহাট হয়ে সায়েস্তাবাদ পর্যন্ত বিস্তৃত, যার একটি অংশ প্রায় ৪ দশমিক ৯ কিলোমিটার। পুরো হিজলা–বরিশাল সংযোগ সড়কের দৈর্ঘ্য ১৪ দশমিক ৪ কিলোমিটার।
জানা যায়, ২০২৪ সালের ৩ এপ্রিল স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এই সড়কের সংস্কার কাজের কার্যাদেশ দেয় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী আবুল হাসান আব্দুল্লাহ ঘনিষ্ঠজন কোহিনুর এন্টারপ্রাইজকে।
প্রায় ১৯ কোটি ৩৯ লাখ টাকার এই প্রকল্পটি তিনটি প্যাকেজে বাস্তবায়নের কথা থাকলেও মূল ঠিকাদার কাজের অংশবিশেষ অন্য ঠিকাদারদের কাছে হস্তান্তর করে।
প্রথম প্যাকেজে মিয়ারহাট থেকে গাবতলী হয়ে কাজিরহাট পর্যন্ত ৪.৯ কিলোমিটার সড়কের কাজের ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। দ্বিতীয় প্যাকেজে ৪.৮ কিলোমিটার সড়কের জন্য বরাদ্দ প্রায় ৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা এবং তৃতীয় প্যাকেজে দফাদারহাট থেকে সায়েস্তাবাদ পর্যন্ত ৪.৭ কিলোমিটার সড়কের জন্য বরাদ্দ রাখা হয় ৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।
প্রকল্পটি ২০২৪ সালে শুরু হলেও নানা অজুহাতে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এতে গত দুই বছর ধরে ইটের সুরকি বিছানো সড়কে চরম দুর্ভোগে পড়েন হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ।
এলজিইডি সূত্র বলছে, সরকার পরিবর্তন ও নির্বাচনের কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। যদিও একাধিকবার সময় বাড়ানো হয়, তবুও ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি ছিল খুবই সীমিত।
অবশেষে চলতি বছরের ২০ এপ্রিল আবার কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কোহিনুর এন্টারপ্রাইজের পক্ষে সেলিম আহম্মেদ।
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার সেলিম আহম্মেদ বলেন, “মিয়ারহাট থেকে কাজিরহাট পর্যন্ত পিচ ঢালাইয়ে বড় ধরনের অনিয়ম হয়নি।
স্থানীয় লোকজন হাত দিয়ে পিচ তুলে ভিডিও করেছে। পরে আমরা বিষয়টি সংশোধন করেছি।”
অন্যদিকে তৃতীয় প্যাকেজের ঠিকাদার পারভেজ চান জানান, কাজিরহাট ব্রিজ থেকে সায়েস্তাবাদ সীমান্ত পর্যন্ত তার অংশের কাজ শুরু হয়েছে এবং দ্রুত পিচ ঢালাই শুরু করা হবে। মেহেন্দিগঞ্জের উপজেলা প্রকৌশলী আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য পংকজ দেবনাথের ঘনিষ্ঠজন। চেষ্টা করেও তার কাছ থেকে কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান বলেন, “বড় কাজে সামান্য ত্রুটি হতে পারে। আমরা বিষয়টি ঠিক করে দেবো এবং গুণগতমান নিশ্চিত করে পুরো সড়কের কাজ শেষ করা হবে।”
তবে স্থানীয়দের দাবি, বারবার অনিয়ম ও দায়সারা কাজের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি টেকসই হচ্ছে না। তারা দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সড়কের মানসম্মত নির্মাণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে বরিশালের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শরীফ মো: জামাল উদ্দিন বলেন, আমার প্রচুর কাজের চাপ এ বিষয়ে কতটুকু দেখতে পারবো তা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। তবে প্রকল্প পরিচালক মোঃ শহিদুল ইসলাম সরকার বলেন, বিষয়টি অবগত হয়েছি আমি দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।