অপরাধ-দুর্নীতি নির্মূলে গণমাধ্যমকে আরও সক্রিয় হতে হবে: সরওয়ার

আপডেট: September 23, 2026

নিজস্ব প্রতিবেদকঃঃ অপরাধ ও দুর্নীতি নির্মূলে জনসচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমকে আরও সক্রিয়, দায়িত্বশীল ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা, সাবেক হুইপ, সাবেক মেয়র ও জেলা দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরওয়ার এমপি।
বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স কাউন্সিল (বিসিআরসি)

আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মজিবর রহমান সরওয়ার বলেন, অপরাধ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। দেশকে সব ধরনের দুর্নীতি থেকে রক্ষা করতে সামাজিকভাবে সচেতনতা গড়ে তোলা জরুরি। একই সঙ্গে দেশে যেন দ্বিতীয়বার কোনো ‘আয়নাঘর’ তৈরি না হয়, সেজন্য সবাইকে সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে।
অনুষ্ঠানে উদ্বোধকের বক্তব্যে পটুয়াখালী-৪ আসনের এমপি এ বি এম মোশাররফ হোসেন বলেন, অপরাধ ও দুর্নীতি দমনে তারা বদ্ধপরিকর। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথাও তুলে ধরেন তিনি।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স কাউন্সিলের সহসভাপতি ও দৈনিক ভোরের সম্পাদক এস এম রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, অপরাধ দমনে সরকার, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। অপরাধের তথ্য তুলে ধরার পাশাপাশি এর কারণ ও সামাজিক প্রভাব নিয়েও গণমাধ্যমকে জনসচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখতে হবে।


স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. মতিউর রহমান বলেন, অপরাধ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে শুধু আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সচেতন নাগরিক সমাজ ও দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান। গণমাধ্যম মানুষের সামনে বাস্তব চিত্র তুলে ধরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক ও বিশিষ্ট শিল্পপতি এম জি আর নাসির মজুমদার, সিআইপি বলেন, দুর্নীতি একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করে। ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নৈতিকতার চর্চা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের ভূমিকা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
রাওয়া ক্লাবের সভাপতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম এ হক বলেন, দেশের পরিবর্তন, রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিবর্তন এবং আমলাতান্ত্রিক অবক্ষয় রোধের প্রত্যাশা থাকলেও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন এখনো পুরোপুরি আসেনি। সংসদের ৩০০ এমপির নীতি-নৈতিকতায় পরিবর্তন এবং জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের পরিবর্তন ও জাতির উন্নয়ন সম্ভব।
বাসসের নিউজ এডিটর আব্দুল বাতেন সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্যের সত্যতা যাচাই, নিরপেক্ষতা ও পেশাগত নীতিমালা অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে সঠিক তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
বাংলা ভিশনের নির্বাহী সম্পাদক বদরুল আলম নাবিল বলেন, সাংবাদিকদের রাষ্ট্রের সাংবাদিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে; কোনো দল বা বিশেষ গোষ্ঠীর সাংবাদিক হিসেবে নয়। সংবাদ পরিবেশনে পেশাগত দায়িত্ববোধ ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
জাসাসের যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ এনাম মুন্না বলেন, তার ভাষ্য অনুযায়ী, আগের সরকারের সময়ে অপরাধ ও দুর্নীতির যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, তা নির্মূলে বর্তমান সরকার কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
শিশু সাহিত্যিক সোনিয়া হোসেন বলেন, অপরাধ ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে শিশু-কিশোরদের নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ গড়ে তোলা জরুরি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রস্তুত করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
সভায় বক্তারা বলেন, শুধু অপরাধের সংবাদ প্রকাশ করলেই গণমাধ্যমের দায়িত্ব শেষ হয় না। অপরাধের কারণ, এর সামাজিক প্রভাব এবং প্রতিরোধের উপায় নিয়েও জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য তুলে ধরার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং তথ্য যাচাই করে ভারসাম্যপূর্ণ সংবাদ প্রকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
আলোচনা সভায় সাংবাদিক, পেশাজীবী, রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

58 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন