হতদরিদ্র দুই পরিবার পেল বেঁচে থাকার অবলম্বন ভিক্ষুক পুনর্বাসন কর্মসূচিতে দুই ব্যাটারিচালিত ভ্যান, প্রশংসায় ইউএনও আলী সুজা

আপডেট: September 23, 2026

স্টাফ রিপোর্টারঃঃ অভাবের সংসারে নিত্যদিনের লড়াই। অর্থের সংকটে পরিবারের ভরণ-পোষণ তো দূরের কথা, চিকিৎসা ও সন্তানদের লেখাপড়াও প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। এমন চরম দুর্দিনে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার দুই হতদরিদ্র পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে দুটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উজিরপুর উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের সামনে ভিক্ষুক পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় গড়িয়া গ্রামের রফিক গোমস্তা ও পূর্ব ধামুরা গ্রামের মিলন বিশ্বাসের হাতে ভ্যান দুটি তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আলী সুজা।
ভ্যান পেয়ে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন অসহায় ওই দুই পরিবারের সদস্যরা। তাদের প্রত্যাশা, ভ্যান চালিয়ে এখন থেকে নিজেরাই আয় করে পরিবারের ভরণ-পোষণ চালাতে পারবেন।
উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রফিক গোমস্তা ও মিলন বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরে চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছিলেন। অভাবের কারণে তাদের পরিবারের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছিল। এমনকি চিকিৎসা ও সন্তানদের লেখাপড়াও চালিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল।
দুই পরিবারের অসহায়ত্বের বিষয়টি জানতে পেরে তাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আলী সুজা। উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের ভিক্ষুক পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় তাদের কর্মসংস্থানের জন্য ব্যাটারিচালিত ভ্যান দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
ভ্যান বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রুবেল হাওলাদার, উপজেলা যুবদলের সভাপতি এফএম সামসুদ্দোহা আজাদ, সাধারণ সম্পাদক মনির মল্লিক, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাহবুব গোমস্তা, সদস্য সচিব কাইয়ুম খানসহ সংশ্লিষ্টরা।
সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে রফিক গোমস্তা ও মিলন বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা খুবই অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছিলাম। পরিবারের খরচ চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছিল। কোনোদিন ভাবিনি একজন সরকারি কর্মকর্তা আমাদের মতো মানুষের পাশে এভাবে দাঁড়াবেন। এই সহায়তা আমাদের নতুন করে বাঁচার সুযোগ করে দিয়েছে। ইউএনও স্যারের এই অবদান আমরা কোনোদিন ভুলব না।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আলী সুজা বলেন, ‘প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মী হিসেবে মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা ও সরকারের কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পৌঁছে দেওয়াই আমার প্রধান লক্ষ্য। দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সমাজের পিছিয়ে পড়া ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার এই ছোট উদ্যোগের মাধ্যমে যদি একটি পরিবারের মুখে হাসি ফোটে এবং তারা স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পায়, তবেই আমার কাজের প্রকৃত সার্থকতা।’
স্থানীয়দের মতে, সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অসহায় মানুষের কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসনে এ ধরনের উদ্যোগ সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের মধ্যে নতুন আশার সৃষ্টি করছে।

25 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন