
আপডেট: November 4, 2026
আপডেট:
স্টাফ রিপোর্টার ঃঃ পীরের সমর্থন পাওয়ার প্রচারণার সত্যতা নিয়ে এলাকাবাসীর প্রশ্ন; ফাজিল পাসের সনদ ও ছেলের কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম হওয়ার দাবির পক্ষেও মেলেনি প্রমাণ। বরিশাল সদর উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) প্রার্থী মাওলানা মিজানুর রহমানকে ঘিরে এলাকায় নানা আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনে নিজের পক্ষে চরমোনাইয়ের পীরের সমর্থন রয়েছে বলে প্রচার, নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে অস্পষ্ট বক্তব্য এবং ছেলের জাতীয় কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম হওয়ার দাবি—এসব বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, চরমোনাইয়ের পীর তাকে নির্বাচনে সমর্থন দিয়েছেন—এমন প্রচারণা চালিয়ে সাধারণ ও সহজ-সরল ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন মিজানুর রহমান। তবে এ সমর্থনের পক্ষে কোনো লিখিত ঘোষণা, আনুষ্ঠানিক বক্তব্য কিংবা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ স্থানীয়ভাবে পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা।
স্থানীয়দের দাবি, চরমোনাইয়ের পীরের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত ওই ওয়ার্ডের নির্বাচনে মিজানুর রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন দেওয়ার কোনো তথ্য তাদের জানা নেই। ফলে পীরের সমর্থনের বিষয়টি কীসের ভিত্তিতে প্রচার করা হচ্ছে, তা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
শুধু রাজনৈতিক সমর্থন নয়, মিজানুর রহমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও দেখা দিয়েছে অস্পষ্টতা। তিনি নিজেকে মাওলানা ও ফাজিল পাস (স্নাতক সমমান) বলে প্রচার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে প্রতিবেদকের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি ফাজিল পাসের সাল সম্পর্কে কখনো ২০০৭, কখনো ২০০৮ আবার কখনো ২০১০ সালের কথা উল্লেখ করেন। একপর্যায়ে তার শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে পারেননি বলে প্রতিবেদকের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। ফলে তার প্রকৃত শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সনদের সত্যতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এদিকে নিজের ছেলের জাতীয় কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জনের দাবিও এলাকায় প্রচার করেন মিজানুর রহমান—এমন অভিযোগ করেছেন কয়েকজন বাসিন্দা। তবে কোন প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে, কোথায়, কবে এবং কারা প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিলেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য বা কোনো সনদ-প্রমাণ তিনি দেখাতে পারেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, একজন জনপ্রতিনিধি প্রার্থীর রাজনৈতিক সমর্থন, শিক্ষাগত যোগ্যতা কিংবা পারিবারিক অর্জন নিয়ে প্রচারিত তথ্যের সত্যতা থাকা জরুরি। ভোটারদের আবেগ ও ধর্মীয় অনুভূতিকে প্রভাবিত করে ভোট আদায়ের চেষ্টা হলে তা নির্বাচনী পরিবেশের জন্যও উদ্বেগজনক।
এ বিষয়ে মাওলানা মিজানুর রহমানের বক্তব্য ও শিক্ষাগত সনদ, ছেলের প্রতিযোগিতায় প্রথম হওয়ার প্রমাণ এবং চরমোনাইয়ের পীরের সমর্থনসংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক দলিল পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, নির্বাচনের আগে প্রার্থীর পরিচয়, যোগ্যতা ও প্রচারণার প্রতিটি দাবির সত্যতা স্পষ্ট হোক। ভোটাররা যেন কোনো বিভ্রান্তিকর প্রচারণায় প্রভাবিত না হয়ে যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে নিজেদের পছন্দের প্রার্থী নির্বাচন করতে পারেন।