২২শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার

  খালেদা জিয়াকে মুক্ত জন্য আর মানববন্ধন নয়, এবার রাজপথে নামুন’

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৯

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক। ছবি: বিজয় নিউজ

বিজয় নিউজ::  বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক বলেছেন, মানববন্ধন আর ছোটখাটো সভা-সমাবেশ করে দেশনেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা যাবে না।

তিনি বলেন, ‘আর মানববন্ধন নয়, এবার রাস্তায় নেমে পড়ুন। কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলুন। বেগম জিয়াকে মুক্ত করেই এবার ঘরে ফিরতে হবে।’

বোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরামের উদ্যোগে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, ‘আমি মনে করি বেগম খালেদা জিয়া ৫ বারের প্রধানমন্ত্রী হতেন, যদি ২০১৪ ও ২০১৯ সালে নির্বাচন হতো। কিন্তু সেই নেত্রীকে কারাগারে আটকে রেখে মধ্যরাতের নির্বাচন করে বর্তমান সরকার বলপ্রয়োগ করে অবৈধভাবে ক্ষমতায় বসেছে।’

তিনি বলেন, ‘দেশে যে অরাজক-নৈরাজ্যকর অবস্থা চলছে- এই মুহূর্তে বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পেলে বাংলাদেশের এমন কোনো শক্তি নেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তাকে রুখতে পারে।’

ফারুক আরও বলেন, ‘যে দেশের অর্থমন্ত্রী স্বীকার করেন- ১১ হাজার ১০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে ব্যাংক খালি করে দেয়া হয়েছে। সেই দেশে আর কী থাকে! যারা ক্যাসিনোর টাকা নিয়েছে তাদের সেই টাকা সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের ভাষায় অবৈধ হলেও এখনও রাঘববোয়ালদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না। কারণ, বর্তমান সরকারের তো কোনো জবাবদিহিতা নেই। তারা তো জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার নয়।’

তিনি বলেন, ‘যদি শক্তিশালী দলগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে তাহলে স্বৈরশাসক আরও কঠিনভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। তাই বলি, আর মানববন্ধন নয়। এবার কঠোর আন্দোলন নিয়ে রাস্তায় নামুন।’

সরকারের উদ্দেশে এই বিএনপি নেতা বলেন, ‘আপনারা ভেবেছেন বেগম খালেদা জিয়াকে আটক রাখলে আন্দোলন হবে না। আন্দোলন হবে, আর সে আন্দোলনের মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিও হবে। দেশে গণতন্ত্রও প্রতিষ্ঠিত হবে।’

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের ভাষায় গত ১০ বছর ধরে তারেক রহমান ক্যাসিনোর টাকা নেয়। তাহলে তো তিনি বড় নেতা। তাহলে তার মামলাগুলো প্রত্যাহার করেন না কেন? তিনি যদি লন্ডনে বসে আপনাদের কাছ থেকে টাকা নেয় তাহলে তার মতো একজন বড় নেতার দলে আপনারা যোগ দেন না কেন? এ সব ভুয়া কথা বলে মানুষের মুখ অন্যদিকে নেয়া, মানুষের মন অন্যদিকে নেয়া, আন্দোলন প্রতিহত করার চেষ্টা করেও লাভ হবে না। খালেদা জিয়া ও গণতন্ত্র মুক্তির আন্দোলন হবেই।’

জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, ‘প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছেন, মানুষের ভোটের অধিকার হরণ করেছেন, শেয়ারবাজার লুট করেছেন- কিন্তু শেয়ারবাজার লুটকারীদের লিস্ট তৈরি করতে পারেননি, ব্যাংক লুট করেছেন, সাগর-রুনি হত্যা মামলার বিচার করতে পারেননি। দেশের মানুষকে বোকা মনে করবেন না। দেশের মানুষ সব বোঝে। আমরা সংসদে নেই। সংসদে থাকলে তেলের দাম, গ্যাসের দাম আর এ সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হতো না। যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হতো তাহলে আমরা সংসদে ঠিকই যেতাম, ক্ষমতায় ঠিকই যেতাম।’

নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরামের উপদেষ্টা নাসির উদ্দিন হাজারীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এম জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী প্রমুখ।

189 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন