
আপডেট: জুন ১৯, ২০২৬
মোঃ ইয়াসিন মিয়া মাইনুল মাহমুদ
স্টাফ রিপোর্টার ঃঃ দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন, আওয়ামী লীগ আমলে গড়ে ওঠা প্রভাব বলয় এখনো সক্রিয়—অভিযোগ; বদলির আদেশ বাতিলে বিভিন্ন মহলে চাপ প্রয়োগের দাবি
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বরিশাল জেলার সদর উপজেলার উপজেলা প্রকৌশলী সৈয়দ মাইনুল মাহমুদ এবং বরিশাল জেলার নির্বাহী প্রকৌশল দপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মোঃ ইয়াছিন মিয়ার সাম্প্রতিক বদলির আদেশ ঘিরে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বদলির আদেশ কার্যকর হওয়ার আগেই তা বাতিলের লক্ষ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে তদবির চালাচ্ছেন এই দুই কর্মকর্তা।
সূত্র জানায়, স্মারক নং-৪৬.০২.০০০০.০০১.৯৯.২৭১.১৮-৫৮৪০, তারিখ ১১ জুন ২০২৬-এর অফিস আদেশে সৈয়দ মাইনুল মাহমুদকে ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে বদলি করা হয়। একই তারিখে জারি হওয়া স্মারক নং-৪৬.০২.০০০০.০০১.৯৯.২১৭.২১-৫৮৪৩-এর অফিস আদেশে সহকারী প্রকৌশলী মোঃ ইয়াছিন মিয়াকে ঝালকাঠি জেলার নির্বাহী প্রকৌশল দপ্তরে বদলি করা হয়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, বদলির আদেশ জারির পরপরই তা বাতিলের জন্য বরিশাল জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আল ইমরান এবং অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ও বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের সদস্য রহমত-ই-খুদার মাধ্যমে উচ্চপর্যায়ে তদবির শুরু করেন মাইনুল ও ইয়াছিন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সৈয়দ মাইনুল মাহমুদ পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে বরিশাল সদর উপজেলায় উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলের অধিকাংশ সময় তিনি একই কর্মস্থলে অবস্থান করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট বলয় গড়ে তোলেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সরকারি বিধান অনুযায়ী একই কর্মস্থলে দীর্ঘ সময় অবস্থান নিরুৎসাহিত করা হলেও তৎকালীন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীমের ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন হওয়ায় তিনি বছরের পর বছর একই কর্মস্থলে বহাল ছিলেন। এ সময় তিনি প্রতিমন্ত্রীর বিভিন্ন এজেন্ডা বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, সহকারী প্রকৌশলী মোঃ ইয়াছিন মিয়াও পাঁচ বছরের অধিক সময় ধরে বরিশাল জেলায় কর্মরত রয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি তৎকালীন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহসহ জেলার বিভিন্ন সংসদ সদস্যের এজেন্ডা বাস্তবায়নে ভূমিকা পালন করতেন এবং একটি প্রভাবশালী প্রশাসনিক বলয়ের অংশ হিসেবে কাজ করতেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও ওই সিন্ডিকেটের প্রভাব পুরোপুরি ভাঙেনি। বরং সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা এখনো বরিশাল এলজিইডির বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করছেন।
সূত্রের ভাষ্যমতে, বদলির আদেশ কার্যকর হলে দীর্ঘদিনের এই প্রভাব বলয় দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। সে কারণেই মাইনুল মাহমুদ ও ইয়াছিন মিয়া বরিশালেই থেকে যাওয়ার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, প্রকৌশলী আল ইমরান ও প্রকৌশলী রহমত-ই-খুদা ইতোমধ্যে ঝালকাঠি জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী দপ্তরসহ এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ের প্রশাসন শাখায় বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করে বদলির আদেশ বাতিলের জন্য চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করছেন।
তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।