৩০শে নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার

বরিশাল -৩ বিএনপির দুই হেভিওয়েট আটকা সাত্তার খানের জনপ্রিয়তার সাথে

আপডেট: নভেম্বর ৩০, ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার ঃ  :বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ–মুলাদী) সংসদীয় আসনে বিএনপির মনোনয়নকে ঘিরে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ আসনে দলটির চারজন শীর্ষস্থানীয় নেতা মনোনয়ন প্রত্যাশী। এরা হলেন—বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী সেলিমা রহমান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন, কেন্দ্রীয় আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মনিরুজ্জামান আসাদ এবং মুলাদীর সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও সাবেক পৌর মেয়র আব্দুস সাত্তার খান।

দলীয় হাইকমান্ড ইতোমধ্যে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৩৭টি আসনের প্রার্থী ঘোষণা করলেও দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত বরিশাল-৩ আসনের প্রার্থী এখনো চূড়ান্ত হয়নি। দলীয় সূত্র জানায়—মাঠের গণমানুষের গ্রহণযোগ্যতা এবং তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া বিবেচনায় মনোনয়ন নিয়ে এখানে চলছে ‘বিশেষ মূল্যায়ন’।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বরিশাল-৩ আসনে বিএনপির দুই হেভিওয়েট নেতার নাম শুরু থেকেই আলোচনায় থাকলেও মাঠ পর্যায়ের জনপ্রিয়তার সমীকরণ পাল্টে দিচ্ছেন সাবেক পৌর মেয়র আব্দুস সাত্তার খান। দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা, জনমুখী রাজনীতি ও তৃণমূলে শক্ত অবস্থানের কারণে তার গ্রহণযোগ্যতা ক্রমেই সুস্পষ্ট হয়ে উঠছে।
মুলাদীর বিভিন্ন ইউনিয়নে ঘুরে দেখা গেছে—সাধারণ নেতাকর্মীদের মাঝে সাত্তার খানের পক্ষে উল্লেখযোগ্য ঝোঁক তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক গণসংযোগ, এলাকা জুড়ে জনসম্পৃক্ত কার্যক্রম এবং জনগণের ইতিবাচক সাড়া দলীয় উচ্চপর্যায়কেও ভাবনায় ফেলেছে বলে জানা গেছে।নির্বাচনীয় বিষয় জানতে চাইলে আব্দুস সাত্তার খান যুগান্তরকে বলেন,বাবুগঞ্জ মুলাদী বিএনপির একাংশকে বাদ দিয়ে একটি পকেট কমিটি করে নির্বাচন করছেন এডভোকেট জয়নুল আবেদিন । তিনি আরো বলেন ২০০৮ সালে বিএনপির স্থায়ী কমিটি সদস্য সেলিমা রহমানকে দল মনোনয়ন দিলে ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন স্বতন্ত্র নির্বাচন করায় ওই নির্বাচনে সেলিমা রহমান হেরে যায়। এমনকি তিনি সাবেক এমপি মোশারফ হোসেন মঙুর সাথেও একাধিকবার স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচন করে একবারো জয়লাভ করতে পারেনি। দলের হাই কমান্ড আপনাকে মনোনয় না দিলে আপনি নির্বাচন করবেন কিনা জানতে চাইলে সাত্তার খান বলেন, জনগণের মতামতের উপর তিনি সিদ্ধান্ত নিবেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় বেশ কয়েকজন নেতার মতে, বরিশাল-৩ আসন নিয়ে এখনো চলছে ‘চূড়ান্ত মূল্যায়ন’। হেভিওয়েট নেতাদের অভিজ্ঞতা ও মর্যাদা থাকলেও মাঠের বাস্তব জনপ্রিয়তা উপেক্ষার প্রবণতা এবার কম।
এ অবস্থায় রাজনৈতিক মহলে একটি প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে—বরিশাল-৩ আসনে কি তবে ‘চমক’ হিসেবে উঠে আসছেন সাত্তার খান ? জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও অপেক্ষায়—বিএনপির চূড়ান্ত তালিকায় কে পাচ্ছেন বরিশাল-৩-এর মনোনয়ন টিকিট।

1 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন