২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার

বরিশালে নদী মেপে ঘটনাস্থল নির্নয়, অবশেষে মামলা রুজুর নির্দেশ,আসামি সাবেক পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী, পুলিশ কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার ঃঃ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচারনার সময় বিএনপির প্রার্থীর সামনে থেকে তার কর্মীকে অপহরন ও নির্যাতনের অভিযোগে মামলা রুজুর আদেশ দিয়েছে আদালত।

মামলায় সাবেক পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী, পুলিশ কমিশনার, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বরিশাল জেলা প্রশাসকসহ ১৪ জনকে অভিযুক্ত করেছেন বাদি।

রবিবার বরিশালের চীফ মেট্টোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট মো. জহির উদ্দিন মামলা রুজুর আদেশ দিয়েছেন বলে বেঞ্চ সহকারী মো. আব্দুর রহমান জানিয়েছেন।

মামলায় আসামিরা হলেন-সাবেক পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও বরিশাল-৫ আসনের একাদশ সংসদ নির্বাচনের মহাজোট মনোনীত প্রার্থী জাহিদ ফারুক শামীম, বরিশাল মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার মো. রুহুল আমিন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বরিশালের জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান, উপ-পুলিশ কমিশনার মোয়াজ্জেম হোসেন ভুইয়া, বরিশাল মহানগর পুলিশের বন্দর থানার ওসি মোস্তফা কামাল হায়দার, পরিদর্শক (তদন্ত) শাহ মো. ফয়সাল আহম্মেদ, এসআই আব্দুল মালেক, এএসআই সহিদুল ইসলাম, এএসআই রাসেল মিয়া, এএসআই এরফান হোসেন মিদুল, এএসআই রফিকুল ইসলাম, এএসআই মোহাম্মদ মিলন বিশ্বাস, এএসআই মেহেদী হাসান মোল্লা ও কনষ্টবল ফয়জুল।

মামলার বাদি মো. মশিউল আলম খান পলাশ বরিশাল জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

মামলার বাদি বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় একটি দুঃসময় সময় ছিলো যে সারাদেশে বিএনপির প্রার্থীরা প্রচারনায় নামতে পারেনি।

ওইসময় বরিশাল-৫ আসনেও একই অবস্থা ছিলো। বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার কোন নেতাকর্মী নিয়ে প্রচারনায় যেতে পারেনি।

তখন বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার সাথে সার্বক্ষনিক কার্যক্রমে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন।

সদর উপজেলার চন্দ্রমোহন এলাকায় লিফলেট বিতরনের জন্য প্রার্থীর সাথে তিনিও রওনা হন।

এসময় তিন দিক থেকে তাদের স্পীডবোটে ধাওয়া শুরু করে। একপর্যায়ে বিশ্বাসেরহাট এলাকায় পৌছলে নদীর ভিতর থেকে প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারের সামনে থেকে সাদা পোষাকের পুলিশ তাকে জোরপূর্বক অপহরন করে।

পরে চোখ বেঁধে একটি অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে তাকে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়।

তিনি আরও বলেন, আমাকে অপহরনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় অপহরনকারী সাদা পোষাকের পুলিশ আমাকে সেদিন মেরে ফেলতে পারেনি।

এরপর বন্দর থানায় নিয়ে আমাকে ২/৩টি মিথ্যা মামলায় আসামি করা হয়।

পলাশ অভিযোগ করেন, তারা এমন নির্যাতন করলো যে এখনো মাঝে মাঝে আমার ব্যাক পেইন হয়।

তিনি বলেন, গত ৫ আগস্টের পরে আদালতে মামলা করেছি। আদালত বন্দর থানার ওসিকে মামলা রুজু করার নির্দেশ দেয়।

ঘটনাস্থল বন্দর থানায় ছিলো, টর্চারও বন্দর থানায় করা হয়। তারপরেও সিভিল প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও জুডিসিয়াল বিভাগ মামলা নিয়ে বিভিন্ন তালবাহানা শুরু করে।

সর্বশেষ কীর্তনখোলা নদীর অপহরণেরস্থল ফিতা দিয়ে পরিমাপ করে ঘটনাস্থল কোতয়ালি মডেল থানায় নিশ্চিত করা হয়।

পরবর্তীতে রবিবার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট কোতয়ালি মডেল থানার ওসিকে মামলাটি এজাহারভূক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

30 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন