২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার

বরিশাল এলজিইডিতে বদলি আদেশ নিয়ে বিতর্ক, নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তদন্তের দাবি

আপডেট: মে ২৩, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক  ঃঃ  স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বরিশালে এক অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিকের বদলি আদেশকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক জটিলতা ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ এনে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।

             (নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান)

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মোঃ এনামুল হক সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পরিপত্র, প্রজ্ঞাপন ও প্রশাসনিক আদেশ লঙ্ঘনের অভিযোগে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, এলজিইডি বরিশাল বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়। অভিযোগ পর্যালোচনার পর গত ১৪ মে ২০২৬ তারিখে জারিকৃত এক অফিস আদেশে তাকে পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় বদলি করা হয় এবং তার স্থলে বরিশাল সদর উপজেলা কার্যালয়ের অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক রেহেনা আখতারকে নির্বাহী প্রকৌশলী কার্যালয়, এলজিইডি, বরিশালে পদায়ন করা হয়।  (অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার এনামুল হক)

ফিস আদেশে ১৯ মে ২০২৬ তারিখ থেকে বদলিকে “স্ট্যান্ড রিলিজ” হিসেবে গণ্য করার কথা উল্লেখ করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওই অনুযায়ী PMIS-এর মাধ্যমে ছাড়পত্র প্রদান করা হয় এবং রেহেনা আখতার ১৯ মে তারিখে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেন।

তবে অভিযোগকারীর দাবি, বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান না করেই মোঃ এনামুল হক পূর্বের কর্মস্থলে অবস্থান অব্যাহত রাখেন। এর মধ্যে ২১ মে ২০২৬ তারিখে এলজিইডি সদর দপ্তর থেকে নতুন একটি অফিস আদেশ জারি হয়, যেখানে তার বর্তমান কর্মস্থল হিসেবে নির্বাহী প্রকৌশলী কার্যালয়, এলজিইডি, বরিশালের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনাকে ঘিরে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও বিধি অনুসরণের বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, মোঃ এনামুল হকে বরিশালে বহাল রাখার জন্য প্রভাবশালী মহলে তদবির করা হয়েছে। নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এনামুল হক বিভিন্ন ঠিকাদারি সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করেন। এছাড়া অর্থ লেনদেন ও অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগও উত্থাপন করেছেন অভিযোগকারী।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বদলি আদেশ, স্ট্যান্ড রিলিজ, PMIS তথ্য এবং পরবর্তী অফিস আদেশের মধ্যে কোনো অসঙ্গতি থাকলে তা তদন্তের মাধ্যমে নিরসন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে উত্থাপিত আর্থিক অনিয়ম ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগগুলোও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়া উচিত।
এ বিষয়ে এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী। এ বিষয়ে  নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম,লেনদেন  ও প্রভাব খাটানোর  বিষয় জানতে চাইলে  তিনি উপরোক্ত বিষয়  অস্বীকার করেন।

72 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন