
আপডেট: আগস্ট ১০, ২০২৬
খবর বিজ্ঞপ্তি ঃঃ ৫ আগষ্ট ২০২৬ সাল। ছাত্র জনতার গণ অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্ণ হলো।২০২৪ সালের এই দিনে ছাত্র জনতার গণ অভ্যুত্থানে, স্বৈরাচার শেখ হাসিনা তার রাজত্ব হারিয়ে দিল্লিতে পলায়ন করেন। কিন্তু এ গণ অভ্যুত্থান কি এতটাই সহজ ছিল। না, তার পরাজয়ের পিছনে রয়েছে দীর্ঘ সতেরো বছরের জুলুম, নির্যাতন, ঘুম,খুন, হত্যা, আলেম ওলামাদের দমন পীড়ন নির্যাতন, বিডিয়ার হত্যা কান্ড, ২০১৩ সালের মতিঝিলে রক্তাক্ত শাপলা চত্বর, জামাত নেতাদের অন্যায় ভাবে ফাঁসি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নেতা কর্মীদের অন্যায় ভাবে মিথ্যা হামলা মামলা, তিন তিনটা অবৈধ নির্বাচন, ব্যাংক লুট অবৈধ টাকা পাচার, ইত্যাদি
সর্বশেষ অবৈধ কোটার রায়ের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলন, শুরু হলে বিক্ষিপ্ত ছাত্র জনতাকে সাথে নিয়ে এক বিপ্লবের মাধ্যমে ১৪০০ শহীদ ও ৩০,০০০ আহত হয়ে স্বৈরাচার হাসিনাকে ক্ষমতা চুক্ত করতে সক্ষম হয় বাংলার জনগণ।
সেই দিনের ভয়াবহ দিনগুলো কথা প্রসঙ্গে জুলাই যোদ্ধা।
রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজ বলেন
আমি ঢাকা কাওরান বাজার এলাকায় সম্মুখ সারির একজন জুলাই যোদ্ধা। ১৮ জুলাই কম্পিলিট সার্ট ডাউনের সময় ঢাকা কাওরান বাজার এলাকায় মেট্রোরেলের নীচে আন্দোলনরত অবস্থায় আহত হই।
এবং আমরাই পাঁচ আগষ্ট বিজয় স্মরণিতে প্রথম শেখ মুজিবের মূর্তি ভেঙে বিজয় উল্লাস করেছিলাম।কিন্তু পাঁচ আগস্ট কাওরান বাজার এলাকা ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষস্থল গুলোর মধ্যে একটি। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, সাউন্ড গ্রেনেড, রাবার বুলেট, টিয়ার গ্যাস, অন্ধকারচ বাংলার নগর জুড়ে চলতে থাকে পুলিশের সাথে চলতে থাকে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। বিভিন্ন স্থানে আহতরা দীর্ঘ সময় সড়কে পড়ে থাকতে দেখা যায়। এবং একাধিক মরদেহ পড়ে থাকার দৃশ্য স্থানীয়দের আতঙ্কিত করে তোলে পুরো এলাকা। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে অনেকেই নিহত ও আহতদের উদ্ধারে এগিয়ে যেতে সাহস পাননি।
হাসিনা সরকারের পতনের প্রাক কালে কারওয়ান বাজার মেট্রোরেল বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সড়কে ব্যারিকেড, পোড়া যানবাহন, ছড়িয়ে থাকা ইট-পাথর ও গুলির খোসা এলাকায় এক বিভীষিকাময় পরিবেশ সৃষ্টি হয়। দিনের পর দিন যাতায়াতের পরিচিত সড়কগুলো যেনো মুহূর্তেই পরিণত হয় রক্তাক্ত এক অচেনা স্মৃতির সাক্ষীতে।
জুলাই যোদ্ধা রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজ আর ও বলেন। সেদিন গুলির গোলা বারুদের প্রকট শব্দ, ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়। মানুষের আর্তচিৎকারে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হতে থাকে। অনেক পরিবার ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘরের ভেতরে আতঙ্কে অবস্থান করেন। আহত দের হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রেও নানা বাধার মুখোমুখি হতে হয় স্বজনদের।
পরবর্তীতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা, গণমাধ্যম ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের সহিংসতায় সব চেয়ে বেশি প্রাণহানির অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে যাত্রাবাড়ী সাইন্স ল্যাব উত্তরা মিরপুর রামপুরা ও কাওরান বাজার কে উল্লেখ করেছেন।
ওই দিনের নির্মম ঘটনাগুলো শুধু স্থানীয়দের নয়, বরং পুরো দেশের গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসে এক গভীর ক্ষত হয়ে ইতিহাসে সাক্ষী স্মৃতি হয়ে আছে।
আজ ৫ আগষ্ট গণ ২০২৬ সাল। অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে চিনমন্ত্রি সম্মেলন কেন্দ্রে ২৪ জুলাই যোদ্ধা ঐক্য ফাউন্ডেশন উপস্থিত ছিল। অনুষ্ঠান শেষে রায়েরবাগ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে পাশে জুলাই শহীদের শ্রদ্ধা পুস্প অর্পণ ও দোয়া মুনাজাত করা হ৫ আগস্ট ফিরে এলে শহীদ পরিবার ও আহতরা আজও স্মরণ করেন সেই বিভীষিকাময় দিন গুলোকে—যে দিন মা তার সন্তান কে হারিয়েছে, বোন তার ভাইকে হারিয়েছে, এবং অনেকের জীবন পঙ্গুত্ব বরণ করে সমবেদনার জীবন যাপন অতিবাহিত করছেন। বহু পরিবারের জীবনে চিরতরে হাসি আনন্দ কেড়ে নিয়াছে ২৪ জুলাই আগস্ট। ইতিহাসের সেই নির্মম স্মৃতি গুলো মনে করিয়ে দেয়, রাষ্ট্রীয় সহিংসতার মূল্য শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষকেই সবচেয়ে বেশি দিতে হয়েছে । দিন শেষে ভালো থাকুক সকল জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবার। তাদের সুস্থতা ও শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন ২৪ জুলাই যোদ্ধা ঐক্য ফাউন্ডেশন।