সৌদি গিয়ে সর্বস্বান্ত, দেশে ফিরে রক্তের ওপর বেঁচে আছেন রমজান

আপডেট: August 20, 2026

স্টাফ রিপোর্টার ঃঃ ভালো জীবনের আশায় ধারদেনা করে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন বরিশাল নগরীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইছাকাঠি এলাকার রিকশাচালক আব্দুল মোতালেবের ছেলে মো. রমজান তালুকদার (২৬)। স্বপ্ন ছিল বিদেশে কাজ করে পরিবারের অভাব ঘোচাবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন পরিণত হয়েছে দুর্বিষহ বাস্তবতায়। সৌদি আরবে প্রত্যাশিত কাজ না পেয়ে দীর্ঘদিন চরম অর্থকষ্টে থাকার পর অসুস্থ অবস্থায় দেশে ফেরেন তিনি। দেশে ফেরার পরও আর সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি রমজান।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট দালাল মোতালেবের মাধ্যমে কাজের সন্ধানে সৌদি আরবে যান রমজান। বিদেশ যেতে ধারদেনা করে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে তার পরিবার। সৌদি আরবে গিয়ে প্রত্যাশিত কাজ না পাওয়ায় চরম অর্থকষ্টের মধ্যে দিন কাটাতে হয় তাকে। প্রায় ১৭ মাস প্রবাসে থাকার পর অসুস্থ অবস্থায় দেশে ফেরেন তিনি। দেশে ফেরার পর ধীরে ধীরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে।
পরিবারের দাবি, একপর্যায়ে রমজানের শরীরে রক্ত উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে প্রতি মাসে নিয়মিত রক্ত দিতে হচ্ছে তাকে। পাশাপাশি চিকিৎসা চালিয়ে যেতে প্রতি মাসে প্রায় ২০ হাজার টাকার ওষুধ প্রয়োজন হচ্ছে। পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় নিয়মিত চিকিৎসার ব্যয় বহন করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। অধিকাংশ সময় শয্যাশায়ী অবস্থায় কাটছে তার।
একসময় বিদেশে গিয়ে পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখা এই তরুণ এখন নিজের চিকিৎসার খরচ নিয়েই দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। নিয়মিত রক্ত ও ওষুধের ওপর নির্ভর করে কোনোভাবে জীবনযাপন করছেন তিনি।
রমজানের চাচা মো. হারুন তালুকদার বলেন, “রমজান পরিবারের অভাব দূর করার জন্য বিদেশে গিয়েছিল। সেখানে গিয়ে ঠিকমতো কাজ পায়নি। অনেক কষ্ট করে দেশে ফেরার পর তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। এখন প্রতি মাসে রক্ত দিতে হয় এবং ওষুধ কিনতে হয়। আমাদের পরিবারের পক্ষে এই খরচ চালানো সম্ভব হচ্ছে না।”
রমজানের বাবা রিকশাচালক আব্দুল মোতালেব বলেন, “ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর জন্য ধারদেনা করে পাঁচ লাখ টাকা খরচ করেছি। আশা ছিল ছেলে কাজ করে সংসারের হাল ধরবে। কিন্তু অসুস্থ হয়ে দেশে ফিরে এখন নিজেই চিকিৎসার জন্য অন্যের সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল। আমি রিকশা চালিয়ে সংসার চালাই। ছেলের চিকিৎসার এত টাকা জোগাড় করা আমার পক্ষে অসম্ভব।”
তিনি আরও বলেন, “আমার ছেলের চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবান মানুষ ও সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। নিয়মিত রক্ত ও ওষুধের খরচ জোগাড় করতে না পারলে তার চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে যাবে।”
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, রমজানের পরিবারের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে রিকশা চালিয়ে সংসার চালাচ্ছেন। ছেলের চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে পরিবারটি চরম সংকটে পড়েছে। রমজানের চিকিৎসায় সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও মানবিক সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
পরিবারের সদস্যরা জানান, রমজানের রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ এবং নিয়মিত চিকিৎসা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তার প্রয়োজনীয় রক্ত ও ওষুধের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। পরিবারের হিসাবে, দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসায় প্রায় ২৫ লাখ টাকা প্রয়োজন হতে পারে। রিকশাচালক বাবার পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা সম্ভব নয়। ফলে চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তার আশায় এখন মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে পরিবারটি।
স্বপ্ন নিয়ে সৌদি আরবে যাওয়া রমজানের জীবন এখন থমকে গেছে হাসপাতাল, রক্তের ব্যাগ আর ওষুধের প্যাকেটে। পরিবারের একমাত্র প্রত্যাশা—সঠিক চিকিৎসা ও সহযোগিতা পেলে আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন ২৬ বছরের এই তরুণ।
রমজানের চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তার জন্য যোগাযোগ:
বিকাশ: ০১৬১৫২১১৮৮৯
নগদ: ০১৭৫৭১৭৭৯০৬

39 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন