দুর্ভোগের সুযোগ নিয়ে দাম বাড়ানো অমানবিক:প্রধানমন্ত্রী

Tuesday, March 31st, 2020

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।                                                                                 ছবি: সংগৃহীত
বিজয় নিউজ  :; প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের সরবরাহ ব্যবস্থা এভাবে থাকবে যেন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে থাকে, মানুষের আওতার মধ্যে থাকে; সেটি আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। কারণ মানুষের দুর্ভোগের সুযোগ নিয়ে অযথা দাম বাড়িয়ে মুনাফা নেয়া এটি আসলে অমানবিক হবে। আমি বিশ্বাস করি, আপনারা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি দেখবেন।-খবর বাসস’র

মঙ্গলবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারাদেশের মাঠপর্যায়ের জনপ্রতিনিধি এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া রোধকল্পে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের অংশ হিসেবে সরকার ঘোষিত ছুটি ৯ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে।

তিনি বলেন, আমরা এর আগে ২৬ মার্চ থেকে ১০ দিনের ছুটি ঘোষণা করেছিলাম (৪ এপ্রিল পর্যন্ত) এবং এটি ৯ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে।

বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসকরা (ডিসি) ছাড়াও ভিডিও কনফারেন্সে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছুটি বাড়ানো হতে পারে। কেননা করোনাভাইরাস বিস্তার রোধে ছুটি ঘোষণার পর পরই অনেকেই তাদের গ্রামের বাড়িতে চলে যান। কাজেই এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের কোনো সংক্রমণ যেন না ঘটে, সে জন্য তাদের কোয়ারেন্টিন সময়টা গণনা করে ১৪ দিন করার জন্য ছুটি ৯ তারিখ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের সীমাবদ্ধতার ভিত্তিতে কিছু সেক্টরে ছাড় দিতে হবে।

ছুটি ৯ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়াতে হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেটি বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আমাদের সীমিত আকারে যোগাযোগব্যবস্থা চালু রাখতে হবে। যোগাযোগব্যবস্থা চালু করার জন্য আমরা চিন্তা-ভাবনা করে বলব– কোন কোন ক্ষেত্রে আমরা সেটি ছাড় দেব।

তিনি আরও বলেন, যোগাযোগের (পরিবহন) শ্রমিক শ্রেণি যারা আছেন, তারাও যাতে কষ্ট না পায়, তাদের তালিকা আমি ইতোমধ্যে করতে বলেছি। তাদের যেভাবে সাহায্য করার দরকার, আমরা সেই সাহায্য পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করব।

জনসমাগম এড়াতে আসন্ন ১ বৈশাখের অনুষ্ঠান বাতিল করার কথাও বলেন শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনা বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে জনসমাগম আরও বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। আমাদের বাংলা নববর্ষের উৎসবে এ বছর জনসমাগম হয়, তেমন কিছু করা উচিত হবে না। অবশ্য ডিজিটাল ব্যবস্থায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যেতে পারে। তবে জনসমাগম করে এই অনুষ্ঠান সারা বাংলাদেশে বন্ধ রাখতে হবে।

এর আগে গত ২৩ মার্চ করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধকল্পে সরকার সারাদেশে জরুরি সেবা ছাড়া সব সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ১০ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে।

ছুটির সময় কোনো বিশেষ প্রয়োজন যেমন জরুরি খাদ্য, মেডিকেলসামগ্রী, ওষুধের প্রয়োজন ব্যতীত ঘরের বাইরে যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে ঘরে থাকতে বলা হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, করোনা মোকাবেলায় দেশের মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করাটা জরুরি। আমাদের দেশটা ছোট কিন্তু জনসংখ্যা ব্যাপক। এর পরও আমরা মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে পেরেছি। সে জন্য বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে করোনা নিয়ন্ত্রণ পর্যায়ে রয়েছে।

সবাইকে ঘরে অবস্থানের পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা প্রতিরোধে মানুষের করণীয় বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। আপনারা এসব নির্দেশনা মেনে চলুন। কেননা নিজেদের সুরক্ষা নিজেদেরই করতে হবে।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী করোনার থাবা রয়ে গেছে। আমরা বিশ্ব থেকে দূরে নই। আমাদের আরও সচেতন থাকা দরকার। আমরা আমাদের দেশের মানুষের সুরক্ষার জন্য অনেক আগে থেকেই কাজ করেছি। ভবিষ্যতে যাতে করোনাভাইরাস না ছড়ায় সে জন্য সেদিকেও দৃষ্টি রাখতে হবে।

করোনা উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে কোনো লুকোচুরি করার সুযোগ নেই। লুকোচুরি করলে নিজের জীবনকেই ঝুঁকিতে ফেলে দেয়া হবে। জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে হবে।