ধর্মপাশায় ফসল রক্ষা ডুবন্ত বাঁধ নির্মানে ধীরগতি

Wednesday, February 24th, 2021

গিয়াস উদ্দিন রানা,ধর্মপাশা(সুনামগঞ্জ):; সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় ফসল রক্ষাবাঁধ বাস্তবায়নে ধীরগতি,১৬৯টি প্রকল্পের মধ্যে ২৭টি প্রকল্পের অস্তিত্ব নেই। সিংহভাগ পিআইসিরা প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত না করেই এদিক সেদিক ঘুরাফেরা করছে। এ বছর কাজের মান খুব দূর্বল। আর নির্মান শ্রমিকরা ভ্যাকোমেশিন দিয়ে বাঁধের গুড়া থেকে বড়-বড় মাটির চাকা তুলে এলোমেলো ভাবে বাঁধের উপর ফেলছে। সিংহভাগ বাঁধ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবোর) নীতিমালার তুয়াক্কা না করে বাঁধের কম্পেকশন, স্লোপ ও ড্রেসিং-দুর্মূজ ইত্যাদি না করেই অপরিকল্পিত ও মনগড়া ভাবে প্রকল্পিত স্থানে কাঁদা মাটির চাকা ফেলছে। এসব বাঁধগুলো অপরিকল্পিত ও নির্ম্মমানের।
পিআইসিরা ভ্যাকো মেশিন দিয়ে বাঁধের গুড়া থেকে বড় বড় মাটির চাকা তুলে বাঁধের উপর ফেলছে।
তথ্য গোপন করে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মান ও মেরামত কাজের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। পিআইসির চুরান্ত তালিকায় হাওর/প্রকল্পের নাম, প্রকল্প নম্বর, প্রকল্পের সভাপতি ও সদস্য সচিবের নাম ও মোবাইল নম্বর, কাজের বিবরন,দৈর্ঘ্য (কি.মি) প্রাক্কলিত মূল্য, কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ শুরু ও শেষ করার সময় সীমাসহ অগ্রগতির তথ্য থাকে। কিš‘ গত সোমবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর কার্যালয়ে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ সহকারী প্রকৌশলী মো: ইমরান হোসেন উপজেলা কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির সদস্যদের কাছে পিআইসির যে তালিকা সরবরাহ করেন তাতে ১৬৯টি প্রকল্পের মধ্যে ২৭টি প্রকল্পের তালিকার তথ্য ঘাটতি রয়েছে।
চুড়ান্ত তালিকায় সোনামড়ল হাওরে ৩টি, চন্দ্রসোনারথাল হাওরে ৭টি, গুড়মার হাওরে ১১টি, গুড়মা বর্ধিতাংশে ২টি, গোড়াডোবা হাওরে ২টি ও রুইবিল হাওর প্রকল্পের ২টি সহ মোট ২৭টি পিআইসি কমিটির সভাপতি ও সদস্য সচিবের মোবাইল নম্বর গোপন করা হয়েছে। ফলে ওইসব পিআইসির সভাপতি ও সদস্য সচিবের সাথে কারো কোনো যোগাযোগ বা সত্যতা যাচাইয়ের সুযোগ বিনষ্ট হয়েছে। যদিও নীতিমালা অনুযায়ী গেল বছরের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে এসব কাজের পিআইসি গঠন প্রক্রিয়া ষেশে প্রকাশ করার কথা ছিল হাওর বাঁচাও আন্দোলনের ধর্মপাশা উপজেলা শাখার যুগ্ন আহবায়ক আলাউদ্দিন বলেন, তালিকায় নাম রয়েছে কিš‘ মোবাইল নম্বর না থাকা এক ধরনের শুভংকরের ফাঁকি। যেসকল পিআইসির মোবাইল নম্বর নেই তাদের মোবাইল নম্বর সর্বরাহ করা উচিত। সুনামগঞ্জ পাউবোর উপ সহকারী প্রকৌশলী মো: ইমরান হোসেন বলেন, চুড়ান্ত তালিকায় কয়েকটা নম্বর নেই। সাবমিট (কৃষকের আবেদন) করার সময় ওই নম্বর গুলো ছিল না। যে, কারনে এগুলো ব্যাংকে রয়ে গেছে। এগুলো কালেক্ট করে সরবরাহ করা হবে।
চলতি ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে উপজেলার ৮টি হাওরে ১৭২ কিলোমিটার বেড়ীবাঁধ নির্মানে ১৬৯টি পিআইসি কমিটিকে নির্মান কাজের দায়িত্ব দিলেও সরজমিন অনুসন্ধানে ১৫২টি প্রকল্প পাওয়া গেছে। বাকী ১৭টি প্রকল্পের অস্তিত্ব নেই ১৭টি প্রকল্প ভূয়া। কাবিটা প্রকল্পের অর্থায়ানে ৩২ কোটি ৭২লাখ টাকা ব্যয়ে ১৭৬ কিলোমিটার বাঁধ ১৬৯ টি পিআইসি কমিটির ২৮ ফেব্রুয়ারীর মধ্যে সবগুলো প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা থাকলেও নিদৃষ্ট সময়ে প্রকল্প গুলো বাস্তবায়ন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে ১৭টি কমিটির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি, ওই ১৭টি প্রকল্পই ভূয়া। এসব প্রকল্প নিদৃষ্টি সময়ে বাস্তবায়ন অনিশ্চিত।
গুড়মা প্রকল্পের আওতায় পাশুয়া হাওর উপ প্রকল্প নং ১৪২,প্রকল্প নং প্রকল্পের অস্তিত্ব খোঁজে পাওয়া যায়নি। প্রকল্প নং ১৩৯, প্রকল্প নং ১৩৮, প্রকল্প, ধারাম হাওর রক্ষা বাঁধ উপ প্রকল্প নং ১০৪, প্রকল্প নং ১০৫, সোনারতাল হাওর উপ প্রকল্প নং ৫৫, পিআইসি, জয়দনা হাওর উপ প্রকল্প নং ৯, পিআইসি, সোনামড়ল হাওর উপ প্রকল্প ৩৪ নং পিআইসি, সোনামড়ল হাওর উপ প্রকল্প নং ৪৯, পিআইসি, নং ৫৭, পিআইসি, সোনামড়ল হাওর উপ প্রকল্প নং ১৫৬, ধানকুনিয়া হাওর উপ প্রকল্প নং ৫, ওই প্রকল্পের পিআইসি, মাটির পরিবর্তে বালু (বিট বালু) দিয়ে দায়সারা ভাবে বাঁধ নির্মান করেছে। সামান্য বৃষ্টির পানিতেই বাঁধটির বালু নদীতে চলে যাবে। ওই বাঁধ বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি (পিআইসি) মাসুদ রানা। সাবেক ইউপি সদস্য।
কালীয়ানী হাওর উপ প্রকল্প নং ১৩, প্রকল্প নং ২২, জয়ধনা হাওর উপ প্রকল্প নং ৮, প্রকল্প নং , চন্দ্র সোনারতাল হাওর উপ প্রকল্প নং ৩৯, পিআইসি, সোনামড়ল হাওর উপ প্রকল্প নং ৩৪, কালীয়ানী হাওর রক্ষা বাঁধ উপ প্রকল্প নং ১৭, পিআইসি ভ্যাকো মেশিন দিয়ে বাঁধের গুড়া থেকে বড় বড় চাকা মাটি তুলে বাঁধের উপর ফেলছে। এতে সামান্য বৃষ্টির হলেই বাঁধের মাটি ভেঙ্গে গর্তটি ভরাট হবে। নীতিমালা বাঁধ নির্মানে কম্পেকশন, স্লোপ, ড্রেসিং,দুর্মূজ কোনটাই করা হয়নি। অপর দিকে বাঁধের ভেতরে মাটির চাকা ভেঙ্গে না দেওয়ায় বাঁধটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ওই দুই পিআইসি স্থানীয় প্রভাব কাটিয়ে দায়সারা ভাবে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মান করছে। পিআইসি কাজে অনিয়ম, ওই বাঁধ গুলো দেখতে খুব সুন্দর হলেও বাঁধের ভেতরে বড় বড় চাকা মাটি দিয়ে বাঁধটি নির্মান করা হয়েছে। এবছর উপজেলার ১৭২টি বাঁধের মধ্যে সিংহভাগ বাঁধ নি¤œ মানের। এসব বাঁধ বাস্তবায়নে পিআইসিরা দায়সারা ভাবে কাজ করছে। চন্দ্র পিআইসি, পিআইসির কাজে অনিয়ম। তাদের বাঁধ গুলো দেখতে খুব সুন্দর কিš‘ু বাঁধের ভেতরে বড় বড় চাকা মাটি দিয়ে বাঁধ নির্মান করছে। গুরুত্বপূর্ণ ২৩ নং পিআইসির টঙ্গীর ক্লোজারটি নির্মানে ব্যাপক অনিয়ম। বড় বড় চাকা মাটি না ভেঙ্গে ওই চাকা দিয়ে ক্লোজারটি নির্মান করছে। ওই প্রকল্প গুলো একেবারে নি¤œ মানের কাজ করেছে অধ্যক্ষ পিআইসিরা নজির বিহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করছে।
পিআইসি জয়শ্রী ইউনিয়নের সরেশ্বতীপুর গ্রামের প্রভাবশালী সারোয়ার জাহান মামুন, সে ভূয়া পিআইসির নাম তালিকাভূক্ত করে ১৪২নং প্রকল্প ও ১৩৮নং প্রকল্পটি নিয়ে ওই দুইটি প্রকল্পের কাজ নি¤œমানের। ওই পিআইসি পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবোর) নীতিমালার তুয়াক্কা না করে দাপটের সহিত গুড়মা প্রকল্পের পাশুয়ার জলমহাল সংলগ্ন হরিপুর সরকারী হিজল-করছ বাগানের ভেতর থেকে ভ্যাকো মেশিন দিয়ে বিশাল আকারের মাটির চাকা তুলে ওই চাকা না ভেঙ্গে বাঁধের উপর ফেলছে। সরকারী হিজল-করছ বাগানের ভেতর বড়-বড় গর্ত করে মাটি তুলে ওই মাটি দিয়ে দায়সারা ভাবে বেড়ীবাঁধ নির্মান করছে। এতে একদিকে সরকারের কোটি কোটি টাকার হিজল-করছ বাগানটি ধবংস করেছে। অপর দিকে গুরুত্বপূর্ণ বাঁধটির কম্পেকশন, ড্রেসিং, স্লোপ ও দুর্মূজ ইত্যাদি কোনটাই করা হয়নি। পিআইসিরা বাড়ীতে বসেই দাপটের সহিত প্রকল্পের কাজ করছে। ওই বাঁধটি ঝুঁকীপূর্ণ হওয়ার আসংখা রয়েছে।
নীতিমালা অনুয পিআইসিরা কমপক্ষে ৩০০মিটার দুর থেকে মাটি এনে বাঁধ নির্মানের কথা থাকলেও তারা নীতিমালার তুয়াক্কা না করে জেনথেন ভাবে বাঁধ নির্মান করছে।
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কনিটরিং কমিটির সভাপতি মোঃ মুনতাসির হাসান তিনি বলেন,
সুনামগঞ্জ জেলা পানি উন্নয়ন রোর্ড (পাউবোর) উপ সহকারি প্রকৌশলী ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব মোঃ ইমরান হোসেন তিনি বলেন, যে, সমস্ত বিল বোর্ডে পিআইসি ও সদস্য সচিবের মোবাইল নম্বর নেই সেগুলো ব্যাংক থেকে সরবরাহ করা হরে। নির্মান কাজে গড়মিল অথবা নীতিমালা উপেক্ষা করে দায়সারাভাবে কাজ করেছে। এসব অভিযুক্ত পিআইসিদের প্রকল্প দেখে বিল দেওয়া হবে।