বরগুনার চাঞ্চল্যকর রিফাত হত্যায় তার স্ত্রী মিন্নিকে জড়িয়ে চার্জশিট হচ্ছে 

আপডেট: August 7, 2019

বরগুনার চাঞ্চল্যকর রিফাত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছেন তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। তিনি এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও মামলার প্রধান সাক্ষী। মিন্নিকে গ্রেফতারের পরই  হত্যা মামলার গতিপ্রকৃতি অন্য দিকে মোড় নেয়।

সূত্রে জানায় , রিফাত হত্যায় তার স্ত্রী মিন্নিকে জড়িয়ে অভিযোগপত্র তৈরি হচ্ছে। চার্জশিটে মিন্নির নাম রাখতে তড়িঘড়ি করছে পুলিশ। বরগুনা পুলিশের কর্তাব্যাক্তিরা এখন ঢাকায় অবস্থান করছেন। ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে মিন্নিকে জড়িয়ে চার্জ গঠন করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। এদিকে রিফাত হত্যার তদন্ত চলছে। তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। রিফাত হত্যার দেড় মাস পরও এই মামলার এজাহারভুক্ত চার আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এ বিষয়ে পুলিশের কোনো তৎপরতাও চোখে পড়ছে না।

বরগুনা জেলা পুলিশের  সূত্র জানায়, পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বরগুনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হুমায়ুন কবির কয়েক দিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করছেন। মামলার অভিযোগপত্রের ব্যাপারে ‘উচ্চপর্যায়ের’ নির্দেশনা নিতে তারা ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

রিফাত শরীফ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ১২ জন। আর সন্দেহভাজন আসামি ৪ থেকে ৫ জন। প্রধান আসামি সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ড গত ২ জুলাই পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। এ মামলায় নয়ন বন্ডের বাইরে এজাহারভুক্ত ৭ আসামি এবং মিন্নিসহ সন্দেহভাজন ৮ আসামি মিলিয়ে গ্রেফতার হয়েছেন ১৫ জন। হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী ও নিহত রিফাত শরীফের স্ত্রী মিন্নিকে প্রধান আসামি করা হলে হত্যার অভিযোগ প্রমাণের ক্ষেত্রে নেতিবাচক

এ বিষয়ে  বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহজাহান বলেন, মামলার তদন্তে অগ্রগতি সন্তোষজনক। বাকি চার আসামিকে ধরতে অভিযান চলছে। অভিযোগপত্র কবে নাগাদ দেয়া হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা তদন্ত কর্মকর্তা বলতে পারবেন। মিন্নিকে এই মামলার কত নম্বর আসামি করা হবে, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি এসপি স্যার জানেন’

মিন্নির বরাত দিয়ে মা মিলি আক্তার জানান, পুলিশের নির্যাতন ও ভয়ে মিন্নি আদালতে পুলিশের লিখে দেয়া জবানবন্দি দিয়েছে। মিন্নিকে ইয়াবা ট্যাবলেট মেশানো পানি খাইয়ে জোর করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেয়া হয়েছে। রিমান্ডের নামে আটকে রেখে রাতভর পুলিশের লিখে দেয়া জবানবন্দি মুখস্থ করানো হয় তাকে। সেই জবানবন্দি না দিলে মা-বাবাকে আটক করে নির্যাতন করা হবে বলেও হুমকি দেয় রিতা নামের এক এএসআই।

১৬ জুলাই মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বরগুনার মাইঠা এলাকার বাবার বাসা থেকে মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তার বক্তব্য রেকর্ড করতে বরগুনা পুলিশলাইনসে নিয়ে যায় পুলিশ। এর পর দীর্ঘ ১০ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাত ৯টায় মিন্নিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পর দিন মিন্নিকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে তার পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। আদালত মিন্নির পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন আদালতের বিচারক মো. সিরাজুল ইসলাম গাজী।

পর দিন বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন সংবাদ সম্মেলনে জানান, মিন্নি তার স্বামী রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এ হত্যার পরিকল্পনার সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন।

এর পর দিন বিকালে মিন্নি একই আদালতে তার স্বামী রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

প্রসঙ্গত বরগুনা সরকারি কলেজের মূল ফটকের সামনের রাস্তায় ২৬ জুন সকাল ১০টার দিকে স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির সামনে কুপিয়ে জখম করা হয় রিফাত শরীফকে। বিকাল ৪টায় বরিশালের শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

এ হত্যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়। হত্যাকাণ্ডের পরের দিন রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম শরীফ বরগুনা থানায় ১২ জনকে আসামি করে মামলা করেন। এ ছাড়া সন্দেহভাজন অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়। এ মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড ২ জুলাই পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। মামলার এজাহারভুক্ত ছয় আসামিসহ এ পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ জনই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

 

197 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন