৩০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার

ভোলায় অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যের পা ভেঙে দিল প্রতিপক্ষরা , থানায় মামলা দায়ের

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২২

ভোলা প্রতিনিধি:: ভোলা সদর উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের রুহিতা গ্রামের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মোঃ আনছার আলী কে রড দিয়ে পিটিয়ে পা ভেঙে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ২৫ জানুয়ারি দুপুরে অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যের উপরে এ হামলার ঘটনা ঘটে । হামলায় পা ভেঙে যাওয়া অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য বৃদ্ধ আনসার আলী বর্তমানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকায় মিলিটারি সামরিক হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এ হামলার ঘটনায় গত ২৯ জানুয়ারি ভোলা সদর মডেল থানায় আহত আনছার আলীর মেয়ে মোসাম্মত নাজমা আক্তার বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন ‌যার নং ৬৪ । মামলার বাদী মোছাম্মত নাজমা আক্তার অভিযোগ করে বলেন ভোলা সদর উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের রুহিতা গ্রামের আব্দুল খালেক গাজীর পুত্র মোঃ কবির গাজী এবং আমরা একই বাড়ির লোক । কবির গাজী দীর্ঘদিন যাবত আমাদের সাথে জমিজমা ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ করে আসতে ছিল। কবির গাজী ও তার গংরা আমাদের কে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা সহ সব সময় হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে থাকে। গত বছরের মার্চ মাসে কবির গাজী লোকজন নিয়ে আমার বাবা ও আমার ভাই কে মারধর করছিলো । সেসময় তাদের বিরুদ্ধে আমরা একটি মামলা দায়ের করি যাহার নং জিআর ৭০২ । এ মামলা করার কারণে কবির গাজী আমার বাবাকে বেশ কয়েকবার হুমকি দিয়েছিল যে লোকজন দিয়ে মারধর করবে । এ মামলা‌ সংক্রান্ত সাক্ষী প্রদান করতে গত ২৫ জানুয়ারি আমার বাবা ভোলা জজ কোর্টে যায়। আমার বাবা আনসার আলী সাক্ষ্য প্রদান শেষ করে কোর্ট থেকে ফেরার পথে দুপুর আড়াইটার দিকে আলীনগর ইউনিয়নের সাচিয়া সাকিনের ৫ নং ওয়াডস্ত নিয়াজের বাসার পূর্ব পাশে রাস্তার উপর দিয়ে বাড়িতে যাওয়ার সময় উজ্জ্বল ও জসিম সহ আরো অজ্ঞাত ৩-৪ জন লোক পূর্বপরিকল্পিতভাবে জনতা বধ্য হইয়া আমার বাবা আনসার আলী কে হত্যার উদ্দেশ্যে আমার বাবার পথ রোধ করে আমার বাবাকে আক্রমণ করে । উজ্জলের হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে আমার বাবাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথার উপর বাড়ি মারলে আমার বাবা উক্ত বাড়ির ফেরানোর চেষ্টাকালে মাটিতে পড়ে যায় । উজ্জ্বল ও জসিম আমার বাবার ডান পা পঙ্গু করার লক্ষ্যে আমার বাবার ডান পায়ের হাঁটুর নিচে লোহার রড দিয়ে বাড়ি মেরে গুরুতর হাড় ভেঙ্গে ফেলে ‌। আমার বাবার সাথে থাকা মোবাইল সেট এবং বাবার পকেট এ থাকা নগদ দেড় হাজার টাকার জোরপূর্বক নিয়ে যায় । আমার বাবার আর্তচিৎকারে আমি সহ আরও এলাকাবাসী জরো হলে হামলাকারীরা আমার প্রান নাশের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বীরদর্পে চলে যায়। ‌আমি এলাকাবাসীর সহযোগিতায় আমার বাবাকে নিয়ে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করি ‌। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য আমার বাবাকে ঢাকা সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় ।

মামলার বাদী মোছাম্মত নাজমা বেগম আরো বলেন কবির গাজীর নির্দেশেই আমার বাবার উপর হামলা করা হয়েছে। হামলার নির্দেশদাতা কবির গাজী মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। সে ঢাকাতে কয়েকবার মদসহ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিল । তার নামে ৭ টি মামলা চলমান আছে। মাসুদ গাজীর বিরুদ্ধে ২ টি মামলা চলমান আছে।

এলাকায় কবির গাজীর নির্দেশে জাকির হোসেন টিপু, আব্দুল খালেক গাজী, মাসুদ গাজী সব সময় আমার বাবার উপর নজরদারি করে। তারা কবির গাজীর সহযোগী ।

এ হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে ভোলা সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ এনায়েত হোসেন বলেন আমি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি ‌। তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে ।

এই হামলার অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত কবির গাজীর সাথে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি ‌।

384 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন