
আপডেট: মার্চ ৩১, ২০২২
ধর্মপাশায় অগভীর নলকূপ(শেলু মেশিন দিয়ে জলমহালের পানি শুকিয়ে মাছ শিকার ছরি- বিজয় নিউজ
গিয়াস উদ্দিন রানা,ধর্মপাশা(সুনামগঞ্জ):; সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় মৌসুমের প্রথম নীতিমালার তোয়াক্কা না করে অগভীর নলকূপ (শ্যালো মেশিন) দিয়ে ইজারাকৃত বিভিন্ন জলমহালের পানি সেচে গত চার সপ্তাহ ধরেচলছে মাছ শিকার। এতে দেশিয় প্রজাতির অনেক মাছ বিলুপ্তি হওয়াসহ জলজ উদ্ভিদ ও জীববৈচিত্র্য বিপন্ন হচ্ছে। পাশাপাশি বোরো জমির সেচকাজও ব্যাহত হওয়ার আশস্ক দেখা দিয়েছে।
এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার চামরদানী ইউনিয়নের অন্তরভূক্ত ছোট গাড়া ও বড় গাড়া জলমহাল, গুড়মার হাওর জলমহাল, জয়শ্রী ইউনিয়নের অন্তরভূক্ত লম্বা বিল, চট্টনিয়া বিল, সোনামড়ল হাওর জয়ধনা বিল,লুঙ্গা তুঙ্গা, মুক্তারখলা,সোনাডুবি, কীর্ত্তনখলাসহ এ উপজেলার অধিকাংশ জলমহালে অগভীর নলকূপ বসিয়ে পানি সেচে মাছ শিকার করা হচ্ছে। ফাগুনের মাঝামাঝি সময় থেকে বৈশাখ মাসের ১৫/২০ তারিখ পর্যন্ত চলে বিল সেচার হিরিক।
উপজেলার দক্ষিন বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের রৌহা গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুল ইসলাম বলেন, যেভাবে সেলু মেশিন বসিয়ে জলমহাল শুকিয়ে মাছ শিকার করছে, এতে আগামি ২/৩ বছর পর দেশীয় প্রজাতি মাছের ডিমও পাওয়া যাবে না।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের ধর্মপাশা উপজেলা কমিটির যুগ্ন আহবায়ক আলা উদ্দিন বলেন, জলমহালগুলোর পানি সেচে মাছ শিকার করায় হাওর এলাকার বিভিন্ন জলজ উদ্ভিদ দিন দিন কমে যাচ্ছে। অপর দিকে ভারতের মেঘালয় পাহারের পলিমাটি মিশ্রীত ঢলের পানি বিপদ সীমায় প্রবাহিত হয়ে ওই পলিমাটির পানিতে সরকারী জলমহালগুলো ভরাট হওয়ায় জলমহাল ইজারাদাররা আর্থীক ভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। উপজেলার যেসমস্ত জলমহালগুলো পলিমাটিতে ভরাট হয়েছে সেগুলো জলমহাল দ্রুত খননের প্রয়োজন। অন্যাতায় সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হওয়ার আসংখা দেখা দিয়েছে।
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মুনতাসির হাসান তিনি বলেন, জলমহালের পানি সেচে মাছ শিকার করা সম্পূর্ণ বেআইনি। জলমহালের পানি সেচে মাছ শিকারের অপরাধে ইতিমধ্যে একাধিক ব্যক্তিকে ধরে এনে জেল জরিমানা করেছি। সরকারি জলমহালগুলোর মধ্যে যেসব জলমহাল পলিমাটিতে ভরাট হয়েছে সেগুলো খননের জন্য স্কিমের আওতায় আনা হবে।