১৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার

এলজিইডি বরিশাল অফিসের নিয়ন্ত্রক বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের নেতা রহমত-ই-খুদা

আপডেট: জুন ১৫, ২০২৬

স্টাফ  রিপোর্টার ঃঃবিভাগীয়, আঞ্চলিক ও জেলা কার্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বরিশাল বিভাগ, অঞ্চল ও জেলা কার্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের নেতা এবং এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রহমত-ই-খুদার বিরুদ্ধে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মোঃ রহমত-ই-খুদা বর্তমানে এলজিইডি বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি বরিশাল জেলায় প্রকল্পের সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন সময়ে বরিশাল জেলার এলজিইডি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

যশোর জেলার বাসিন্দা হলেও তিনি বর্তমানে বরিশালে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। দীর্ঘদিন বরিশালে কর্মরত থাকার সুবাদে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে তিনি ক্ষমতার বলয়ের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।

অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন বরিশাল অঞ্চলের আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল হয়ে আওয়ামীপন্থী কিছু ঠিকাদার গোষ্ঠীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। স্থানীয় মহলের একাংশের দাবি, বরিশাল জেলার এম মাহফুজ খান, কোহিনুর এন্টারপ্রাইজ, ভোলা জেলার পিটার এবং পটুয়াখালীর মহিউদ্দিনের সঙ্গে তার ঠিকাদারি কাজের অংশীদারিত্ব রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সূত্র জানায়, নিজেকে আরও প্রভাবশালী অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে তিনি বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের ১০১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটিতে তার সদস্য নম্বর ৫৭। সংগঠনটির সভাপতি প্রফেসর ড. প্রকৌশলী মোঃ হাবিবুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মোঃ নুরুজ্জামান স্বাক্ষরিত ২ নভেম্বর ২০২৩ সালের এক আদেশে কমিটি অনুমোদিত হয়।

অভিযোগকারীদের দাবি, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার পর থেকে তিনি বরিশাল বিভাগীয়, আঞ্চলিক ও জেলা পর্যায়ের নির্বাহী প্রকৌশলীদের কার্যালয়ের বদলি, পদায়ন এবং প্রশাসনিক বিভিন্ন বিষয়ে প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেন। এমনকি বদলি-তদবির বাণিজ্যসহ বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, বরিশাল অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর পদ শূন্য হলে তিনি প্রভাব খাটিয়ে একাধিকবার ওই দায়িত্ব পালন করেছেন। যদিও ওই কার্যালয়ে তার চেয়ে সিনিয়র নির্বাহী প্রকৌশলী কর্মরত ছিলেন। অভিযোগকারীদের মতে, সিনিয়র কর্মকর্তাদের উপেক্ষা করে জুনিয়র হওয়া সত্ত্বেও তিনি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

এছাড়া প্রধান কার্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও তিনি প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বদলির বিধান থাকলেও বরিশাল অঞ্চলে অনেক কর্মকর্তা পাঁচ বছরেরও বেশি সময় একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বদলিসংক্রান্ত কোনো আদেশ জারি হলে নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রহমত-ই-খুদা প্রধান কার্যালয়ের প্রশাসন শাখাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ওপর আদেশ পরিবর্তন বা বাতিলের জন্য বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করেন। এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ের প্রশাসন শাখার একটি সূত্রও বিষয়টির ইঙ্গিত দিয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থানীয় পর্যায়ের একাধিক ব্যক্তি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও তাদের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত কিছু ব্যক্তি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে সক্রিয় রয়েছেন। তাদের মতে, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের নেতা মোঃ রহমত-ই-খুদাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো সেই বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে।

তবে এ বিষয়ে মোঃ রহমত-ই-খুদার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।

53 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন