বরিশাল-ভেদুরিয়া নৌপথে ‘সাংঘর্ষিক’ সময়সূচি নিয়ে উত্তেজনা নতুন দুই লঞ্চের সময়সূচি বাতিলের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ; তদন্ত না হলে ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি

আপডেট: August 17, 2026

কামরুল হাসান রাসেলঃঃ বরিশাল-ভেদুরিয়া (ভোলা) নৌপথে বিদ্যমান ২০টি লঞ্চের সময়সূচির সঙ্গে সাংঘর্ষিকভাবে নতুন দুটি লঞ্চের সময়সূচি অনুমোদনের অভিযোগ উঠেছে। এ সময়সূচি বাতিল, অনুমোদন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নতুন সময়সূচি কার্যকর না করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল যাত্রী পরিবহন সংস্থা (লঞ্চ মালিক সমিতি), বরিশাল জোন।
একই সঙ্গে নতুন সময়সূচি অনুমোদনে রাজনৈতিক প্রভাব ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন নৌরুটে ধর্মঘটসহ কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুর ১২টায় বরিশাল নদীবন্দর ভবনের দ্বিতীয় তলায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি ও অভিযোগ তুলে ধরেন লঞ্চ মালিক সমিতির নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সমিতির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল হক আক্কাস বলেন, অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে নিয়ম-কানুন মেনে বরিশাল-ভেদুরিয়া নৌপথে লঞ্চ পরিচালনা করে যাত্রীসেবা দিয়ে আসছেন তারা। বর্তমানে এ নৌপথে ২০টি লঞ্চ নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চলাচল করছে। কিন্তু বিদ্যমান সময়সূচিকে উপেক্ষা করে নতুন দুটি নৌযানের জন্য এমন সময়সূচি অনুমোদন করা হয়েছে, যা পুরোনো সময়সূচির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
মালিক সমিতির দাবি, বর্তমানে বরিশাল থেকে সকাল ৫টা ১৫ মিনিটে লঞ্চ চলাচল শুরু হয়ে রাত ৭টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত এবং ভেদুরিয়া থেকে সকাল ৫টা ৪০ মিনিটে শুরু হয়ে রাত ৭টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত যাত্রী পরিবহন করা হয়। নৌযানগুলো প্রায় ৪৫ মিনিট পরপর চলাচল করে।
তাদের অভিযোগ, নতুন দুটি লঞ্চকে বিদ্যমান লঞ্চগুলোর সময়সূচির মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিটের ব্যবধানে চলাচলের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এতে নৌপথের স্বাভাবিক ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি যাত্রী পরিবহনে প্রতিযোগিতা ও নৌযানগুলোর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এতে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে বিশেষভাবে এমভি ইবনাত-২ ও এমভি ইবনাত-৪-এর সময়সূচি অনুমোদনের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। লঞ্চ মালিক সমিতির অভিযোগ, বিদ্যমান সময়সূচি, নৌপথের সক্ষমতা ও বাস্তব পরিস্থিতি যথাযথভাবে বিবেচনা না করেই নতুন দুই নৌযানের সময়সূচি অনুমোদন করা হয়েছে।
মালিক সমিতির নেতারা আরও অভিযোগ করেন, নতুন সময়সূচি অনুমোদনের আগে বরিশাল জোনের লঞ্চ মালিক সমিতির সঙ্গে প্রয়োজনীয় আলোচনা ও সমন্বয় করা হয়নি। এ বিষয়ে সমিতির পক্ষ থেকে একাধিকবার লিখিতভাবে আপত্তি জানানো হলেও তা যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাদের।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে নতুন সময়সূচি অনুমোদনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগও তোলা হয়। মালিক সমিতির নেতাদের দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে অভিযোগের সত্যতা ও প্রকৃত পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে। তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
লঞ্চ মালিক সমিতির নেতারা বলেন, বর্তমানে নদীপথে যাত্রী সংকট, অবৈধ ট্রলার ও স্পিডবোটের দৌরাত্ম্যসহ নানা সমস্যার কারণে লঞ্চ মালিকরা কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। এর মধ্যে বিদ্যমান সময়সূচির সঙ্গে সাংঘর্ষিকভাবে নতুন নৌযান পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হলে পুরোনো লঞ্চ মালিকরা আর্থিকভাবে আরও ক্ষতির মুখে পড়বেন।
তাদের দাবি, এমভি ইবনাত-২ ও এমভি ইবনাত-৪-এর বিতর্কিত সময়সূচি অবিলম্বে স্থগিত ও বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে অনুমোদন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ তদন্ত করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নতুন সময়সূচি কার্যকর করা যাবে না।
এ ছাড়া রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাবমুক্তভাবে নৌরুট পরিচালনা এবং ভবিষ্যতে কোনো নতুন সময়সূচি নির্ধারণের আগে সংশ্লিষ্ট লঞ্চ মালিক সমিতির সঙ্গে বাধ্যতামূলক আলোচনা ও সমন্বয়ের দাবি জানানো হয়।
লঞ্চ মালিক সমিতির নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তাদের দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন নৌরুটে ধর্মঘটসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। নৌপরিবহন খাতে অনিয়ম, প্রভাব বিস্তার ও স্বেচ্ছাচারিতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলেও জানান তারা।
সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অভিযোগগুলো দ্রুত নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, নৌপথে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিরাপদ নৌযান চলাচলের পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।
সংবাদ সম্মেলনে কামরুল ইসলাম পান্না, সাইফুল আলম মুন্না, মো. মানিক বেপারী, মেহেদী হাসান সিদ্দিক, শেখ আবুল হাসেম, শেখ আব্দুস সামাদ, মো. বজলুর রহমান, আব্দুস সাত্তার, মো. একওন আলী, খাজা মো. ইকবাল, গৌতম বাবুসহ লঞ্চ মালিক সমিতির অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

28 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন