একই বৃন্তে দুই ফুল

আপডেট: September 28, 2026

ফকির সাইফুল ইসলাম ঃঃ

দুই ভাই -দুই মেরুর – একজন তোফাজ্জল হক খোকা চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা।
অপরজন আপন সহোদর। ।  শ্রদ্ধেয় বড় ভাই ফজলুল হক চৌধুরী কুটটি মনা। তিনি ছিলেন পাকিস্তান পার্লামেন্টারি সদস্য। তার মৃত্যুতে পাকিস্তান সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছিল। স্বাধীন বাংলাদেশে না। তার মৃত্যুও হয়েছিল এই স্বাধীন বাংলাদেশে।

এড. ফজলুল হক চৌধুরী কুটটি মনা এবং অ্যাডভোকেট তোফাজ্জল হক খোকা চৌধুরী একই বাপের সন্তান। বাড়ি হিজলা উপজেলার বড়জানিয়া ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের চৌধুরী বাড়ির সন্তান । তার স্মৃতি স্বরূপ বিসিডি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এখনও দাঁড়িয়ে আছে।
জীবদ্দশায় দু ভাই একত্রে সামাজিক অনুষ্ঠানে এক হতে পারেননি। এক হতে পারেননি ভাই ভাই এক টেবিলে।জীবদ্দশায় হয়নি দু ভাইয়ে চোখাচোখি।  নিজগৃহে তারা ছিলেন পরস্পর শত্রু। কারন মুক্তিজোদ্ধা বনাম রাজাকার।
আসল ঘটনা কি?
তোফাজ্জল হক খোকা চৌধুরী  ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং মুক্তিযুদ্ধের (৯ নং সাবসেক্টর কমান্ডার) বরিশাল অঞ্চলের সাবজেক্টর কমান্ডার।
অপরজন ছিলেন পাকিস্তানপন্থী আগাগোড়া পাকিস্তান রাষ্ট্রের সমর্থক। মন্ত্রী। এখানেই বিরোধ। পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ নয়। বিরোধ নয় ভাইয়ে ভাইয়ে। স্বাধীন বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান রাষ্ট্র – এ দুটোই তাদের বিরোধের মূল কারণ। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দুই ভাই এক টেবিলে ভাত খেতে পারেন নি।
২৪ জুলাই ! দুই ভাই বেঁচে নেই ! থাকলে হয়তো বা দুজনেই এক টেবিলে ভাত খেতেন!
বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর একটি কথা মনে পড়ে। মুক্তিযুদ্ধ আমার মা। আমি সেই গর্ভের সন্তান। মুক্তিযুদ্ধ ৭১ অস্বীকার করি কিভাবে?
স্বাধীন বংলাদেশে অনেক সংগ্রাম হয়েছে। —–
পাঠকদের বলছি ২৪ জুলাই স্মরণীয়, ৯০ এর গণঅভ্যুত্থান বরণীয়। ডাক্তার মিলন হত্যা স্মরণীয়। ৭১ কি পূজনীয়?  আমরা কাকে বাদ দেব!
ইতিহাসের এ দায়বদ্ধতা কার? এর সমাধান কোথায়? এর উত্তর কি? বাংলাদেশ, বাঙালি জাতি, এর উত্তর কোথায় পাবেন!

16 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন