
আপডেট: November 3, 2026
স্টাফ রিপোর্টার ঃঃ মেঝেতে অলৌকিকভাবে দুটি কবর জেগে ওঠার প্রচারণা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নজরে আসে উপজেলা প্রশাসনের। অবশেষে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে সেই আলোচিত দুটি কবর। কবর দুটি নিজেই তৈরি করেছেন বলে প্রশাসনের কাছে স্বীকার করেছেন সজীব বেপারী।
মঙ্গলবার বিকেলে আগৈলঝাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিল হোসেন তমাল ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান সরেজমিনে উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের কদমবাড়ি গ্রামের ওই বাড়িতে যান। সেখানে বসতঘরের মেঝেতে তৈরি করা দুটি কবর দেখতে পান তারা।
এ সময় সজীব বেপারী ও তার মা শিউলী বেগমের সঙ্গে কথা বলেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সজীব নিজেই কবর দুটি তৈরি করেছেন বলে স্বীকার করেন। পরে প্রশাসনের উপস্থিতিতে তিনি নিজ হাতে কবর দুটি খুঁড়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেন। তবে কী উদ্দেশ্যে তিনি কবর দুটি তৈরি করেছিলেন, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
এ ধরনের কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতে আর করবেন না—এ মর্মে সজীব বেপারী ও তার পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের কদমবাড়ি গ্রামের ভ্যানচালক ছালাম বেপারীর ছেলে সজীব বেপারী প্রায় ছয় মাস ধরে কথিত ধ্যানে বসে বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। প্রতিদিন তার কাছে প্রায় অর্ধশত নারী-পুরুষ চিকিৎসা নিতে আসতেন। প্রতি সোমবার রাতে রোগীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যেত।
এরই মধ্যে গত ২৬ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে এবং একই দিন রাত ১২টার দিকে সজীবের বসতঘরের মেঝেতে অলৌকিকভাবে দুটি কবর জেগে উঠেছে বলে প্রচার চালায় তার পরিবার। কবর দুটি বড় পীর আবদুল কাদের জিলানী ও খাজা মঈনুদ্দিন চিশতীর বলে দাবি করেন সজীব।
এমন খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে কবর দুটি দেখতে সজীবের বাড়িতে উৎসুক মানুষের ভিড় জমতে থাকে। একই সঙ্গে তার কাছে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষের সংখ্যাও বাড়তে থাকে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়।
আগৈলঝাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিল হোসেন তমাল বলেন, এ ধরনের একটি ঘটনা জানার পর তাঁরা ঘটনাস্থলে যান। মানুষ যাতে প্রতারিত না হয়, সে জন্য সজীব বেপারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তিনি কবর দুটি নিজে তৈরি করেছেন বলে স্বীকার করেন। পরে নিজের তৈরি কবর নিজেই ভেঙে গুঁড়িয়ে দেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ আর করবেন না বলে সজীব ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।