
আপডেট: October 26, 2026
আপডেট:
বিএডিসির সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের আওতায় ২০২৫-২৬ মৌসুমে ভারত থেকে ৩০০ টন বীজ আমদানির কার্যাদেশ দেওয়া হয়। প্রথম চালানে আসে ২০০ টন। অভিযোগ, বীজের অঙ্কুরোদ্গম ক্ষমতা কম হওয়ায় বিক্রি বাধাগ্রস্ত হয়। পরে তৎকালীন কৃষি সচিবের হস্তক্ষেপে বাকি ১০০ টন আমদানি বন্ধ করা হয়।
অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, আমদানি করা বীজের অঙ্কুরোদ্গম ক্ষমতা ছিল ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ। দীর্ঘদিন সংরক্ষণে তা ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশে নেমে আসতে পারে। তবে এ দাবি যাচাই করতে ব্যাচভিত্তিক পরীক্ষা ও স্বীকৃত পরীক্ষাগারের প্রতিবেদন প্রয়োজন।
২০২৬ সালের ৮ অক্টোবরের প্রাক্সভায় ২০২৬-২৭ মৌসুমে বিক্রির জন্য বি-৩৩৫৫ জাতের মজুত ২৬৩ টন দেখানো হয়। আগের হিসাব অনুযায়ী মজুত থাকার কথা ১৭৮ টন। অভিযোগকারীরা অতিরিক্ত ৮৫ টনের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং বিভিন্ন জাতের বীজ মেশানোর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এ ঘটনায় ঠাকুরগাঁও কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মনোয়ারুল ইসলামের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও করা হয়েছে।
তবে মজুতের এই পার্থক্য থেকেই বীজ মেশানোর অভিযোগ প্রমাণিত হয় না। নতুন করে বীজ সংগ্রহ, অন্য গুদাম থেকে স্থানান্তর বা হিসাব সমন্বয় করা হয়েছিল কি না, তা গুদাম রেজিস্টার, চালান ও স্থানান্তর নথি যাচাই করে নিশ্চিত হতে হবে।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, একই জাতের বীজ আমদানিতে ৪ কোটি ৭ লাখ ২৫ হাজার টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। টেন্ডার আইডি ১৩০৪৮০৪। বঙ্গো অ্যাগ্রিটেক লিমিটেডকে কাজ দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। আগের বীজের বড় অংশ অবিক্রীত থাকা এবং মান নিয়ে প্রশ্নের পরও নতুন ক্রয়ের প্রয়োজনীয়তা নিয়েই মূল সংশয়।
এ বিষয়ে চাহিদাপত্র, অনুমোদিত ক্রয় পরিকল্পনা, দরপত্র মূল্যায়ন, কার্যাদেশ, সরবরাহকারীর যোগ্যতা ও বিদ্যমান মজুত যাচাই করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ই-জিপি রেকর্ড, অনুমোদন এবং সরকারি ক্রয়বিধি অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। অভিযোগপত্রে উপপরিচালক মো. মনোয়ার হোসেন খান, পরিচিতি নম্বর ০২০৩৫৭-এর মাধ্যমে ক্রয় আদেশ বা কোটেশন-সংক্রান্ত কাগজপত্র পাঠানো এবং ২০২৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বরের স্মারক নম্বর ১৫৫-এর উল্লেখ রয়েছে।
বীজের মান, গুদামভিত্তিক মজুত, বিক্রির হিসাব, ৮৫ টনের পার্থক্য ও নতুন ক্রয় উদ্যোগ নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। গুদামে থাকা বীজের নমুনা পরীক্ষার পাশাপাশি আমদানি, বিক্রি ও স্থানান্তরের নথি যাচাই করা দরকার। প্রকল্প পরিচালক মো. হুমায়ুন কবির, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
ত