২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার

বিএসএমএমইউতে খালেদা জিয়ার দাঁতের চিকিৎসা নিঃশর্ত মুক্তি দিয়ে সুচিকিৎসার দাবি বিএনপির

আপডেট: জুলাই ২৮, ২০১৯

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের কেবিন ব্লকে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দাঁত পরীক্ষা করেছেন দন্ত বিভাগের চিকিৎসকরা। কঠোর নিরাপত্তায় শনিবার দুপুর দেড়টার পর খালেদা জিয়াকে কেবিন ব্লক থেকে নিচে নামানো হয়। তারপর একটি মাইক্রোবাসে করে নেয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘এ’ ব্লকের দন্ত বিভাগে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সোয়া ২টার দিকে তাকে পুনরায় কেবিন ব্লকে নেয়া হয়।

খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, তার দাঁত শার্প (চোখা) হয়ে গেছে। সেটা যখন জিহ্বায় আঘাত করে তখন তিনি কষ্ট পান। ফলে তিনি এখন কিছু খেতেও পারছেন না। দেশনেত্রীর দাঁতের চিকিৎসাটা বড় চিকিৎসা। তার রুট ক্যানেল, স্কেলিং করা দরকার। দু’একটা দাঁত নষ্ট হয়ে গেছে বয়সের কারণে, সেগুলো তুলে ফেলা দরকার। সংবাদ সম্মেলনের পরদিনই খালেদা জিয়ার দাঁতের পরীক্ষা করা হল।

বিএসএমএমইউর পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একে মাহবুবুল হক খালেদা জিয়ার দাঁতের চিকিৎসার পর সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপরের মাড়ির দুটি দাঁতে ইরিটেশন হচ্ছিল, সেজন্য উনি আনইজি ফিল করছিলেন। এতে তার জিহ্বায় ছোট আকারে ঘা হয়েছে। সেটার ট্রিটমেন্টের জন্য আজ (শনিবার) তাকে ডেন্টাল বিভাগে নেয়া হয়। সেখানে আধাঘণ্টা চিকিৎসা দিয়ে সমস্যাটা দূর করা হয়। বিএসএমএমইউর ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিফেসিয়াল বিভাগের অধ্যাপক শামসুল আলম বিএনপি চেয়ারপারসনের দাঁতের চিকিৎসা দেন।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমি এক্সামিন করি। দেখলাম, তার কয়েকটা ভাঙা দাঁতের শেকড় রয়ে গেছে। জিহ্বায় যে জায়গাটায় ঘা ছিল তা থেকে আরেকটা জায়গায় ছোট একটা ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। তার কারণ, উপরের দুটি আক্কেল দাঁত ৮ ও ৭ নম্বর- সেই দাঁত দুটির ভাঙা অংশ ধারালো ছিল। আমরা দাঁত দুটি সমান করে দিয়েছি। বিএসএমএমইউর পরিচালক বলেন, অন্য দাঁতগুলো ভালো আছে। আমার বিশ্বাস, জিহ্বার ক্ষতটা চলে যাবে। তাকে মাউথওয়াশ দেয়া হয়েছে, ওটা দিয়ে প্রতিদিন কুলি করবেন। ম্যাডামকে জিজ্ঞাসা করেছি- উনি বলেছেন, এখন আর কোনো প্রবলেম নাই।

খালেদা জিয়ার অবস্থার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসএমএমইউর পরিচালক বলেন, উনার চিকিৎসা কনটিনিউ হচ্ছে, আমাদের মেডিকেল বোর্ড তার চিকিৎসা করছে। আমি বলতে চাই, গ্র্যাজুয়ালি ইমপ্রুভিং। আমি আগেও বলেছি, এসব ক্রনিক ডিজিজ- ডায়াবেটিস, আর্থাইটিস; এসব রোগ ১০০% ভালো করা ডিফিকাল্ট। এসব মিরাক্যালি ভালো হয়ে যাবে সেটাও নয়।

তিনি বলেন, আমি বলব, উনি ভালো আছেন। আপনারা দেখেছেন। উনাকে দেখে কি মনে হয়েছে উনি খুব বেশি অসুস্থ? আগে যেভাবে এসেছিলেন, তার চেয়ে বেটার, ডেফিনেটলি বেটার আছেন। বিএসএমএমইউর সম্মেলন কক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনে বিএসএমএমইউর ওরাল ও ম্যাক্সিফেসিয়াল সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক কাজী বিল্লুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন। বিল্লুর রহমানই প্রথমে খালেদা জিয়াকে দেখেছিলেন, এরপর তাকে পাঠানো হয় অধ্যাপক শামসুল আলমের কাছে।

এদিকে বিএসএমএমইউ পরিচালকের সংবাদ সম্মেলনের পর বিএনপি সমর্থক চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদশ-ড্যাবের নেতারা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। ড্যাবের বিএসএমএমইউ শাখার সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নানাবিধ সমস্যা। আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ রাখছি, তার সর্বোচ্চ চিকিৎসা যেন দেয়া হয়। আমরা ডাক্তার হিসেবে দূর থেকে যতটুকু দেখেছি, ম্যাডাম অত্যন্ত অসুস্থ। উনার আরও ভালো ও উন্নত চিকিৎসা দরকার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ড্যাব নেতা সাইফুল ইসলাম সেলিম, আ ন ম মনোয়ারুল কাদির বিটু, এহতেশামুল হক তুহিন, সাইফুদ্দিন নেসার আহম্মেদ তুষার, রেজাউল আলম, কামরুজ্জামান মিন্টু, শাকিল আহম্মেদ, ইয়াহিয়া খান, মহিলা দলের সাবিনা ইয়াসমীন প্রমুখ।

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কারাবন্দি করে রাখা হয়েছে- মোশাররফ : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, আওয়ামী লীগ জানে খালেদা জিয়া বাইরে থাকলে তারা আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না। সেজন্য মামলা বা বিচার নয়, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাকে কারাবন্দি করে রাখা হয়েছে। জাতীয় প্রেস ক্লাবে শনিবার জিয়া পরিষদ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, কয়েক দিন আগে ভাড়া করা একটি বিদেশি সংস্থা দিয়ে বলানো হয়েছে- বাংলাদেশে এখন নাকি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা শেখ হাসিনার। এত জনপ্রিয়তা থাকলে জনগণকে কেন ভোট দেয়ার সুযোগ দিলেন না? জিয়া পরিষদের সভাপতি কবির মুরাদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় সংগঠনটির বিভিন্ন স্তরের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

খালেদা জিয়াকে তিলে তিলে মেরে ফেলার চেষ্টা করছে-সেলিমা রহমান : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান বলেছেন, গণতন্ত্রের মাতা খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছে। একটা মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে অন্যায়ভাবে কারারুদ্ধ করে দেশকে লুটপাটের রাজ্যে পরিণত করেছে ভোটারবিহীন সরকার। সরকার খালেদা জিয়াকে তিলে তিলে মেরে ফেলার চেষ্টা করছে। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে শনিবার ‘গণতন্ত্র ও খালেদা জিয়া মুক্তি আইনজীবী আন্দোলনের’ উদ্যোগে আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

খালেদা জিয়ার মুক্তি ও জাতীয় সংসদ ভেঙে দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে আয়োজিত এ মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তৈমুর আলম খন্দকার, ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, সহ-আইন সম্পাদক ইকবাল হোসেন, আয়োজক সংগঠনের মহাসচিব এবিএম রফিকুল হক তালুকদার রাজা, আবেদ রাজা, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আনিসুর রহমান খান, বিকল্পধারার মহাসচিব শাহ আহম্মেদ বাদল, শহীদুল ইসলাম, ওয়াছিল উদ্দিন বাবু, নাজমুল হাসান, কামাল হোসেন, মনির হোসেন, ময়মনসিংহ বারের আহ্বায়ক সৈয়দ এনায়েত উর রহমান প্রমুখ।

নিঃশর্ত মুক্তি দিয়ে খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার দাবি রিজভীর : বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সরকারকে উদ্দেশ করে বলেছেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ। বিএনপি এবং সারা দেশের মানুষের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে জোরালো দাবি জানাচ্ছি, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও গণতন্ত্রের জন্য আজীবন লড়াই করা একজন গুরুতর অসুস্থ বয়স্ক মহীয়সী নারীকে নিয়ে প্রতিহিংসাপরায়ণতার রাজনীতি বন্ধ করুন। অনেক হয়েছে, এবার থামুন। অবিলম্বে নয়, আজই খালেদা জিয়াকে নিঃশর্ত মুক্তি দিয়ে তার সুচিকিৎসার সুযোগ দিন।

নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শনিবার সংবাদ সম্মেলনে রিজভী আরও বলেন, খালেদা জিয়ার জীবন আজ অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার রোষানলে বিপন্ন। গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি মিথ্যা মামলায় প্রহসনের রায়ে কারাগারে যাওয়ার সময় সুস্থ অবস্থায় তিনি হেঁটে গেছেন। এখন হুইলচেয়ার ছাড়া চলতে পারছেন না। ডায়াবেটিস কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না। এটা অব্যাহত থাকলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তার স্বাস্থ্য নিয়ে পরিবার, আমরা, দেশবাসী সবাই সীমাহীন উদ্বিগ্ন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- দলের ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা নাজমুল হক নান্নু, সহ-দফতর সম্পাদক মুনির হোসেন প্রমুখ।
আরও পড়ুন

144 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন