৫ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার

ধর্মপাশায় দায়সারা প্রকল্পের কাজ:বিলের জন্য তদবির

আপডেট: মার্চ ৫, ২০২১

গিয়াস উদ্দিন রানা, ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ):: সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় ডুবন্ত ফসল রক্ষাবাঁধের সময় সীমা পেরিয়ে গেলেও এখনো শেষ হয়নি প্রকল্পের কাজ। এ বছর প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি,১৬৯টি প্রকল্পের মধ্যে ২৭টি প্রকল্পের অস্তিত্ব নেই। একাধিক পিআইসির বিল বোর্ডে পিআইসির নাম ও মোবাইল নম্বর মিল নেই। ভূয়া পিআইসির নাম ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে এক ব্যক্তি একাধিক প্রকল্প নিয়েছেন।

পিআইসিরা নীতিমালা লঙ্গন করে ভ্যাকো মেশিন দিয়ে বাঁধের গুড়া থেকে বড় বড় মাটির চাকা তুলে বাঁধের উপর ফেলছে। একাধিক প্রকল্পে শুধু বালু মাটি দিয়ে বাঁধের কাজ করছে। চলতি ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে উপজেলার ৮টি হাওরে ১৭২ কিলোমিটার ডুবন্ত বাঁধ সংস্কার ও মেরামতের জন্য ১৬৯টি পিআইসি কমিটিকে গত ১৫ডিসেম্বর নির্মান কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এসব প্রকল্পের কাজ ২৮ ফেব্রুয়ারী সবকটি প্রকল্পের কাজ শতভাগ বাস্তবায়নের কথা থাকলেও পাউবোর ভেদে দেওয়া সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও এখনো ২৫ ভাগ প্রকল্পের কাজ ঝুলন্ত রয়েছে।
গুড়মা প্রকল্পের আওতায় পাশুয়া হাওর রক্ষা উপ প্রকল্প নং ১৪৩, ১৩৭, ১৪৩ নম্বর পিআইসি জয়শ্রী ইউনিয়নের সরেস্বতীপুর গ্রামের প্রভাবশালী মামুন তিনি স্থানীয় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে হরিপুর সরকারী হিজল-করছ বাগানের ভেতরে বড় বড় গর্তকরে মাটি তুলে দায়সারাভাবে প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত করলেও নীতিমালার বিপরীতে ড্রেসিং, স্লোপ ও কমপেকশন ইত্যাদি না করেই বালু মাটি দিয়ে কাজ সমাপ্ত করেছে। গুড়মা প্রকল্পে ১৩১ নম্বর পিআইসি, ১৩০, ১২৯ ও ১২৮ নম্বর পিআইসির কাজ শেষ না করেই তৃতীয় বিলের জন্য তদবির করছেন। ধারাম হাওর রক্ষা উপ প্রকল্প ১০৬, ১০৪, চন্দ্র সোনারথাল হাওর উপ প্রকল্প ৫৫, জয়ধনা হাওর উপ প্রকল্প ০৮,০৯, ৩৪, সোনামড়ল হাওর উপ প্রকল্প ৩৯, ৪৯, ৫৭, ১৫৬, কালীয়ানী হাওর রক্ষা উপ প্রকল্প ১৩, ২২, ১৭ পিআইসিদের কাজের মান একেবারে নির্ম্মমানের। তারা বাঁধের গুড়া থেকে মাটির পরিবর্তে বালু (বিট বালু) দিয়ে দায়সারা ভাবে বাঁধ নির্মান করেছে। এতে সামান্য বৃষ্টির পানিতেই বাঁধটির বালু নদীতে চলে যাবে। ওই বাঁধ বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি (পিআইসি) মাসুদ রানা। সাবেক ইউপি সদস্য। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবোর) নীতিমালা তুয়াক্কা না করে শুধু বালু মাটি দিয়ে দায়সারাভাবে প্রকল্পের কাজ শেষ করছে। দৈর্ঘ্য, প্রস্ত, ড্রেসিং, কমপেকশন, দুর্মূজ, স্লোপ ইত্যাদি না করেই কোন কোন প্রকল্পে দুর্বা ঘাস লাগাচ্ছে।
গুড়মা প্রকল্পে ১৩১, ১৩০, ১২৯, ও ১২৮ নম্বর পিআইসির প্রকল্পে মাটির চেয়ে উজাউড়ি বন বেশী।
উল্লেখীত প্রকল্প গুলো নীতিমালার তুয়াক্কা না করায়, সামান্য বৃষ্টির পানিতেই বাঁধগুলো ভেঙ্গে গর্তগুলো বরাট হবে, এতে কোন সন্দেহ নেই।
এসব বিষয়ে পিআইসিদের সাথে কথা বলার সময় গুড়মা প্রকল্পের ১৪৩ নম্বর পিআইসি মামুন বলেন আমরা প্রকল্পের কাজ সটিকভাবে করছি। এখন আপনি পত্রিকায় লিখে যা পারেন তাই করেন। গুড়মা প্রকল্পের ১৩০ নম্বর পিআইসি জীবন কৃজ্ঞ তালুকদার বলেন, সাংবাদিকরা পত্রিকায় নিউজ করে আমাদের বিল বন্ধ করতে পারবেন না।
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মোঃ মুনতাসির হাসান বলেন, প্রতিটি প্রকল্প পরিদর্শনের জন্য উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারিদেরকে মনিটরিং এর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যেসব পিআইসিরা কাজে ফাঁকি দিয়ে প্রকল্পের ইতি টেনেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুনামগঞ্জ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড এর উপ সহকারী প্রকৌশলী ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব মোঃ ইমরান হুসাইন বলেন, পিআইসিরা যে পরিমানে কাজ করেছে সেই পরিমানে বিল দেওয়া হবে। অভিযুক্ত প্রকল্প গুলো পরিদর্শন করে কাজের অনুপাতে বিল দেওয়া হবে।

163 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন