
আপডেট: জুন ১, ২০২১
সাইফুল ইসলাম,হিজলা:; ৫ দিনে মামলা নেই বিদ্যুৎপিষ্টে নিহত পিতা পুত্রের। চলছে দফায় দফায় দাম কষাকশি । একটি প্রভাবশালী মহলের ইশারায় থমকে গেছে হত্যা মামলা। নিহতের পুত্র মনির হোসেন মামলা দিয়ে বিপাকে। দায় নিবে কে ?
মাত্র ১ বছরের মধ্যে চার চার টি জীবন ধ্বংস টিবিসি ব্রিক সেন্টারে। পঙ্গুর হিসাব নেই উদ্বাস্তুর সংখ্যা কয়েক শত পরিবার। রক্ষা পায়নি মৃত ব্যাক্তির কবর, কবরস্থান। প্রতিটি ক্ষেত্রে টাকার কাছে হার মানছে প্রশাসন, স্থানীয় সমাজপতি সমাজ ব্যবস্থা।
২৭ মে হিজলার টিবিসি ব্রিক্স ফিল্ডের মালিক গোলাম মোস্তফা খোকন তালুকদারের অবৈধ বৈদ্যুতি তারে জড়িয়ে নিহত হন পিতা কাশেম হাওলাদার এবং পুত্র মোক্তার হাওলাদার। আহত পুত্র মনির হোসেন হিজলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ ড়ায়ের কেরন। সেই থেকে অপর একটি মহল মালা না নিতে দফায় দফায় বৈঠক বসছেন তাদের নিয়ে। এমন অভিযোগ মনির এবং তার মা পাখিনুর বেগম। পাখিনুর বেগমের দুঃখ পুত্র মোক্তার হোসেনের ৪ মাসের শিশু সন্তান সহ নাবালক ৪টি রয়েছে ওদের দেখবে কে ?
বরিশালের প্রত্যন্ত অঞ্চল হিজলা। এখানকার একটি জনবসতিপূর্ন একটি গ্রাম শ্রীপুর। জনবসতিপূর্ন এ গ্রামটি দখল করে দখদার গোলাম মোস্তফা খোকন তালুকদার গড়ে তুলেছেন একে একে চর চারটি ইট ভাটা। যার নাম টিবিসি ব্রিক্স ফিল্ড।
বছরের পর বছর প্রশাসন এমনকি স্থানীয় প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ক্লান্ত ভুক্তভোগিরা। আইনের বাস্তবায়ন নেই কোথাও। বরং তিরস্কার পেয়েই ক্ষান্ত ক্লান্ত এলাকাবাসি।
বছরের ১২ মাসে একটি জীব হত্যা তার কাছে মামুলিক ব্যাপার। আর এতে সায় দিয়ে যাচ্ছেন সমাজের সচেতন মহল, প্রভাবশালী এবং প্রশাসন। একটি হত্যা মানে তার কাছে সামান্য ক’টি টাকা। প্রতিবার টাকার কাছে হার মানছে এক একটি জীবন। অর্থ আছে তো হত্যার মামলা নেই। নেই কোন অভিযোগ ও। সর্বশেষ টিবিসি ব্রিক্সে পিতা পুত্রের হত্যা।
নিহত কাশেম হাওলাদার এর স্ত্রীী পাখিনুর বেগম জানান, ভাটা মালিক খোকন তালুকদারের খামখেয়ালিপনায় আমার স্বামী এবং পুত্রের জীবন গেল। একটি অবৈধ তার দিয়ে তিন কিলোমিটার (তিনটি) ইটভাটা অবৈধ ভাবে চালু রাখার কারণে এমন মৃত্যু। তাকে এখন মামলা না করার জন্য হুমকী দিচ্ছে খোকন তালুকদার তার ভাই রিয়াজ তালুকদার সহ স্থানীয় নেতারা।
নিহতের প্রতিবেশী আবুল মাঝি জানান, খোকন তালুকদারের দালালরা হত্যার আলামত নষ্ট করতে তরিঘরি অবৈধ তার খুলে নেন আলতাফ হাওলাদার এবং আনোয়ার।
নিহতের পুত্র মনির হোসেন এবং স্ত্রী পাখিনুর বেগম জানান ,শনিবার গোপন বৈঠকে বসেন খোকন তালুকদার, রিয়াজ তালুকদার, রিপনখান, মিজান ঢালীসহ একাধিক ব্যাক্তি। তারা মামলা না করার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। বিষয়টি তারাই সমাধান করবেন।
স্থানীয় আলাউদ্দিন কাজি জানান, খোকন তালুকদার ৪০টির মতো ঘর উচ্ছেদ করেন ইটভাটার মালিক খোকন রিয়াজ তালুকদার। ব্যাক্তি মালিকানা জমির ভিতর দিয়ে জোর করে রাস্তা নির্মান করে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করছেন এই ভুমি খেকো রিয়াজ তালুকদার ও তার ভাই খোকন তালুকদার। আক্ষেপ করে জানান ৪ মাসের কবর দখল করে নির্মান করেছেন ইট ভাটার চুলা স্থাপন করে তারা। এদের উপর গজব পরে না ক্যা?
প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বিচার পাই না। বিচার পাইনা স্থানীয় চেয়ারম্যান মেম্বার এবং মোড়লদের কাছে। প্রত্যেকে খোকন তালুকদারের অর্থের কাছে জিম্মি।
স্থানীয় ইউপি মেম্বার সুলতান আহম্মেদ কাজি এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। অবৈধ ভাটা মালিক খোকন তালুকদার এর সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে পাওয়া যায়নি। পাওয়া যায়নি তার ভাই রিয়াজ তালুকদারকে।