২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার

মধ্যনগর থানাকে উপজেলা ঘোষণা করায় আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরন অব্যহত

আপডেট: জুলাই ২৮, ২০২১

গিয়াস উদ্দিন রানা,ধর্মপাশা(সুনামগঞ্জ):;  সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে উপজেলা গঠিত হলেও ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে ধর্মপাশা থানার অধীনে এবং ৪টি ইউনিয়ন নিয়ে মধ্যনগর প্রশাসনিক থানা গঠিত। মধ্যনগর শুধু পুলিশ প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত। সিভিল প্রশাসনিক কার্যক্রম ধর্মপাশা উপজেলা কর্তৃক পরিচালিত হলেও মধ্যনগর চার ইউনিয়নের বাসীন্দারা দীর্ঘ ৩৫ বছর যাবৎ উপজেলা ঘোষনার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসচ্ছেন। মধ্যনগর থানাকে উপজেলায় রূপান্তরের দাবিতে মধ্যনগর ৪টি ইউনিয়নের বাসীন্দারা মধ্যনগর উপজেলা বাস্তবায়নের জন্য এঢভোকেট আব্দুল মজিদকে সভাপতি করে ১০১ সদস্য নিয়ে উপজেলা বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির উদ্যোগে গতকাল ২৬ জুলাই ২০২১ মধ্যনগর প্রশাসনিক থানাকে নিকারের তালিকায় ও একনেকের বৈঠকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মধ্যনগরকে উপজেলায় উন্নীত করেছেন ওই সংবাদটি মধ্যনগর এসে পৌছাঁ মাত্রই মধ্যনগর উপজেলা বাস্তবায়ন কমিটির উদ্যোগে
খন্ড খন্ড আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরন অব্যহত রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলাধীন মধ্যনগর ১৯৭৫সালে তৎকালীন পররাষ্টমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদ মধ্যনগর থানাকে প্রশাসনিক থানা ঘোষণা করেন। কিন্তু এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হওয়ায় শান্তি ও স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলেছিল। ১৯৮২ সালে তৎকালীন সরকার যখন থানাগুলোকে উপজেলায় উন্নীত করার কর্মসূচি গ্রহন করেন তখন মধ্যনগর থানাকে উপজেলায় উন্নীত করার লক্ষ্যে সাইট সিলেকশন কমিটি বিগত ৩১/৩/৮৩ ইং হতে ৩/৪/৮৩ ইং পর্যন্ত মধ্যনগর বাজার সরজমিনে পরিদর্শন করেন। সর্বসম্মতিক্রমে উক্ত কমিটি সাইট সিলেকশন রির্পোট সরকার বরাবরে ১/৬/৮৩ ইং তারিখে দাখিল করেন। সরকারের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সিলেট বিভাগ-২ পি, ডব্লিউডির নির্বাহী প্রকৌশলী পত্র নং-১৮০১/১/১(২৫) তারিখ ৫/৭/৮৩ ইং মধ্যনগর উপজেলা কমপ্লেক্স নির্মাণের দরপত্র আহবান করেন ও দরপত্র গৃহীত হয়। পরবর্তীতে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের অস্থায়ী নির্দেশ মোতাবেক বিগত ২৬/৭/৮৩ ইং উক্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। দরপত্র বাতিল ঘোষিত হয়। মধ্যনগর থানাকে ধর্মপাশার সঙ্গে যুক্ত করে উপজেলার কার্যক্রম শুরু করা হয়। ১৯৮৩ সালে মধ্যনগর উপজেলায় উন্নীত না হওয়ায় এলাকাবাসী আহত অবস্থায় জীবন যাপন করেছিল। মধ্যনগর থানাকে উপজেলায় উন্নীত করার জন্য ১৯৯৫ সালে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সুপারিশ সম্মলিত কাগজপত্র (ম্মারক-নং এল, জি/৮৫/২৫৯ তারিখ ৫/১১/৮৫ ইং) নিকার চেয়ারম্যান বরাবরে পাঠানো হয়। বর্তমান সরকারের আমলে মধ্যনগর থানাকে উপজেলায় রূপান্তরের জন্য জেলা প্রশাসকের যাবতীয় লিপিবদ্ধ ও জুড়ালো সুপারিশ করেন। তৎকালীন জাতীয় সংসদ সদস্য সৈয়দ রফিকুল হক সোহেল মধ্যনগর থানাকে উপজেলায় রূপান্তরের জন্য ডি ও লেটার পর্যন্ত দিয়েছিলেন। এবং মহান সংসদে তা উত্থাপন করেছিলেন।
তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়াত জননেতা আব্দুস সামাদ আজাদ বিগত ৯/৭/৮৫ সালে ধর্মপাশার জনসভায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, অবিলম্বে মধ্যনগর থানাকে উপজেলায় উন্নীত করা হবে। পরবর্তীতে আরো কয়েকবার মন্ত্রী একই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। সম্প্রতি উপজেলা সংশোধনী বিল ৯৯ জাতীয় সংসদে পাশ হলেও সেই বিলের সংরক্ষিত ক্ষমতাবলে তৎকালীন বর্তমান সরকার ৪টি নতুন উপজেলা গঠন করেন। এ সূত্র ধরে মধ্যনগর থানাকে উপজেলা ঘোষনার দাবিতে স্থানীয় জনতা কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করেন। ১৯৮৫ সালের ১৭মে এক গণজমায়েতের মাধ্যমে লাগাতার কর্মসূচি শুরু করা হয়। ২০ মে থানার সর্বত্র এলাকায় আল্টিমেটামের মাধ্যমে অর্ধ দিবস হরতাল এবং ২৫ মে থানা ভবনের সামনে ১২ ঘন্টার প্রতীক গণঅনশন ধর্মঘট পালন করা হয়। ১১ জুন মধ্যনগর থানা সদরে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করা হয়। ১৭ জুন জনগুরুত্বসম্পন্ন নোটিশের মাধ্যমে আবেদন জানিয়েছেন। ১৮ জুন মধ্যনগর থানার চারটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদের সদস্য সহ মধ্যনগর থানা শাখা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও কৃষক লীগের নেতৃবৃন্দ তৎকালীন জাতীয় সংসদ সদস্য সৈয়দ রফিকুল হক সোহেল তার নেতৃত্বে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়াত জননেতা আব্দস সামাদ আজাদ ও তার ঢাকাস্থ সরকারি বাসভবনে সাক্ষাত করেন। মন্ত্রীকে মধ্যনগর উপজেলা বাস্তবায়ন কার্যক্রম গ্রহণ করার জন্য বিনীত অনুরোধ করা হয়। ১৫ জুলাই সকাল হতে মধ্যনগর থানাকে উপজেলা ঘোষণার দাবিতে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয় এবং সন্ধ্যায় এক বিশাল মশাল মিছিল সম্পন্ন করা হয়। ২ আগষ্ট উপজেলার দাবিতে থানা ভবনের সামনে ১২ঘন্টার প্রতীক গণঅনশন কর্মসূচি করা হয়। ১৯ আগষ্ট সুনামগঞ্জ জেলা সদরে সাংবাদিক সম্মেলন এর মাধ্যমে সরকার মধ্যনগর থানাকে উপজেলা ঘোষণার জন্য অনুরোধ জানানো হয়। ৬ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ১২ঘন্টা প্রতীক অনশন কর্মসূচির পর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী সমীপে প্রেসক্লাবের কর্মরত সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে লিখিত বক্তব্য ও স্বারকলিপি প্রেরণ করা হয়।
মধ্যনগর থানা শাখা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, কৃষকলীগ, সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ সহ সর্বস্থরের জনসাধারন ঐক্যবদ্ধ হয়ে মধ্যনগর থানাকে উপজেলা ঘোষণার দাবিতে আন্দোলন সহ বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যহত রয়েছে।
মতবিনিময় সভার প্রধান অতিথি সুনামগঞ্জ-১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন তিনি বলেন, মধ্যনগর থানাকে উপজেলায় রুপান্তরিত করার জন্য জাতীয় সংসদে একাধিকবার উত্থাপন করেছি। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম.এ. মান্নান এমপি কথা দিয়েছেন কিছুদিনের মধ্যেই মধ্যনগর থানাকে উপজেলা ঘোষনা করা হবে, এবং নেত্রীর সাথে একাধিকবার দেখা করে মধ্যনগর উপজেলার জন্য কথা বলেছি। নেত্রী আমাকে কথা দিয়েছেন আগামী বছর মধ্যনগর উপজেলা হবে।
মধ্যনগর ইউপি চেয়ারম্যান প্রবীর বিজয় তালুকদার বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমাদের দীর্ঘদিনের প্রানের দাবি ছিল, মধ্যনগর থানাকে উপজেলায় রুপান্তরের জন্য ১৯৭৫ সাল থেকে সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে আসছি।
মধ্যনগর থানা শাখা যুবলীগ সভাপতি মোস্তাক আহমেদ তিনি বলেন, মধ্যনগর থানায় চারটি ইউনিয়নে প্রায় আড়াইলাখ মানুষের প্রানের দাবি মধ্যনগর উপজেলা ঘোষণার দাবিতে দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে আন্দোলন করে আসছি। বিগত দিনে নিকারের তালিকায় মধ্যনগরের নাম অন্তভূক্ত করা হলেও পরবর্তীতে তদবিরের অভাবে আমরা ঝুলে রয়েছি। অন্যান্য মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, এডভোকেট আব্দুল মজিদ, মধ্যনগর সদর ইউপি চেয়াম্যান প্রবীর বিজয় তালুকদার, স্থানীয় আওয়ামী লীগ,সভাপতি গিয়াস উদ্দিন নুরী, সাধারন সম্পাদক পরিতোষ সরকার, মোবারক হোসেন প্রমুখ্য। যুবলীগ সভাপকি মোস্তাক আহমদ, সাধারন সম্পাদক বিদ্যুৎ কান্তি সরকার,যুবলীগ, নেতা কুতুব উদ্দিন তালুকদার, ওবায়দুল রহমান রনী খান, ছাত্রলীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম খান ও অঙ্গসঙ্গঠনের অসংখ্যা নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। ২৭ জুলাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মধ্যনগর উপজেলা বাস্তবায়নের ঘোষনা দেওয়ার সাথে সাথে এলাকায় আনন্দেও জোয়ার উঠেছে। গতকাল মিছিলে মিছিলে মুখরিত গুটা এলাকা।

161 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন