
আপডেট: এপ্রিল ১৭, ২০২২
সতেরো এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে বরিশাল জেলা তথ্য অফিস আলোচনা সভা, চলচ্চিত্র প্রদর্শন ও কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
আজ ১৭ এপ্রিল সকালে নগরের কাশিপুর হাই স্কুল ও কলেজে এ আলোচনা সভা, চলচ্চিত্র প্রদর্শন ও কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়।
আলোচনা সভা, চলচ্চিত্র প্রদর্শন ও কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানের শুরুতে বরিশাল জেলা তথ্য অফিসের সহকারী তথ্য অফিসার লেলিন বালা মুজিব নগর সরকারের গঠন, ইতিহাস তুলে ধরে প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শণ করেন। এসময় তিনি কুইজ প্রতিযোগিতা ও অনুষ্ঠানমালা সঞ্চালনা করেন।
কাশিপুর হাই স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ মামুন- অর- রশিদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ২৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ফরিদ আহম্মদ।
বরিশাল জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক জাকির হোসেন আলোচনা সভা, চলচ্চিত্র প্রদর্শন ও কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন। বক্তৃতার শুরুতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ৭৫ এর ১৫ আগষ্ট যাঁরা শহিদ হয়েছেন তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
পরিচালক বলেন, আজ ১৭ এপ্রিল। ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। আজ থেকে ৫১ বছর আগে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল শনিবার বেলা ১১ টার দিকে মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে এক অনাড়ম্বর পরিবেশে অনুষ্টিত হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকারের শপথ গ্রহন। শপথ অনুষ্ঠানে পাঠ করা হয় স্বাধীনতার ঘোষনা পত্র।
বৈদ্যনাথতলা ছিল এক অপরিচিত গ্রাম। ১৭ এপ্রিল ”৭১ এ বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের শপথ গ্রহন অনুষ্টানে মেহেরপুরের এই গ্রামটির নামকরন করা হয় মুজিবনগর। শপথ অনুষ্টানে প্রধানমন্ত্রী তাজউর্দ্দীন আহমেদ ঘোষনা করেন, আজ থেকে(১৭ এপ্রিল) বৈদ্যনাথ তলার নাম হবে মুজিবনগর।
আজ বাঙালি জাতির কাক্ষিত স্বাধীন রাষ্টের সরকার প্রতিষ্ঠার সেই স্মরণীয় দিন। এ সময় উপস্থিত হাজার হাজার মুক্তিপাগল বাঙালি,শত শত মুক্তিযোদ্ধা আনন্দে উল্লাসে “জয় বাংলা” শ্লোগানে আম্রকুঞ্জের বাতাস প্রকম্পিত করে তুললেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে রইলো এই দিনটি।
তিনি আরো বলেন, জাতির জনক তাঁর ৫৫ বছরের জীবন-ইতিহাসে ৪ হাজার ৬ শত ৮২ দিন (প্রায়) ১৩ বছর জেল খেটেছেন। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙালি যুদ্ধ করেছেন বলে তাদের জাতিসত্তাকে টিকিয়ে রাখতে পেরেছেন। এমন একজন নি:স্বার্থ নেতা পাওয়া বাঙালি জাতির জন্য সৌভাগ্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এসময় আলোচনা সভা, চলচ্চিত্র প্রদর্শন ও কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে ১০ জন কুইজ বিজয়ীদের বঙ্গবন্ধু অসমাপ্ত আত্মজীবনী উপহার দেওয়া হয়।