২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার

হিজলার মেঘনায় বেপরোয়া বালি উত্তোলন, কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

আপডেট: আগস্ট ২৫, ২০২২

সাইফুল ইসলাম :: হিজলায় কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি-কোটি কোটি টাকার বালু উত্তোলন।অবৈধ অর্থের ছড়াছড়ি। ভাঙছে গ্রামের পর গ্রাম। ফুসে উঠছে জনতা।প্রশাসন চুপ।
বরিশালের হিজলার মেঘনায় দেদারছে উত্তোলিত হচ্ছে বালি।হিজলা উপজেলায় নেই বালি মহাল। তার পরেও থেমে নেই বালি খেকোরা। প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই চলছে বালি উত্তোলন। এমন অভিযোগ এলাকাবাসির।
হরিনাথপুর ইউপি চেয়ারম্যান তৌফিকুর রহমান জানান, তার ইউনিয়নের সুলতানপুর এবং কুলারগাও মৌজায় দিন রাত পার্শ্ববর্তী শরিয়তপুর জেলার একটি গ্রুপ মাসাধিক কাল থেকে শত শত বলগোটে বালি তুলে বিক্রি করছে। বিষয়টি হিজলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার, হিজলা থানা, শাওডা পুলিশ ক্যাম্প (হরিনাথপুর), নৌ পুলিশ, কোষ্টগার্ডকে অবহিত করলেও প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে না।


হরিনাথপুর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম জানান, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করা হলে তিনিই আমাকে চোর বানিয়ে ছাড়ছেন। বিচার দেব কার কাছে। তিনি নিজেই প্রশাসনকে অবহিত করেন। প্রশাসন ঘটনাস্থলে না গিয়েই তাকে এ অপবাদ দিচ্ছেন। তিনি নিজ উদ্দ্যোগে প্রশাসনের সকল দপ্তরটিকে অবহিত করেন।
স্থানীয় মাসুদ লটিয়া, সোহেল বেপারী,জসিম মোতাইত, জানন, তার বাড়ি হিজলায়, এখানে মাস খানেক ধরে দিনে রাতে জেনারেটর জ্বালিয়ে ঘোসাইর হাটের জুয়েল বেপারী, শামিম খান, নাসির উদ্দিন সহ একটি গ্রুপ বালি উত্তোলন করছে। বিষয়টি হিজলা প্রশাসনের নজরে দিলে তারা ঘটনাস্থলে এসে অদৃশ্য কারণে চলে যায়। হরিনাথপুর পুলিশ ফাড়ি, হিজলা থানা, নৌ পুলিশ, কোষ্টগার্ড প্রত্যেকেই হানা দেয়। কাজের কাজ কিছুই হয়না। অপরিকল্পিত বালি উত্তোলনে আমাদের বদরপুর, কুলারগাও, সুলতানপুর, নাছকাঠি, আবুপুর সহ বেশ কটি গ্রাম ভাঙছে।


ঘোসাইর হাট উপজেলার কুচাইপট্ট্রি ইউপি চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন স্বপন জানান, তিনি উপজেলায় মিটিংএর রয়েছেন। পরে কথা বলবেন।
খোকা বেপারী জানান, এমন কথা আমরাও জানি। বিষয়টি নিয়ে ঘোসাইর হাটেও তোলপার চলছে। আসলে কোন পক্ষ বালু উত্তোলন করে তা জানা নেই। আমরাও সরকারের প্রতিনিধি হিসাবে খুজছি।
আইসি শেওড়া পুলিশ ফাড়ি (হরিনাথপুর)আঃ রহিম জানান, অভিযোগ পেয়েছেন। সে ভিত্তিতে ঐ এলাকায় ইউএনও মহোদয়কে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করেন। কাউকে চিহ্নিত করতে সক্ষম হননি। অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ওসি নৌ পুলিশ হিজলা বিকাশ চন্দ্র জানান, তাদেরে কাছেও এমন অভিযোগ রয়েছে।বিশাল মেঘনা। ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই সটকে পড়েন বালি খেকোরা।অবৈধ লেনদেনের বিষয়টি মিথ্যা।
ওসি হিজলা থানা ইউনুছ মিয়া জানান, তিনি ঢাকায় রয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার বকুল চন্দ্র কবিরাজ জানান, বিষয়টি নজরে আছে। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি চলছে।

522 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন