
আপডেট: জুন ৮, ২০২৩
নিজস্ব সংবাদদাতা, ধর্মপাশা,সুনামগঞ্জ:সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় ফেলে দেওয়া পানির বোতলসহ সব ধরনের প্লাস্টিক কুড়িয়ে চলে সেন্টু (৫৫) ও প্রতিবন্ধী নিলু (২৫) দম্পতির সংসার। এ দম্পতি ধর্মপাশা উপজেলা সদর ইউপির কামলাবাজ গ্রামের বাসিন্দা।
৩ মে শনিবার সকালে হুসাইন ক্যাফে চা খাওয়ার সময় দেখা যায় উপজেলা সদর জনতা মডেল উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে মানুষজনের ব্যবহার শেষে ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের বোতল কুড়াচ্ছে এই দম্পতি। এ দম্পতি জানায়, আমি ও আমার এক বোনকে ছোট রেখে মারা যায় বাবা মিত্তু মিয়া। এর পর থেকে জীবন রক্ষায় মা আছিয়া বেগম পেশা হিসেবে বেছে নেয় বোতলসহ সব ধরনের প্লাস্টিক কুড়ানোর কাজ। সংসারে অভাব থাকায় শিশু কাইল্লানীকে পরিচিত এক পরিবারের কাছে দত্তক দেওয়া হয়। আর আমি
হয়ে পড়ায় আমি একসময় পেশা হিসেবে বেছে নেই টায়ার বিহীন তিন চাকার রিকশা। কিছুদিন যেতে না যেতেই মারা যায় আমার মা আছিয়া (৮৫) শারীরিকভাবে অক্ষম হওয়ায় কোনো উপায় না পেয়ে বেছে নেই মায়ের মতো প্লাস্টিক কুড়ানোর কাজ। মাথা গোঁজার টাই না থাকলেও পথচলায় জীবনের প্রয়োজনে সঙ্গী হিসেবে যুক্ত করি অসহায় প্রতিবন্ধী মেয়ে নিলু (২৫)কে দুজনে মিলে প্লাস্টিক কুড়িয়ে যা পাই তাই দিয়ে চলে আমাদের ছন্নছাড়া সংসার।
খোলা জায়গায় প্লাস্টিকের উপস্থিতি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরীর পাশাপাশি পোকামাকড় ও মশার প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করে, যা ম্যালেরিয়া এবং ডেঙ্গুর মতো রোগ সৃষ্টি করে। এছাড়াও পরিবেশ দূষণ থেকে শুরু করে মানব জীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে প্লাস্টিক। পরিবেশ রক্ষায় সেন্টু দম্পতি বড় ধরনের ভূমিকা রাখছে বলে মনে করেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিন। তিনি বলেন, এ দম্পতির একজন প্রতিবন্ধী, তাঁর প্রতিবন্ধী ভাতা চালু না হয়ে থাকলে খুব দ্রুত চালু করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার শীতেষ চন্দ্র সরকার নয়া দিগন্তকে বলেন,প্লাস্টিক পচে না, থেকে যায় অনন্তকাল। তবে ওই প্রতিবন্ধীর ঘরবাড়ী না থাকলে আমরা তাদেরকে আশ্রয়ন প্রকল্পের আওতায় আনা হবে।