২৩শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার

হিজলায় বিএনপির নেতা’আ’লীগ সাধারণ সম্পাদক র‌্যাবের হাতে আটক

আপডেট: জুন ১৪, ২০২৩

সাইফুল ইসলাম :: হিজলা উপজেলার হিজলাগৌরব্দী ইউনিয়ন আ’লীগ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য আলাউদ্দি বেপারী ওরফে আলাউদ্দিন দফাদার ১৪ জুন দুপুরের দিকে র‌্যাবের হাতে আটক।

স্থানীয় জসিম মাঝি জানান, দফাদার আলাউদ্দিন গ্রুপটি এলাকায় খুবই ভয়ংঙ্কর। এরা না পারে এমন কোন কাজ নেই। চরদখল, জমি দখল, গরুচুরি, ডাকাতি প্রতিটিতেই তারা পাকা। এদের সাথে থানা , নৌ পুলিশের সখ্যতাও বেশি। যে কারণে স্থানীয়রা তটস্থ থাকেন বলে দাবি তার।

হিজলাগৌরব্দী ইউনিয়ন আ’লীগ সভাপতি হাবিব সরদার জানান আলাউদ্দিন দফাদার র্যা বের হাতে আটক এমন একটি কথা শুনছেন বলে তিনি জানান।

আ’লীগ নেতা ফিরোজ জানান, এরা সুযোগসন্ধানী। সবসময় এরা সরকার দলের সাথে থাকে। অপরাধ অপকর্ম এদের কাজ। তার পরেও এদের কদর বেশী। এদের কারণে ত্যাগী আ’লীগ কর্মীরা সবসময় ক্ষমতার সময় দলথেকে সুবিধা বঞ্চিত থাকে। এ সব নেতারা সাধারণ চুরির ভাগিদা, গরুচুরির ভাগিদার আবার শালিশের ভাগের বড় অংশীদার। অংশীদার ডাকাতিরও। এদের ব্যাপারে মন্তব্য করে লাভ নেই।

স্থানীয় মোতালেব দেওয়ান জানান, আলাউদ্দিন দফাদার একাধারে বিএনপি। আবার স্থানীয় ইউপি সদস্য। আবার ইউনিয়ন আ’লীগ সাধারণ সম্পাদক। তার দাপটে স্থানীয়রা তটস্থ। বর্তমানে দফাদার আলাউদ্দিন মজিবুর রহমান সরোয়ারের চাচা হাবিব মালতিয়ার কয়েক শত একর জমি জোর দখলে নিজের কব্জায় রেখেছেন। হাবিব মালতিয়াকে জমিতে প্রবেশ করতে দিচ্ছেন না তিনি।

কে এই আলাউদ্দিন দফাদার : একসময়ের ধুলখোলার রাখাল রাজা, হিজলাগৌরব্দী ইউনিয়নের সাবেক দফাদার। সাবেক হিজলাগৌরব্দী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আ: গাফাফার তালুকদারের ডান হাত, তুখোর বিএনপি নেতা তিনি। আ’লীগের সু দিনের সুযোগসন্ধানী বর্তমান হিজলাগৌরব্দী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়াম্যান নজরুল ইসলাম মিলনের সুভাকাঙ্খী, হিজলাগৌরব্দী ইউনিয়নের ইউনিয়ন আ;লীগের সাধারণসম্পাদক আলাউদ্দিন বেপারী (দফাদার)। তার বিরুদ্দে স্থানীয়দের রয়েছে নানা অভিযোগ। চর দখর, ভুমি দখল, চোরাগরুর ব্যবসা, বোরত্তন ও রত্তন পুত্র লিটন রাড়ির ডানহাত, ইয়াবা মাদক কারবারি নেটওয়ার্ক প্রধান বলে দাবি তাদের।

সুজন মাঝি, মৎস্যজীবী জালল বেপারী, নজুসহ একাধিক ব্যাক্তি জানান,আলাউদ্দিন একসময় বিএনপির নেতা ছিলেন। ছিলেন দফাদার, গরু চোরের গডফদার, আলীগের সুদিনে এসে তিনি এখন হিজলাগৌরব্দীর প্রভাবশালী নেতা। তিনি দলীয় এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কাকুরিয়া বাজারে বাংলাদেশ কোষ্টগার্ডের উপর হামলা চালায় এক কোষ্টগার্ড সদস্যকে আহত করেন, দল এবং দলীয় প্রভাবের কারণে সে যাত্রা রক্ষা পান তিনি। বিষয়টি তৎকালিন সময় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও অদৃশ্য কারণে স্থিমিত হয়ে যায়। নৌপুলিশের উপর হামলার বিষয়টিও তার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় বলে এলাকাবাসির দাবি। পুরো চর এবং চরের বেড়জাল তার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। প্রশাসন জেনেও নাজানার ভান করছে বলে তাদের দাবি।

যে কারণে আটক: এক সময়ের দুই বন্ধু মন্টু মাঝি এবং আলাউদ্দিন দফাদার। দু’জনই বিএনপি নেতা, একই গ্রামে বসবাস। আবার দু’জনই এখন হাল সনের আ’লীগ নেতা। পরস্পর দু’ বেয়াই। একই গুরুর শিষ্য। একটি জমিকে কেন্দ্রকরে স্থানীয় কাকুরিয়া বাজারে হামলা। অবশেষে হিজলা থানায় মামলা।া েছাড়াও তার বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক মামলা। এর সূত্র ধরেই পলাতক আলাউদ্দিন দফাদার।

মন্টু মাঝির দাবি সন্ত্রাসী গ্রুপটি দির্ঘদিন যাবত হিজলা গৌরব্দী ইউনিয়নের কয়েকশত একর জমি জোর দখলে রেখেছে। মুল মালিকদের ক্ষমতার দাপটে দুরে সরিয়ে রাখছেন আলাউদ্দিন গ্রুপ।ঐ জমি নিয়ে তার সাথে কথা বলার একপর্যায় এমপি এবং বড়জালিয়া ইউপি চেয়াম্যানকে উদ্দেশ্য করে খারাপ মন্তব্য বরতে গেলে পতিবাদ করেন তিনি। নিজের কেনা একটি জমি বিগত আ’লীগের ১৫ বছর যাবৎ জোর দখল করে ভোগ করে আলাউদ্দিন বেপারী ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী। এই জোর দখলের জের ধরে দোকানা হমলা করা হয়। আবার বিএনপি ক্ষমতায় গেলে একই ধারা অব্যহত থাকবে বলে তার মত। ভোল পাল্টাতে তার সময় লাগে না।

এ ঘটনায় হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ ইউনুস মিয়া জানায় আলাউদ্দিন বেপারীর বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক মামলা।তাকে কাকুরিয়া বাজারের ব্যবসায়ীর দোকানে হামলা ভাংচুর মারধরের ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে।

 

786 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন