
আপডেট: September 24, 2026
আপডেট:
স্টাফ রিপোর্টার ঃঃ নার্সিং ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে বরিশাল নগরীতে ‘নিউরন’ নাম ব্যবহার করে একাধিক কোচিং সেন্টার পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। একই বা কাছাকাছি নাম, একই ধরনের সাইনবোর্ড ও প্রচারণায় বিভ্রান্ত হচ্ছেন ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। অভিযোগ রয়েছে, নামের মিলকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিষ্ঠানের বদলে অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করানো হচ্ছে। এমনকি ভর্তি বাবদ টাকা নেওয়ার পর তা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
নগরীর বটতলা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ‘নিউরন নার্সিং ভর্তি কোচিং’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়ে আসছে। এরই মধ্যে ‘নিউরন কেয়ার’, ‘নিউরন স্পেশাল’ এবং ‘নিউরন নার্সিং ভর্তি কোচিং অফিস’সহ কাছাকাছি নামে আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। দূর-দূরান্ত থেকে নার্সিং কোচিংয়ে ভর্তি হতে আসা শিক্ষার্থীরা প্রকৃত প্রতিষ্ঠান শনাক্ত করতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্প্রতি এমন বিভ্রান্তির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন স্বরূপকাঠি থেকে আসা শিক্ষার্থী তহুরা। তার ভাষ্য, বরিশালের বটতলা এলাকায় ‘নিউরন নার্সিং ভর্তি কোচিংয়ে’ ভর্তি হওয়ার উদ্দেশ্যে এসে নামের মিলের কারণে তিনি ‘নিউরন কেয়ার’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে যান। সেখানে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক নোমান তাকে ভর্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য দিয়ে ৫ হাজার টাকা নেন। পরে তিনি বুঝতে পারেন, তিনি যে প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়েছেন সেটি তার কাঙ্ক্ষিত প্রতিষ্ঠান নয়।
তহুরার অভিযোগ, বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি ভর্তি বাতিল করে টাকা ফেরত চান। কিন্তু তাকে টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে দাবি করেন।
শুধু তহুরাই নন, একই ধরনের নাম ব্যবহারের কারণে আরও শিক্ষার্থী বিভ্রান্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণায় সাফল্যের তথ্য, আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করা হলেও কোন প্রতিষ্ঠান কতটা বৈধ, তাদের অনুমোদন ও ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে কি না এবং প্রচারিত সাফল্যের তথ্য কতটা বাস্তব—এসব যাচাইয়ের সুযোগ অনেক শিক্ষার্থীরই থাকে না।
‘মূল’ প্রতিষ্ঠানের দাবি, সুনাম ব্যবহার করে চলছে অন্য কোচিং
‘নিউরন’ নাম ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি ও কাগজপত্র যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছে ‘নিউরন নার্সিং ভর্তি কোচিং’ কর্তৃপক্ষ।
প্রতিষ্ঠানটির বরিশাল বটতলা শাখার পরিচালক আনিসুজ্জামান রাইয়ান বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি ও সুনামকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন নামে কোচিং পরিচালনার কারণে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে।
তার দাবি, গত তিন বছরে তাদের বরিশাল শাখা থেকে নার্সিং ভর্তি পরীক্ষায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী সফল হয়েছেন। তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী, প্রথম বছরে ১৪০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৬ জন, দ্বিতীয় বছরে ২৫০ জনের মধ্যে ৫৯ জন এবং পরবর্তী বছরে ৮১ জন শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন।
রাইয়ানের অভিযোগ, একই বা কাছাকাছি নাম ব্যবহারকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কারণে তাদের প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বৈধ কাগজপত্র, পরিচালন কাঠামো ও পরিচয় যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
‘কাগজপত্র আছে’—বললেন এক পরিচালক, আবেদন করেও লাইসেন্স মেলেনি আরেক প্রতিষ্ঠানের
শিক্ষার্থী তহুরার অভিযোগের বিষয়ে ‘নিউরন কেয়ার নার্সিং ভর্তি কোচিং’-এর পরিচালক নোমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলতে রাজি হননি।
অন্যদিকে ‘নিউরন স্পেশাল নার্সিং ভর্তি কোচিং’-এর পরিচালক তিমন মজুমদার বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠানের বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। তবে তা পরে দেখাতে পারবেন বলে জানান তিনি।
আর ‘নিউরন নার্সিং ভর্তি কোচিং অফিস’-এর পরিচালক ফারজানা আক্তার বন্যা বলেন, সিটি করপোরেশনে ট্রেড লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা হয়েছে। একই নামে আগে প্রতিষ্ঠান থাকায় এখনো অনুমোদন পাওয়া যায়নি।
লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা করলে ব্যবস্থা: সিটি করপোরেশন
এ বিষয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স শাখার ইন্সপেক্টর আনিসুর রহমান বলেন, নগরীর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ট্রেড লাইসেন্স নেওয়ার জন্য ফোন করে জানানো হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠান ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, নার্সিং ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে বরিশাল নগরীতে কোচিং ব্যবসা বাড়লেও প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচয়, অনুমোদন, ট্রেড লাইসেন্স, সাফল্যের তথ্য এবং ভর্তি-সংক্রান্ত শর্ত যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা থাকা জরুরি। বিশেষ করে দূরবর্তী এলাকা থেকে আসা শিক্ষার্থীরা যেন নামের মিলের কারণে ভুল প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
এখন প্রশ্ন উঠেছে—‘নিউরন’ নামের আড়ালে পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত পরিচয় কী, কোনগুলোর বৈধ কাগজপত্র রয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া ভর্তি ফির ক্ষেত্রে কী ধরনের নীতিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে? বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।