বরিশালের হিজলা আওয়ামীলীগের একাল-সেকাল

Thursday, January 2nd, 2020

বিজয় নিউজ:: বরিশালের হিজলায় দেখিয়াছি সিন্ধু দেখিয়াছি পর্বত- দেখা হয়নাই হিজলা উপজেলা আওয়ামীলীগের র্দুযোগ-র্দুভোগ। সরবত মেশানো হিজলা আওয়ামীলীগ এখন আর কারো-ই ভাল লাগছে না বলে মনে হচ্ছে।

বিগত দশ বছরের সমসাময়িক ঘটনাবলী এখন মনে করিয়ে দিচ্ছে হিজলা থানা আওয়ামীলীগকে। কখনও ছক বাধা আওয়ামীলীগ, কখনও জোড়া লাগা আওয়ামীলীগ। এখন আওয়ামীলীগের স্বর্নযুগ। এ যুগে আওয়ামীলীগের কর্মী সমর্থক সুভাকাঙ্খীদের আভাব নেই। তার পরেও মনে হচ্ছে অভাবের তাড়নায় পড়ছে হিজলা উপজেলা আওয়ামীলীগ।

এ যেন স্বর্নের মধ্যে বারো আনা খাদ-চার আনা স্বর্ন। ঘষা মাজায় এখন আনেকটা চেকন লম্বা সুতায় আকার ধারণ করছে- হিজলা উপজেলা আ’লীগ। বলতে গেলে এখন আওয়ামীলীগ দু শিবিরে বিভক্ত। একটি পক্ষ মুলদল আ’লীগ অপরটি জাতীয় সে”ছাসেবকলীগ। কাকে খুশি করবেন ! এক পক্ষ আওয়ামীলীগ নৌকা অপর পক্ষ আওয়ামীলীগ বৈঠা। কোন ভাগে আপনি-

ফিরে দেখা ২০০১-২০১৯ সাল ঃ হিজলা উপজেলা অভাগা আওয়ামীলীগের দুর্যোগ-র্দুভোগ ১৯৯৬ সাল থেকে।

সেই ১৯৯৬ সাল থেকে ২০১৯ সাল- অনেক বছর। এর মাঝে বহু চড়াই উৎরাই পার হয়েছে আজকের হিজলা থানা আওয়ামীলীগ। মনে আছে অনেকের- নাম কেউ ছোট আবার কেউবা বড়। সবাই এক কাতারের আওয়ামীলীগ।

ফিরে দেখা মোহাম্মদ হোসেন স্যার, মুক্তা হাওলাদার, ছন্দু ভাই, বিমলকান্তি বিমু স্যার, হাবিব স্যার,মাষ্টার নেয়ামত উল্লাহ, সুলতান মাহমুদ টিপু শিকদার, দলিলুর রহমান শিকদার, আঃ রাজ্জাক, মুনির তালুকদার, আনু খা, সিরাজুল হক আলো, তোফাজ্জল হক খোকা, আফজালুল করিম, আজকের নজরুল ইসলাম মিলন, কাইছমার ধলু মোল্লা, ইকবাল হোসেন মাতুব্বর, আবুল হোসেন রাঢ়ি, জামাল ফকির, নায়েব আঃ কুদ্দুছ, লতিফ দেওয়ান, মকবুলহোসেন সোনা ভাই, ইসমাইল হোসেন দাদা ভাই, মাষ্টার সেকান্দার আকন, ইকবাল হোসেন মাতুব্বর, ওয়াদুদ শিকদার, জলিল শিকদার, এনায়েত হোসেন হাওলাদার, কাইছমার শাহজান মাষ্টারসহ সেই মানুষগুলো কই ? আর আজকের আওয়ামীলীগ ই বা কই ? হারিয়ে যাওয়া সেই স্মৃতি এখন শুধুই——।
মেঘনার মাটিয়ালায় যখন এদের ২০০১ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় বঙ্গবন্ধুর নৌকা ডুবিয়ে দিল বিএনপির একটি চক্রের প্রধান বোবা রত্তন ( রত্তন রাঢ়ি)। কালের খেয়ায় হালে নৌকায় উঠে বাদাম তুলে এখন মাটিয়ালার মেম্বার। তাকে বরণ করেন আজকের এমপি। এটি আ’লীগের কম পাওয়া কথা ! সত্যি-মিথ্যা মনে পড়ে আ’লীগ-বোবা রত্তনের কথা ! মনে পড়ে টিপু, খোকা, আলো, মিলনদের-ওরাইতো সেই দিনের সাক্ষী।

হিজলার সুবর্নচরে (হিজলার মেঘনার মাটিয়ালা) আওয়ামীলীগের নৌকা যখন পানির তলে-দল আ’লীগ তখন বিরোধী দলে- বিএনপির তখন পুরো ক্ষমতার তুঙ্গে- ঐ সময়ে নৌকা- বৈঠা এক নায়ে ছিল। ছিলনা কোন খাদ, ছিলনা কোন ভেদ- বিভেদ।

আজ একি অবস্থা ? মাঝি বসে আছে নৌকা নিয়ে ঘাটে- বৈঠা খুজছেন তিনি। ঐ পারে যেতে ধার করতে হ”েছ বৈঠা। বর্তমানে হিজলা, মেহেন্দিগঞ্জ, আগইলঝারা এই ত্রি সীমানায় আটকে আছে হিজলার উপজেলা আ’লীগের রাজনীতি। সমসাময়িক সময়ে হিজলা থানা আওয়ামীলীগের সম্মেলনকে নিয়ে হচ্ছে নানা মেরুকরণ। কেউবা হাটছেন জাতীয় আ’লীগের পেছনে- কেউবা মুল সংগঠন শেখ মুজিবের নৌকার পেছনে।

সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন দশ বছরে এখন আ’লীগই এখন শ্লোগান দিচ্ছে-বাংলাদেশ জিন্দাবাদ, কেউবা জয় বাংলা। এখন মিশ্রন হচ্ছে দ্বিধাবিভক্তে। এ কার দায় ? কে ই বা এর জবাব দেবেন ? এ প্রশ্নের উত্তর বহুদুর। আমজনাত বলছেন দেশের সর্ব”চ আদালত রায় দিচ্ছেন জয় বাংলা এখন জাতীয় শ্লোগান। এর পরেও মিশ্রণ ঘটছে নাকি ছন্দপতন হচ্ছে-তা বোঝার উপায় কি ?

সাইফুল ইসলাম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক, বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষনা পরিষদ, হিজলা শাখা ।