বরগুনার রিফাতকে হাসপাতালে নেন মিন্নি (ভিডিও)

Tuesday, September 17th, 2019

বিজয় নিউজ রিপোট ।।
বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের দুই মাস ২০ দিন পর আরেকটি নতুন ভিডিও পাওয়া গেছে। ভিডিওটি বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের সিসিটিভিতে ধারণ বলে দাবি করেন মিন্নির বাবা।

সেখানে দেখা যায়, রিফাত শরীফকে রক্তাক্ত অবস্থায় আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি একাই একটি রিকশায় করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, মিন্নি রিকশায় করে রিফাতকে হাসপাতালে নিলেই তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হয়না। রিফাতের বাবার দাবি, এটা মিন্নির নাটক।

১৫ মিনিটের নতুন ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ঘটনার দিন ২৬ জুন সকাল ১০টা ২১ মিনিটে মিন্নি একটি ব্যাটারিচালিত রিকশায় করে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় রিফাতকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে নিয়ে যান।

সেখানে দাঁড়ানো এক যুবক রিফাত শরীফকে বহন করা রিকশার দিকে দৌড়ে আসেন। রিফাতের অবস্থা দেখে তিনি হাসপাতালের ভেতরে গিয়ে একটি স্ট্রেচার নিয়ে রিকশার পাশে আসেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত অনেকেই এগিয়ে আসেন। এরপর রিকশা থেকে নামিয়ে অচেতন রিফাত শরীফকে স্ট্রেচারে করে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়।

এরপর মিন্নি হাসপাতালের সামনে উপস্থিত একজনের ফোন নিয়ে কল দিয়ে কারও সঙ্গে কথা বলেন। এরপর তিনি হাসপাতালের ভেতরে চলে যান। এর কিছু সময় পর মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর ও চাচা আবু সালেহ হাসপাতালে ছুটে আসেন।

ওই দিন সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে হাসপাতালের সামনে একটি অ্যাম্বুলেন্স আসে। এ সময় সেখানে রিফাত শরীফের বন্ধু মঞ্জুরুল আলম জন ও তার কয়েকজন বন্ধু হাসপাতালের সামনে আসেন। জন বেশ কিছু সময় ফোনে কথা বলেন।

১০টা ৪৪ মিনিটে অক্সিজেন ও দুটি স্যালাইন লাগানো অবস্থায় রিফাত শরীফকে স্ট্রেচারে করে অপেক্ষমাণ ওই অ্যাম্বুলেন্সে রিফাতকে তোলা হয়। ১০টা ৪৯ মিনিটে বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে বরিশালের উদ্দেশ্য ত্যাগ করে অ্যাম্বুলেন্সটি।

বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের সামনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ও বরগুনা জেলা পুলিশের পৃথক দুটি সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। তবে এই ভিডিও কোন ক্যামেরায় ধারণ করা হয়েছে, তা নিশ্চিত করতে পারেনি ওই সূত্র।

এদিকে রিফাত শরীফকে ২৬ জুন সকালে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্যে কোপানোর ঘটনায় ধারণ করা প্রথম ভিডিওটিতে দেখা যায়, রিফাতকে সন্ত্রাসীরা যখন কোপাচ্ছিল, তখন তার স্ত্রী মিন্নি প্রাণপণ চেষ্টা করছিলেন রিফাত শরীফকে রক্ষা করার জন্য।

এরপর ওই ঘটনায় দ্বিতীয় যে ভিডিওটি প্রকাশিত হয়, সেখানে রিফাতকে কলেজ গেট থেকে ধরে পূর্ব দিকে নিয়ে যাওয়ার সময় মিন্নি সন্ত্রাসীদের পেছনে কিছুটা ধীর গতিতে হেঁটে যান। এতে অনেকের মনে সন্দেহ দেখা দেয় যে, এ ঘটনায় মিন্নি জড়িত থাকতে পারে।

এই সন্দেহের জের ধরেই রিফাত শরীফের বাবা দুলাল শরীফ ঘটনার ১৮ দিন পর ১৩ জুলাই বরগুনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে রিফাত হত্যায় মিন্নি জড়িত বলে অভিযোগ তোলেন। ওই ভিডিওর উদ্ধৃতি দেন তিনি।

১৬ জুলাই মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে তার বাবার বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গ্রেফতার করা হয়। মিন্নি উচ্চ আদালত থেকে ৩ সেপ্টেম্বর জামিনে মুক্ত হয়ে বর্তমানে বাবার বাড়িতে রয়েছেন। হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকায় এ বিষয়ে মিন্নির মন্তব্য নেয়া যায়নি।

এ প্রসঙ্গে মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর সোমবার রাতে যুগান্তরকে বলেন, হাসপাতালের সামনের এই ভিডিও আমি দুইদিন আগে পেয়েছি। কার কাছে পেয়েছেন জানতে চাইলে তিনি নামটি গোপন রাখতে চাইছেন।

মিন্নির বাবা বলেন, সোমবার সকালে ওই ভিডিওটা রুহান নামের একজন সংবাদকর্মীর কাছে দিয়েছি।

তিনি বলেন, আমি আগেও বলেছি যে, আমার মেয়ে তার স্বামীকে বাঁচানোর জন্য সেদিন আপ্রাণ চেষ্টা করেছে।

আপনার মেয়ে কি সেদিন রিফাতের সঙ্গে বরিশাল গিয়েছিল। এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমার মেয়েকে বরিশাল নেয়া হয়নি। আমার মেয়েকে ষড়যন্ত্র করে এই মামলায় আসামি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মিন্নির আইনজীবী মাহবুবুল বারী সোমবার বলেন, ভিডিওটি আমি দেখেছি। এতে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় মিন্নি রিফাতকে রক্ষার জন্য সেদিন আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। কর্মকর্তার তদন্তে কি আছে সেটা আমি এখনো দেখিনি। কারণ, আদালতে দেয়া পুলিশের অভিযোগ পত্রের কপি এখনও পাইনি। কপি পেলে বিস্তারিত জানতে পারব।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বরগুনা থানার পরিদর্শক মো. হুমায়ুন কবির সোমবার বলেন, আমরা মিন্নির বিরুদ্ধে যতটুকু অভিযোগ পেয়েছি, তা বিজ্ঞ আদালতে দাখিল করেছি। এখন নতুন করে কোনো ভিডিও বের হয়েছে কি না, সেটা আমাদের জানা নেই। একটি মামলার তদন্ত করে অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেয়ার পর আমার কোনো বক্তব্য থাকতে পারেনা। তারপরও তিনি বলেন, মিন্নি রিকশায় করে রিফাতকে হাসপাতালে নিলেই সে নির্দোষ প্রমাণিত হয়না।

নিহত রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম দুলাল সোমবার রাতে যুগান্তরকে বলেন, আমার ছেলে নয়ন বন্ডদের হাতে জখম হয়ে একাই একটি রিকশা নিয়ে সেদিন বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে যায়। মিন্নি পরে একা হাসপাতালের দিক যায়। মনে হয় পথিমধ্যে মিন্নি আমার ছেলের রিকশায় ওঠে।

তবে ভিডিওটি আমিও দেখেছি। মিন্নি আমার ছেলেকে হাসপাতালে নিয়ে এলো। কিন্তু মিন্নি বরিশাল গেল না কেন। এমন কি আমার ছেলে নিহত হবার পরও মিন্নি আমাদের বাড়িতে যায়নি। মিন্নি যে নাটক করেছে সেটা দেশবাসী সবাই দেখেছেন। আমি এখনও বলি আমার ছেলের হত্যার পেছনে মিন্নির ইন্ধন ছিল। মিন্নির কারণেই আমার ছেলে নিহত হয়েছে, বলেন তিনি।