১১ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার

মাদক সেবনের টাকা না পেয়ে মাকে মারধর, ছেলের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার

আপডেট: আগস্ট ১১, ২০২৬

বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি: ঃ বরিশালের বাবুগঞ্জে বিধবা রাশিদার বেগমের কারণে একটি সংসার ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। রাশিদা বেগমের আচরণের কারণে সংসারে প্রায় ঝগড়া লেগে থাকত। স্বামী জাহাঙ্গীর হোসেন কোন উপায়ান্তর না পেয়ে বাড়ি থেকে নেমে গিয়ে অন্য স্থানে ঘর নির্মাণ করেন।হঠাৎ জাহাঙ্গীর হোসেনের মৃত্যু হলে তার স্ত্রী ওএক পুত্র সাব্বির হোসেন মিলে জাহাঙ্গীরের ছোট ভাই মাইনুলকে নেশা জগতে আসক্ত করে। মাইনুল হোসেন নেশা জগতে জড়িয়ে পড়ায় তার সংসারে অশান্তি সৃষ্টি করে। ভবঘুরে মাইনুল প্রায় মাদক সেবনের টাকা না পেয়ে মাকে ও ও স্ত্রীকে মারধর এবং ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। মাইনুল অত্যাচারে সহ্যকরতে না পেরে আপন মা জাহানারা বেগম বাদী হয়ে ছেলের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন ।

মাইনুল হোসেন উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের ব্রাহ্মন্দিয়া গ্রামের আব্দুল খালেক মাস্টারের ছেলে। স্থানীয় ও মামলার সূত্র জানা গেছে মাদক সেবনের টাকা না দেওয়ায় মা জাহানারা বেগমকে মারধর এবং ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর,করে। এ ঘটনায় জাহানারা বেগম বাদী হয়ে গত ১২ জুলাই ছেলে মাইনুল এর বিরুদ্ধে বরিশালের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। মামলার পর আদালত মাইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার পর মাইনুল আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। গত ৪ আগস্ট তিনি তার স্ত্রী ও তিন সন্তানের জননী মিম আক্তারকে মারধর করেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে গত ৫ আগস্ট বাবুগঞ্জ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে আদালতের পরোয়ানাভুক্ত মাইনুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।গত সোমবার সরজমিনে অনুসন্ধানে স্থানীয় বাসিন্দা লিটন, মোশারব, তোতা ও জামাল হোসেন সাংবাদিকদের জানান মাইনুল মাদক সেবন করে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও মারধর করেছেন। তারা আরো বলেন মাইনুল এর মৃত সৎ বড় ভাইয়ের স্ত্রী রাশিদা বেগম তার স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে মাইনুলের সাথে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন করার বিভিন্ন পাঁয়তারা করে এই কারণে মাইনুলকে বিভিন্ন ধরনের নেশা খাওয়াইয়া তার সাথে দীর্ঘদিন যাবত অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন করে। জাহানারা বেগম বলেন, তার মৃত সৎ ভাইয়ের স্ত্রীর প্ররোচনায় মাদক সেবনের জন্য টাকা না দেওয়ায় মাইনুল ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং আমাকে মারধর করে ও তার স্ত্রী এবং সন্তানদেরকেও মারধর করে এই মারদরের সাথে সৎ বড় ভাইয়ের স্ত্রী এবং তার ছেলেও জড়িত আছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায় । মাইনুলের এমন আচরণের জন্য মৃত সৎ বড় ভাই জাহাঙ্গীর হোসেনের স্ত্রী রাশিদা বেগমকে দায়ী করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে রাশিদা বেগম সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে রাজি হয়নি । তার বড় ছেলে সাব্বির হোসেনের সঙ্গে কথা হলে তিনি মায়ের বিরুদ্ধে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

52 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন