সাংবাদিক পরিচয়ে নারীদের হয়রানি ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি ও ঠিকাদারদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ

আপডেট: November 1, 2026

আসাদ ওরফে পান আসাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সঙ্গে আরও চারজনের সম্পৃক্ততার দাবি; ক্ষুণ্ন হচ্ছে প্রকৃত সাংবাদিকদের ভাবমূর্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঃঃসাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে নারীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন  করে ৫০ হাজার টাকা  দাবি করে ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ উঠেছে বরিশালের আসাদ ওরফে পান আসাদের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে সড়ক ও বিভিন্ন উন্নয়নকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে ঠিকাদারদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এসব কর্মকাণ্ডে আরও চারজনের সম্পৃক্ততার দাবি করেছেন অভিযোগকারীজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ফোনালাপের ভিডিওতে আসাদ ও এক নারীর কথোপকথন নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। ভিডিওতে শোনা কথাবার্তার ভাষা ও আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। তাঁদের প্রশ্ন, সাংবাদিকতার পরিচয় বহনকারী একজন ব্যক্তি কীভাবে একজন নারীর সঙ্গে এমন ভাষায় কথা বলতে পারেন? সাংবাদিকতার পরিচয় কি কাউকে নারীর সঙ্গে অসম্মানজনক আচরণ কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনের অধিকার দেয়?

অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে আসাদ বিভিন্ন নারীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে তাঁদের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে চাপ সৃষ্টি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অর্থ দাবির চেষ্টা করা হয়। এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে ভুক্তভোগীদের বক্তব্য, ফোনালাপ, বার্তা ও অন্যান্য প্রমাণ রয়েছে।

এদিকে বরিশালের বিভিন্ন এলাকার সড়ক ও উন্নয়নকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে ঠিকাদারদের ওপর চাপ সৃষ্টির অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, উন্নয়নকাজ নিম্নমানের হচ্ছে—এমন অভিযোগ সামনে এনে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের করে। এ কাজে তাঁর সঙ্গে আরও চারজন জড়িত রয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সাংবাদিকতার পরিচয়ের অপব্যবহারে ক্ষুব্ধ পেশাদার সাংবাদিকরা

সাংবাদিকতা একটি দায়িত্বশীল পেশা। দুর্নীতি, অনিয়ম ও জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড তুলে ধরাই সাংবাদিকদের কাজ। কিন্তু সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যদি ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়, নারীদের হয়রানি কিংবা ঠিকাদারদের ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করেন, তাহলে তা পুরো পেশার ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

বরিশালে দীর্ঘদিন ধরে অনেক সাংবাদিক সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। নানা প্রতিকূলতা ও ঝুঁকি উপেক্ষা করে তাঁরা দুর্নীতি, অনিয়ম, অপরাধ ও জনদুর্ভোগের খবর প্রকাশ করছেন। অথচ কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে সাংবাদিক পরিচয়ের অপব্যবহারের অভিযোগ উঠলে সাধারণ মানুষের কাছে প্রকৃত সাংবাদিকদের সম্পর্কেও নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় পেশাদার সাংবাদিকদের অর্জিত সম্মান ও বিশ্বাসযোগ্যতা।

সাংবাদিক পরিচয় কোনো অপরাধ বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের দায় থেকে কাউকে অব্যাহতি দিতে পারে না। বরং এ পরিচয়ের সঙ্গে দায়িত্বশীলতা, পেশাগত শিষ্টাচার ও জবাবদিহি জড়িত। তাই এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা দাবি

আসাদ ওরফে পান আসাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং তাঁর সঙ্গে আরও চারজনের সম্পৃক্ততার দাবির বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। ফোনালাপের সত্যতা ও প্রেক্ষাপট যাচাই, অভিযোগকারী নারী ও ঠিকাদারদের বক্তব্য গ্রহণ এবং অর্থ লেনদেনের কোনো প্রমাণ থাকলে তা পরীক্ষা করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে আসাদ ওরফে পান আসাদের  মুঠো ফোনে বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

সাংবাদিকতা কোনো ভয়ভীতি প্রদর্শন, হয়রানি কিংবা অর্থ আদায়ের হাতিয়ার হতে পারে না। একজনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের কারণে যেন সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করা অসংখ্য প্রকৃত সাংবাদিকের সম্মান ক্ষুণ্ন না হয়—এটাই এখন সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।

70 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন