
আপডেট: অক্টোবর ৩, ২০২১
গিয়াস উদ্দিন রানা,ধর্মপাশা,(সুনামগঞ্জ):: সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় ন্যাংটা বাবার (হযরত মজনু শাহ নূরীর) মাজার শরিফের ওয়ারিশানা নিয়ে একই পরিবারের দু গ্রুপের মধ্যে রশিটানা টানি, আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আদিপত্য বিস্তার অব্যহত রয়েছে। এব্যাপারে ধর্মপাশা উপজেলা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন। মাজারের বর্তমান মোতয়াল্লী মোঃ বাবুল মিয়া।
ধর্মপাশা উপজেলা সদর ইউনিয়নের আতকাপাড়া গ্রামের ন্যাংটা বাবা মাজার শরিফের বর্তমান মোতোয়াল্লী মোঃ বাবুল মিয়া, গতকাল বিকাল ৪টার সময় ধর্মপাশা উপজেলা প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তিনি বলেন, তার মাতা আছিয়া খাতুন জীবিত থাকা কালীন সময়ে ১৯৭৩ সালের ২১ আগষ্ট ২১২৯ নং দলিল মূলে আতকাপাড়া মৌজায় তার গ্রামে ৩৫ শতক ভূমি মাজার শরিফের নামে সাফ কাউলা মুলে ক্রয় করেন। ১৯৭৪ সালের ৩১ মে ৯৮১নং দলিলমূলে আতকাপাড়া গ্রামে থাকা ন্যাংটা বাবার মাজারের নামে ক্রয়কৃত ৩৫ শতক ভূমি, বাবুলের মাতা আছিয়া খাতুন মাজারের জায়গাটি ওয়াকফ আল-আওলাদ করিয়া দেন। ওয়াকফ ইসি নম্বর ১৫৬০০ক্রমিকভূক্ত করে ওয়াকফ কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক মোতোয়াল্লী মোঃ বাবুল মিয়া। এর পর থেকে তিনি, ওয়াকফ চাঁদা পরিশোধক্রমে মাজার শরিফ পরিচালনা করে আসলেও বার্ধক্য জনিত কারনে ২০১২ সালে ইন্তিকাল করেন বাবুলের মাতা আছিয়া খাতুন। বাবুলের মাতা ইন্তেকালের পর কিছুদিন মোতোয়াল্লী বিহীন মাজার শরিফ পরিচালনা হলেও, মাজার পরিচালনার জন্য আছিয়া খাতুনের ছেলে বাবুল মিয়া মোতোয়াল্লী হওয়ার জন্য বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসন ২০১৮ সালের ১১ ডিসেম্বর হইতে চলতি বছরের ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩ বছর মেয়াদে বাবুল মিয়াকে বিধি মোতাবেক মোতোয়াল্লী হিসেবে নিয়োজিত করা হয়। তিনি মোতোয়াল্লী নিয়োজিত হয়ে এ পর্যন্ত ওয়াকফ চাঁদা পরিশোধ করে আসচ্ছেন বাবুল মিয়া।
এদিকে বাবুল মিয়ার স্বজনরা মাজার শরিফের মালিকানা দাবিকরে মাজারে এসে লোটপাট করছে বলে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য বাবুল মিয়ার অভিযোগ। তারা হলেন, একই গ্রামের মৃত লিলু মিয়ার ছেলে শফিকুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম,রাব্বীকুল ইসলাম,খায়রুল ইসলাম, জহিরুল ইসলাম ও কামরুল ইসলাম। উল্লেখীত ব্যক্তিরা পরিকল্পিত ভাবে ন্যাংটা বাবার মাজার শরিফে রক্ষণাবেক্ষনের জন্য বাবুল মিয়াকে একাধিকবার সুপারিশ করে। এতে বাবুল মিয়া রাজি না হলে ওই ব্যক্তিরা মাজার পরিচালনা করতে গিয়ে তারা বিনা অনুমতিতে মাজারে প্রবেশ করে লুটপাট করে আসছে। এর প্রতিবাদ করলে আমাদেরকে প্রান নাশের হুমকী দিচ্ছে।
এব্যাপারে বর্তমান মোতোয়াল্লী (খাদেম) মোঃ বাবুল মিয়া বাদী হয়ে চলতি বছরের ৮ সেপ্টেম্বর উল্লেখীত ৬ জনের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জ জেলা সহকারী জজ আদালত ধর্মপাশায় মামলাা করা হয়। মামলার নম্বও ১৪৪/২০২১ই। এই মামলায় আদালতের বিচারক উল্লেখীত ৬ জন আসামীর বিরুদ্ধে অন্তবর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিলেও আদালত অমান্যকরে আদালতের নোটিশ প্রাপ্ত ৬ জনকে ১০ দিনের মধ্যে কারন দর্শানো নোটিশ অমান্যকরে মাজার শরিফে এসে তাদের চাঁদাবাজি ও প্রাণ নাশের হুমকী অব্যহত রয়েছে বলে মোতোয়াল্লী মোঃ বাবুল মিয়ার অভিযোগ।