১৮ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার

শিরোনাম
বরিশাল শায়েস্তাবাদ চুড়ামন কমিউনিটি ক্লিনিকে থাকেনা ডাক্তার থাকেনা থোলা! দেখার কেউ নেই (পর্ব-১) ছাতা ধরে রাখলেন তরুণী রিকশাচালকের মাথায় হিজলার মেঘনায় ভাঙ্গন শুরু-ঝুকিতে পাঁচটি স্কুল-হুমকির মুখে উপজেলা প্রশাসনিক ভবণ সরকারের পূরণ হতে পারে মন্ত্রিসভার ‘শূন্যস্থান’ শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের ১৪৭ তম জন্মবার্ষীকিতে জীবন কর্মে পথচলা তথ্য হিজলা ডাক বিভাগের দুর্নীতির-অনিয়মের হালখাতা খুলছে ডাক বিভাগ – পর্ব ০২ আই ডি এল সি ফাইন্যাস সরকারি নির্দেশ অমান্য করে আদায়ের করে কিস্তি ,মাঠ কর্মীদের দেখে ব্যবসায়ীরা পালায়! (২য় পর্ব) বরিশালের  হিজলার মানচিত্রে শকুনের থাবা॥একক আসন মেহেন্দিগঞ্জ !(১ম পর্ব) বরিশাল হিজলায় রাজনীতি না ভিক্ষা চুরি নীতি

অরক্ষিত হিজলার মেঘনা-গতিহীন মা ইলিশ রক্ষা অভিযান

আপডেট: অক্টোবর ১১, ২০২১

সাইফুল ইসলাম, নিষেধাজ্ঞা শুরুর সাত দিনের মাথায় হিজলার মেঘনা নদীসহ আশ পাশের হিজলা, মুলাদি এবং মেহেন্দি গঞ্জের বিভিন্ন নদ-নদীতে গতিহীন হয়ে পড়েছে মা ইলিশ রক্ষা অভিযান। হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জ সংলগ্ন প্রায় পাঁচশ কিলোমিটার মেঘনা নদীতে প্রভাবশালী এবং সিন্ডিকেটের ছত্রছায়ায় মা ইলিশ নিধন করছে হাজারো জেলেরা। ইলিশের প্রজনন বৃদ্ধিতে ৪ অক্টোবর থেকে মা ইলিশ রক্ষায় শুরু হয়েছে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, প্রথম দু’দিন জেলেরা নদীতে না নামলেও বুধবার থেকে হিজলা – মেহেন্দিগঞ্জ, মুলাদি এবং শরিয়তপুর জেলার ঘোসাইর হাট সংলগ্ন আবুপুর মেঘনা, তেতুলিয়া, আড়িয়াল খা নদের বিভিন্ন জায়গায় মা ইলিশ নিধন করা হচ্ছে। মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা অবশ্য দাবি করছেন, তারা সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন মা ইলিশ রক্ষা অভিযান সফল করতে।

ইতোমধ্যে মেহেন্দিগঞ্জের বামনেরচর(দড়িচরখাজুড়িয়া) প্রশাসনের সাথে জেলেদের অপ্রিতিকর ঘচনা ঘটেছে। আগ্নেয়াস্র হারানোর মতো ঘটনা ঘটেছে সেখানে। হিজলার মুলাদি এবং শরিয়তপুর অংশ ঘেষা এলাকার আশুলি আবুপুরে উলঙ্গ মৎস্য ব্যবসা চলছে। শরিয়তপুর ও হিজলার সিমানা কুচাইপট্ট্রির চরমান্ধারিয়া, সাতপারামাছ ঘাটে চলছে রম রমা মা ইলিশ নিধন কার্যক্রম।উলানিয়া, আলীগঞ্জ, কালিগঞ্জ, গোবিন্দপুর, বাবুগঞ্জ, মেঘা, মাটিয়ালার মেঘনা এখন উন্মুক্ত বলে অভিযোগ স্থানীয় সচেতন মহলের।

জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির হিজলা উপজেলা শাখার সভাপতি জাকির হোসেন সিকদার জানান , বুধবার থেকে মেঘনায় অভিযান নেই বললেই চলে। শতশত জেলে উত্তরে পুরাতন হিজলা থেকে দক্ষিণে বালুরচর পর্যন্ত প্রায় ১৫০ কিলোমিটার মেঘনায় নির্বিঘ্নে মা ইলিশ ধরছে জেলেরা। মেঘনার জানপুর, খালিশপুর ও অন্তরবামে বড় বড় ট্রলার নিয়ে মা ইলিশ শিকার করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সমিতির পক্ষ থেকে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগকে বিষয়টি জানিয়েছি। কিন্ত আমাদের কথা কেউ শোনেন না আমাদের কথা। তিনি অভিযোগ করেন, মূল মেঘনাসহ হিজলার সবগুলো শাখা নদীতে মা ইলিশ নিধন যঞ্জ চলছে তো চলছে।

আক্ষেপ করে তিনি এও জানান 8 সেপ্টেম্বর সিনিয়র মৎস্যকর্মকর্তা আঃ হালিমের এর মাঝির ট্রলার আটক করেছে প্রশাসন। এতেই প্রমান করে যে অভিযান কেমন চলছে।

হিজলা থেকে একাধিক সূত্র জানিয়েছে, উত্তরে পুরাতন হিজলা থেকে দক্ষিণে বালুরচর পর্যন্ত মেঘনা তীরে শতাধিক মাছ ঘাট রয়েছে। এক ডজনের বেশি প্রভাবশালী ইলিশ ব্যবসায়ী এবং তাদের দালাল বাহিনী এসব মাছ ঘাটের মালিক। নিষেধাজ্ঞা শুরুর প্রথম দুদিন মাছ ঘাটগুলো বন্ধ ছিল। কিন্ত বুধবার থেকে সরব হয়ে উঠছে এসব ঘাট। অসাধু জেলেরা মা ইলিশ ধরে নৌকা-ট্রলার বোঝাই করে মাছ ঘাটগুলোতে নিয়ে বিক্রি করছে। রাতের আধারে স্পীডবোর্টে করে চরমান্দারিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় পাচার করছে।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির হিজলা শাখার সভাপতি ও বড়জালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন হাওলাদার জানান, ‘এ বছর মা ইলিশ রক্ষা হচ্ছে না। মা ইলিশ রক্ষায় কঠোর অভিযান চালানোর কথা বলা হলেও এখন অভিযানে তেমন গতি নেই। হিজলা সংলগ্ন মেঘনা ও বিভিন্ন শাখা নদীতে যা চলছে তাতে ইলিশের সর্বনাশ হচ্ছে।

হিজলা উপজেলা জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুভাষ ঘোষ, জাতীয় ক্ষুদ্র জেলে মৎস্যজীবী জেলে সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার বাঘা জানান, ইতোমধ্যে মাছঘাট ব্যবসায়ী, মেঘনা পারের বেশ ক’জন সোর্স ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে ম্যানেজের কারণে এবারকার মা ইলিশ রক্ষা ভেস্তে যাচ্ছে।

মেঘনা তীরের হিজলাগৌরব্দী ইউনিয়নের লালপুর, ও অন্তরবাম এবং দেবুয়া এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, অভিযান শুরু থেকে সকাল, দুপুর, সন্ধায় কিংবা রাতে নদীর তীরে গেলেই সস্তায় ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। বড় বড় ডিমভরা ইলিশ বিক্রি হয় 2শ-3শ টাকা কেজি দরে।

হিজলা উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আব্দুল হালিম এর ভাষ্য, জেলে নেতারা ঢালাওভাবে যে অভিযোগ করেছেন তা সত্য নয়। প্রতিদিন চারটি নৌযান নিয়ে মেঘনা ও শাখা নদীগুলোতে অভিযান চালানো হচ্ছে। গত দুদিনে ২২ জন জেলেকে আটক করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। কিছু অসাধু জেলে যেখানে টহল শেষ হয় সেখানে গিয়ে ইলিশ ধরে। এদের সংখ্যা সামান্য।

নৌ পুলিশের হিজলা স্টেশন ইনচার্জ পরিদর্শক সোহেল রানা জানান, 12 জন ফোর্স ও দুটি টহল বোট নিয়ে যতটা সম্ভব চেষ্টা করা হচ্ছে মা ইলিশ রক্ষার। ইতোমধ্যে মেঘনার অন্তরভামে আরও একটি অ-স্থায়ী টিম বসানো হচ্ছে। অভিযানের সপ্তম দিন দুপুর পর্যন্ত 52 জনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

বরিশাল মৎস্য অধিদপ্তরের মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা (ইলিশ) বিমল চন্দ্র দাস বলেন, ‘জেলার নদ-নদীতে প্রতিদিন ৩৫টি টিম টহল দেয়। অভ্যন্তরীণ নদনদীতে এখন প্রচুর মা ইলিশ এসেছে। কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশের সমম্বয়ে মা ইলিশ রক্ষায় আমরা অভিযান চালাচ্ছি। তবে কিছু জেলে মা ইলিশ ধরছে। আমরা তা বন্ধ করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।

45 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন