
আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬
আপডেট:
নিজস্ব প্রতিবেদক: স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের বরিশাল জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আল ইমরানকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের বিপরীতে প্রদেয় পিসি বা কমিশন বাণিজ্যের কারণে ঠিকাদার সহ বরিশাল জেলার নির্বাহী প্রকৌশল অধিদপ্তরের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ১০ উপজেলার প্রকৌশলীরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।
অভিযোগে জানা যায়, নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আল ইমরান এলজিইডি র প্রধান কার্যালয় সারাদেশে খাল-পুকুর প্রকল্পের উপ- প্রকল্প পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন।
তিনি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের রাষ্ট্রপতির জেলা কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা।
এ কারণে প্রধান কার্যালয়ের উক্ত প্রকল্পে তার প্রভাব ছিল অপ্রতিরোধ্য।
তৎকালীন সময়ে প্রকল্পের স্কিম গ্রহণ,অনুমোদন এবং রিভাইজ ও অর্থছারের কমিশন বাণিজ্যে ছিল হস্ত সিদ্ধ।
পরবর্তীতে সাবেক প্রধান প্রকৌশলী জাবেদ করিম দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে মন্ত্রণালয়কে ম্যানেজ করে বরিশাল জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর পথটি ভাগিয়ে নেন।
অভিযোগ জানা গেছে, জেলা পর্যায়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা না থাকলেও স্থানীয় ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন আদায়ের যথেষ্ট অভিজ্ঞ।
প্রতিটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ দেওয়ার সাথে ১% কমিশন নেওয়ার জন্য তার অধীনস্থ প্রকৌশলীদের অনবরত চাপ প্রয়োগ করে যাচ্ছেন।
এছাড়া রিভাইস স্কিম অনুমোদনে চাহিদা অনুযায়ী কমিশন নেয়া ও বিল প্রদানের ক্ষেত্রেও ২% কমিশনের দাবি পূরণের বিষয়টি ঠিকাদারদের কাছে অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছে গেছেন।
নির্বাহী প্রকৌশলীর এই অনৈতিক আর্থিক সুবিধা নেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা বিব্রত ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
অভিযোগে আরো প্রকাশ,
নির্বাহী প্রকৌশলীদের ফিল্ড পর্যায়ে কাজ পরিদর্শনের রীতি থাকলেও তিনি দপ্তরে বসেই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন।
ঠিকাদারদের কাছ থেকে অধীনস্থ প্রকৌশলীর মাধ্যমে কমিশন আদায় চাপ প্রয়োগ করার কারণে নির্বাহী প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারীরা চরম ক্ষুব্ধ।
নাম প্রকাশে অনুচ্ছুক এক কর্মচারী বলেন, বিগত সময় কোন নির্বাহী প্রকৌশলী এভাবে ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন আদায়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করতে না। এছাড়া কমিশনের টাকা এককভাবে নেওয়ার অভিযোগ ও রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনচ্ছুক এক ঠিকাদার অভিযোগ করে বলেন,
একটি রিভাইস স্কিম অনুমোদনের জন্য প্রধান কার্যালয়ে প্রেরণের ক্ষেত্রে মোটা অংকের অর্থ দাবি করেছেন।
যা বিগত সময়ের কোন নির্বাহী প্রকৌশলী এ অর্থ দাবি করেনি।
অন্য একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক বলেন, হঠাৎ করে নির্বাহী প্রকৌশলী তার সাইট পরিদর্শনের কথা বলে সরে জমিনে পরিদর্শন পূর্বক ত্রুটির বিচ্যুতির কথা উল্লেখ করে বিভিন্ন বাহানায় অর্থ প্রাপ্তির কৌশল অবলম্বন করেন। এক্ষেত্রে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো তার এহেনও অনৈতিক আর্থিক সুবিধা নেয়ার কারণে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও মানববন্ধন করার মনস্থির করেছেন। নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আল ইমরানের অনৈতিক পথে অর্থ সংগ্রহের বিষয়টি তদারকি করেন সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক মোঃ এনামুল হক।
একজন ভুক্তভোগী দর্শনার্থীর কাছ থেকে জানা যায়,
দর্শনার্থীদের সাক্ষাৎকার দিলেও কোন সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ না নিয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষায় রেখে শূন্য হাতে ফিরে দেন।
অথচ মো:আল ইমরানের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোন ব্যক্তি দর্শনার্থী হলে তার সমস্যাটি দ্রুত সমাধান করে দেন। অন্যদিকে নির্বাহী প্রকৌশলীর ঘনিষ্ঠ সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করে বলেন, বরিশাল জেলায় কর্মরত প্রকৌশলী ও কর্মচারীরা একটি বড় ধরনের সিন্ডিকেট।
দীর্ঘদিন বরিশাল জেলায় একই কর্মস্থলে কাজ করার সুবাদে এই সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে। বছর পর বছর একই জেলায় একই কর্মস্থলে কাজ করছেন। এতে করে বাইরের কোন প্রকৌশলী এসে কাজ করতে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হন। তবে অভিজ্ঞ জনদের মতে, জনস্বার্থে সরকারের আর্থিক সদ্ব্যবহার ও কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে অর্থলোভী ও কমিশন বাণিজ্যের হোতা নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আল ইমরানকে ক্লোজ করে অন্য পদয়নের অনুরোধ জানিয়েছেন। অন্যথায় বরিশাল জেলায় জনদুর্ভোগ ও জনরোষ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাবে। তবে এ বিষয়ে বরিশাল জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আল ইমরানের বক্তব্য নেয়ার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।