৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার

বরিশাল পল্লী বিদ্যুতে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগে আ: হাইকে ৬ মাসের বিরত: দোসরখ্যাত কামারখালি অফিসের কাছে গ্রাহকরা জিম্মি

আপডেট: মে ২৯, ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার ঃঃ: বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১, ঘুষ গ্রহণ ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে বরিশাল সদর উপজেলার ১০ নং চন্দ্রমহল ইউনিয়নের এক ভিলেজ ইলেক্ট্রিশিয়ান আব্দুল হাইকে ৬ মাসের জন্য হাউজ ওয়্যারিং কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অভিযুক্ত মোঃ আব্দুল হাই-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ মতে, বরিশাল সদর উপজেলার নুর আহম্মেদ জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদকের নিকট বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার কথা বলে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। পরবর্তীতে ৭ হাজার টাকা গ্রহণ করলেও দীর্ঘদিন ধরে সংযোগ দেওয়ার নামে কালক্ষেপণ করতে থাকেন।
এ ঘটনায় গত ৯ মার্চ তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়।
তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি ওই নোটিশের কোনো জবাব দেননি।
পরে ১ এপ্রিল স্মারক নং-২৭১২০৬৫১৫৩৯০৫১৯২৬৯১৩ এর মাধ্যমে বরিশাল জেনারেল ম্যানেজার এ বি এম মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় মোঃ আব্দুল হাইকে ৬ মাসের জন্য হাউজ ওয়্যারিংসহ সংশ্লিষ্ট সকল কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ মতে, আব্দুল হাই পল্লী বিদ্যুৎ শুরু থেকেই ১০ নং চন্দ্রমোহন ইউনিয়নের কাজের সাথে সম্পৃক্ত। এলাকার শত শত ভুক্তভোগী গ্রাহকদের কাছ থেকে গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগে মতে,গ্রাহকদের কাছ থেকে সার্ভিসের নামে অনৈতিকভাবে জোরপূর্বক টাকা নেয়া ও প্রয়োজনীয় ইলেকট্রিক সামগ্রী চড়া মূল্যর দাম নির্ধারণ করে তা আদায় করা।
এছাড়া বিগত ১৭ বছর তার আপন ছোট ভাই ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলামের পরিচয় ব্যবহার করে পুরো ইউনিয়ন দাবড়িয়ে বেরিয়েছেন এবং আওয়ামী লীগে ছত্রছায়ায় থেকে অনৈতিক পন্থায় বিত্তশালী হয়েছেন বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। অন্যদিকে চন্দ্রমোহনের গ্রাহক সূত্রে জানা যায়, একজন গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার কথা বলে আ: হাই ৩-৪ মাস কালক্ষেপণ করেন। পরবর্তীতে গ্রাহক পল্লী বিদ্যুত সমিতি -১ কার্যালয়ে অভিযোগ করলে কর্তৃপক্ষ আব্দুল হাই কে ভৎসনা করে।
এক পর্যায়ে উল্লেখিত গ্রাহক অভিযুক্ত আ: হাইকে কর্তৃপক্ষের ভৎসনা ও নাজেহালের হাত থেকে রক্ষা করেন।
অন্যদিকে চন্দ্রমোহন মূলত পল্লী বিদ্যুতের কামারখালী অফিস থেকে দেখাশোনা করা হয়।
সে ক্ষেত্রে কামারখালী অফিসের বিগত ১৭ বছরের অপশাসনের সহায়ক কর্মচারীরা এখনো অভিযুক্ত আ: হাইকে সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন।
কামারখালি অফিসের দেও ফোন নং-০১৭৬৯৪০০৮৬২,০১৮৩৩৬৭৯৩৯৪ এ কোন গ্রাহক সংযুক্ত হতে পারছে না।
নিরিবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলে গ্রাহকরা চরম হয়রানির সম্মুখীন হচ্ছেন।
উল্লিখিত ফোন নম্বরে ঘন্টার পর ঘন্টা যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও পাওয়া যাচ্ছে না।
সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানায়, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এমন অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

64 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন