আপডেট: ডিসেম্বর ২০, ২০২৫
স্টাফ রিপোর্টার ঃঃ আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়েছে তাবলীগ জামায়াতের তিনদিনব্যাপী বরিশাল বিভাগীয় ইজতেমা। দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর হেদায়েত, শান্তি ও কল্যাণ কামনায় আল্লাহর দরবারে দু’হাত তুলে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন লাখো মুসল্লি। ‘আমিন, আমিন’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো ইজতেমা ময়দান।শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১১টায় বিশেষ আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে ইজতেমার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করেন আয়োজকরা।
বরিশাল নগরের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের সোনা মিয়ার পোল সংলগ্ন নাসির কমপ্লেক্স হাউজিং এলাকার প্রায় ১৪ একর বিস্তৃত মাঠে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয় তাবলীগ জামায়াতের এই বিভাগীয় ইজতেমা। এতে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল এবং বিদেশ থেকেও কয়েক লাখ মুসল্লি অংশ নেন।আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে ভোর থেকেই হাজার হাজার মুসল্লি ইজতেমা ময়দানে ছুটে আসেন। মূল ময়দানে জায়গা না পেয়ে অনেকেই আশপাশের খালি জায়গা ও সড়কে অবস্থান নিয়ে মোনাজাতে শরিক হন। লাখো কণ্ঠের দোয়ায় আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনায় মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।জতেমায় অংশগ্রহণকারী মুসল্লি সিরাজুল ইসলাম বলেন, “আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে আমরা দলবদ্ধভাবে এখানে এসেছি। ইজতেমা আমাদের ঈমানী চেতনাকে আরও দৃঢ় করে।” একইসঙ্গে আজম হাওলাদার নামের এক যুবক জানান, “পরিচিত এক বড়ো ভাইয়ের সঙ্গে ইজতেমায় এসেছি। এখানে এসে অনেক গুরুত্বপূর্ণ মাসায়েল শিখতে পেরেছি। ইনশাল্লাহ, ভবিষ্যতে এই মাসায়েল অনুসরণ করে ইসলামের পথে চলার চেষ্টা করবো।আখেরি মোনাজাতের আগে পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে বয়ান এবং হেদায়েতি বয়ান অনুষ্ঠিত হয়। লাখ লাখ মুসল্লির উপস্থিতিতে ইবাদত, বন্দেগি, জিকির ও তাকবির ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয় ইজতেমা ময়দান।উল্লেখ্য, বরিশালে প্রথম জেলা ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয় ২০১৫ সালের ১০ ডিসেম্বর। এবার গত ১৮ ডিসেম্বর ফজরের নামাজের পর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে বরিশাল বিভাগীয় ইজতেমার কার্যক্রম শুরু হয়। ইজতেমার তিন দিনে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দেশ-বিদেশের খ্যাতনামা আলেমদের বিভিন্ন ভাষায় বয়ান অনুষ্ঠিত হয়। এতে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ইমান, আখলাক ও দ্বিনের বিভিন্ন শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং দ্বিনের দাওয়াতে বের হওয়ার নিয়ত করেন।